ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২ আশ্বিন ১৪৩৩ বাংলা

কোটি টাকার ভবন প্রস্তুত, মিলছে না বিদ্যুৎ: গুইমারা উপজেলা ভবনে দাপ্তরিক কাজ থমকে

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:
বিদ্যুৎ বিভাগের অসহযোগিতা, অবহেলা ও অতিরিক্ত বাজেট চাহিদার কারণে খাগড়াছড়ি জেলার নবগঠিত গুইমারা উপজেলা পরিষদের নবনির্মিত চারতলা প্রশাসনিক ভবনটি প্রস্তুত থাকলেও চালু করা যাচ্ছে না। ফলে সাময়িক ভবনে দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেন।

উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে গুইমারা উপজেলা পরিষদের নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ৪ দফা সময় বাড়ানোর পর প্রায় ১৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে ভবনটির নির্মাণকাজ সমাপ্ত করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘এস অনন্ত ট্রেডার্স’। চারতলা বিশিষ্ট এই আধুনিক ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ ও লাইন সরবরাহ বাবদ নির্দিষ্ট বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। তবে ভবন নির্মাণ শতভাগ শেষ হলেও বিদ্যুৎ বিভাগের অসহযোগিতার কারণে সংযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
গুইমারা উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী রুহুল কুদ্দুস নাঈম জানান,
“আমাদের বাস্তবায়িত ভবনের কাজ শতভাগ সম্পন্ন। পাশেই পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসে বিদ্যুৎ সংযোগ থাকলেও এই প্রশাসনিক ভবনে সংযোগ দিতে বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে অস্বাভাবিক বাজেট চাওয়া হচ্ছে, যা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া অসম্ভব। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ৫টি খুঁটি, তার ও থ্রি-ফেজ ট্রানসফর্মারের খরচ বাবদ চার লাখ টাকা দিতে চাইলেও বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে কোনো সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না।”
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ সরবরাহ সংক্রান্ত কাজের দায়িত্বে থাকা মোঃ মোস্তফা বলেন, “আমরা মাটিরাঙ্গা আবাসিক প্রকৌশলী ও খাগড়াছড়ি জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে একাধিকবার আবেদন করেও বিদ্যুৎ সংযোগ পাচ্ছি না।”
বিদ্যুৎ বিভাগের বক্তব্য: বিদ্যুৎ সংযোগ না দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে মাটিরাঙ্গা বিদ্যুৎ বিভাগের আবাসিক প্রকৌশলী জিয়া উদ্দীন বলেন,
“এই ভবনে নতুন সংযোগ দিতে হলে নিয়ম অনুযায়ী ৪৫ লাখ টাকা জমা দিতে হবে। টাকা জমা দিলেই সংযোগ দেওয়া সম্ভব। বিষয়টি জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী বিস্তারিত বলতে পারবেন।”
এদিকে সদ্য যোগদানকৃত খাগড়াছড়ি জেলা বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কুন্তল সরকার জানান,
“আমি মাত্র এক সপ্তাহ আগে যোগদান করেছি। এই বিষয়ে গুইমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সাথে আমার কথা হয়েছে। আমি নিজে সরেজমিনে গিয়ে বিস্তারিত দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।”
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে গুইমারা উপজেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর দীর্ঘ ১২ বছর ধরে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের পুরনো ভবনে অস্থায়ীভাবে উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। জায়গা ও পর্যাপ্ত ভবনের অভাবে এখনো অনেক দপ্তরের পূর্ণাঙ্গ কাজ চালু হয়নি; আবার যেসব দপ্তরের কাজ চলছে, সেগুলোর অধিকাংশ ভাড়া বাসায় পরিচালিত হচ্ছে। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে দৃষ্টিনন্দন ভবন নির্মিত হলেও বিদ্যুৎ সংযোগের চাবিকাঠি আটকে থাকায় এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন গুইমারাবাসী।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

জবিতে ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৩

কোটি টাকার ভবন প্রস্তুত, মিলছে না বিদ্যুৎ: গুইমারা উপজেলা ভবনে দাপ্তরিক কাজ থমকে

০৪:৫১:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:
বিদ্যুৎ বিভাগের অসহযোগিতা, অবহেলা ও অতিরিক্ত বাজেট চাহিদার কারণে খাগড়াছড়ি জেলার নবগঠিত গুইমারা উপজেলা পরিষদের নবনির্মিত চারতলা প্রশাসনিক ভবনটি প্রস্তুত থাকলেও চালু করা যাচ্ছে না। ফলে সাময়িক ভবনে দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেন।

উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে গুইমারা উপজেলা পরিষদের নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ৪ দফা সময় বাড়ানোর পর প্রায় ১৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে ভবনটির নির্মাণকাজ সমাপ্ত করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘এস অনন্ত ট্রেডার্স’। চারতলা বিশিষ্ট এই আধুনিক ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ ও লাইন সরবরাহ বাবদ নির্দিষ্ট বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। তবে ভবন নির্মাণ শতভাগ শেষ হলেও বিদ্যুৎ বিভাগের অসহযোগিতার কারণে সংযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
গুইমারা উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী রুহুল কুদ্দুস নাঈম জানান,
“আমাদের বাস্তবায়িত ভবনের কাজ শতভাগ সম্পন্ন। পাশেই পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসে বিদ্যুৎ সংযোগ থাকলেও এই প্রশাসনিক ভবনে সংযোগ দিতে বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে অস্বাভাবিক বাজেট চাওয়া হচ্ছে, যা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া অসম্ভব। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ৫টি খুঁটি, তার ও থ্রি-ফেজ ট্রানসফর্মারের খরচ বাবদ চার লাখ টাকা দিতে চাইলেও বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে কোনো সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না।”
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ সরবরাহ সংক্রান্ত কাজের দায়িত্বে থাকা মোঃ মোস্তফা বলেন, “আমরা মাটিরাঙ্গা আবাসিক প্রকৌশলী ও খাগড়াছড়ি জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে একাধিকবার আবেদন করেও বিদ্যুৎ সংযোগ পাচ্ছি না।”
বিদ্যুৎ বিভাগের বক্তব্য: বিদ্যুৎ সংযোগ না দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে মাটিরাঙ্গা বিদ্যুৎ বিভাগের আবাসিক প্রকৌশলী জিয়া উদ্দীন বলেন,
“এই ভবনে নতুন সংযোগ দিতে হলে নিয়ম অনুযায়ী ৪৫ লাখ টাকা জমা দিতে হবে। টাকা জমা দিলেই সংযোগ দেওয়া সম্ভব। বিষয়টি জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী বিস্তারিত বলতে পারবেন।”
এদিকে সদ্য যোগদানকৃত খাগড়াছড়ি জেলা বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কুন্তল সরকার জানান,
“আমি মাত্র এক সপ্তাহ আগে যোগদান করেছি। এই বিষয়ে গুইমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সাথে আমার কথা হয়েছে। আমি নিজে সরেজমিনে গিয়ে বিস্তারিত দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।”
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে গুইমারা উপজেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর দীর্ঘ ১২ বছর ধরে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের পুরনো ভবনে অস্থায়ীভাবে উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। জায়গা ও পর্যাপ্ত ভবনের অভাবে এখনো অনেক দপ্তরের পূর্ণাঙ্গ কাজ চালু হয়নি; আবার যেসব দপ্তরের কাজ চলছে, সেগুলোর অধিকাংশ ভাড়া বাসায় পরিচালিত হচ্ছে। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে দৃষ্টিনন্দন ভবন নির্মিত হলেও বিদ্যুৎ সংযোগের চাবিকাঠি আটকে থাকায় এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন গুইমারাবাসী।