ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২ আশ্বিন ১৪৩৩ বাংলা

বাগেরহাটে শিক্ষানবিশ আইনজীবীর সংবাদ সম্মেলন- দুষ্কৃতকারীদের বিচার ও জানমালের নিরাপত্তা দাবী

কামরুজ্জামান শিমুল বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি

​গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের দুর্নীতিগ্রস্ত সদস্য ও একদল দুষ্কৃতকারী চক্রের যোগসাজশে পারিবারিক কলহ সৃষ্টি, নির্যাতন এবং জানমালের নিরাপত্তার দাবীতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন শারমিন সুলতানা নামে এক শিক্ষানবীশ আইনজীবী। ​রবিবার সকালে বাগেরহাট প্রেসক্লাবে উপস্থিত হয়ে লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি এই অভিযোগ করেন। শারমিন সুলতানা বাগেরহাট শহরের সরুই আমলাপাড়া এলাকার মৃত শেখ রস্তম আলীর মেয়ে এবং জেলা রেজিস্ট্রি অফিসের সহকারী রেকর্ড কিপার এম.এম. মাহফুজুর রহমান মুন্নার সহধর্মিনী।

​সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শারমিন সুলতানা জানান, ২০০৫ সালে রেজিস্ট্রি কাবিননামা মূলে এম.এম. মাহফুজুর রহমান মুন্নার সাথে তার বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের সিদরাতুল মুনতাহা (১৫) এবং মুহতাদি রহমান (৯) নামের দুইটি সন্তান রয়েছে। তার স্বামী ২০০১ সালে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নকলনবিশ হিসেবে যোগদানের পর ২০১৯ সালে মোহরার এবং বর্তমানে সহকারী রেকর্ড কিপার হিসেবে জেলা রেজিস্ট্রি অফিসে কর্মরত আছেন।
​তিনি অভিযোগ করেন, চাকরিতে পদোন্নতি হওয়ার পর অবাধে ঘুষের টাকা হাতে আসায় তার স্বামীর নৈতিক চরিত্রের চরম অধঃপতন ঘটে। তিনি পরনারী ও নেশাজাতীয় দ্রব্যাদিতে আসক্ত হয়ে পড়েন। ইতিমধ্যে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সদস্য জাকির হোসেন, রুদ্র নাট্যদল ও কমিউনিস্ট পার্টির সাথে সম্পৃক্ত জাহিদুল ইসলাম যাদু, তপন কুমার দাস এবং শামসুল হাদীর সাথে তার সখ্যতা গড়ে ওঠে। প্রতিবাদ করায় শুরু হয় পারিবারিক ও মানসিক নির্যাতন। মোবাইল ট্রাকিং, ইমেইল ও ফেসবুক আইডি হ্যাক করে সার্বক্ষণ নজরদারিতে রাখা হয়। ঐক্যবদ্ধভাবে মিথ্যা গুজব ছড়াতে থাকে আমার বিরুদ্ধে।

এই দুষ্কৃতকারী দলটি আমার স্বামীকে নিয়ন্ত্রণে রেখে ঘুষের টাকা এনে মাদক সেবন করে এবং ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হয়। তারা অফিসের মধ্যে একটি গোপন রেস্টরুমে অনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনা করে। আর এ অনৈতিক কর্মকাণ্ডে রেজিস্ট্রি অফিসের কিছু নারী সহকর্মীও জড়িতে রয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে বলেন তিনি। আর এসব কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করায় তার ওপর শুরু হয়েছে নির্যাতন দেওয়া হচ্ছে সন্তানদের প্রাণ-নাশের হুমকি। অসহায় গৃহবধূ তার স্বামীকে দুর্নীতি নেশা ও নারী চক্রের গ্রাস থেকে রক্ষা করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা এবং নিজের ও সন্তানদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
​ বিষয়টি জানতে অভিযুক্ত এস এম মাহফুজুর রহমান মুন্নার মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, তার বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ মিথ্যা ভুয়া ও ভিত্তিহীন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

বদলগাছীতে পুকুরে ডুবে ৬ বছরের শিশুর মৃত্যু

বাগেরহাটে শিক্ষানবিশ আইনজীবীর সংবাদ সম্মেলন- দুষ্কৃতকারীদের বিচার ও জানমালের নিরাপত্তা দাবী

০৭:১২:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

কামরুজ্জামান শিমুল বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি

​গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের দুর্নীতিগ্রস্ত সদস্য ও একদল দুষ্কৃতকারী চক্রের যোগসাজশে পারিবারিক কলহ সৃষ্টি, নির্যাতন এবং জানমালের নিরাপত্তার দাবীতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন শারমিন সুলতানা নামে এক শিক্ষানবীশ আইনজীবী। ​রবিবার সকালে বাগেরহাট প্রেসক্লাবে উপস্থিত হয়ে লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি এই অভিযোগ করেন। শারমিন সুলতানা বাগেরহাট শহরের সরুই আমলাপাড়া এলাকার মৃত শেখ রস্তম আলীর মেয়ে এবং জেলা রেজিস্ট্রি অফিসের সহকারী রেকর্ড কিপার এম.এম. মাহফুজুর রহমান মুন্নার সহধর্মিনী।

​সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শারমিন সুলতানা জানান, ২০০৫ সালে রেজিস্ট্রি কাবিননামা মূলে এম.এম. মাহফুজুর রহমান মুন্নার সাথে তার বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের সিদরাতুল মুনতাহা (১৫) এবং মুহতাদি রহমান (৯) নামের দুইটি সন্তান রয়েছে। তার স্বামী ২০০১ সালে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নকলনবিশ হিসেবে যোগদানের পর ২০১৯ সালে মোহরার এবং বর্তমানে সহকারী রেকর্ড কিপার হিসেবে জেলা রেজিস্ট্রি অফিসে কর্মরত আছেন।
​তিনি অভিযোগ করেন, চাকরিতে পদোন্নতি হওয়ার পর অবাধে ঘুষের টাকা হাতে আসায় তার স্বামীর নৈতিক চরিত্রের চরম অধঃপতন ঘটে। তিনি পরনারী ও নেশাজাতীয় দ্রব্যাদিতে আসক্ত হয়ে পড়েন। ইতিমধ্যে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সদস্য জাকির হোসেন, রুদ্র নাট্যদল ও কমিউনিস্ট পার্টির সাথে সম্পৃক্ত জাহিদুল ইসলাম যাদু, তপন কুমার দাস এবং শামসুল হাদীর সাথে তার সখ্যতা গড়ে ওঠে। প্রতিবাদ করায় শুরু হয় পারিবারিক ও মানসিক নির্যাতন। মোবাইল ট্রাকিং, ইমেইল ও ফেসবুক আইডি হ্যাক করে সার্বক্ষণ নজরদারিতে রাখা হয়। ঐক্যবদ্ধভাবে মিথ্যা গুজব ছড়াতে থাকে আমার বিরুদ্ধে।

এই দুষ্কৃতকারী দলটি আমার স্বামীকে নিয়ন্ত্রণে রেখে ঘুষের টাকা এনে মাদক সেবন করে এবং ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হয়। তারা অফিসের মধ্যে একটি গোপন রেস্টরুমে অনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনা করে। আর এ অনৈতিক কর্মকাণ্ডে রেজিস্ট্রি অফিসের কিছু নারী সহকর্মীও জড়িতে রয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে বলেন তিনি। আর এসব কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করায় তার ওপর শুরু হয়েছে নির্যাতন দেওয়া হচ্ছে সন্তানদের প্রাণ-নাশের হুমকি। অসহায় গৃহবধূ তার স্বামীকে দুর্নীতি নেশা ও নারী চক্রের গ্রাস থেকে রক্ষা করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা এবং নিজের ও সন্তানদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
​ বিষয়টি জানতে অভিযুক্ত এস এম মাহফুজুর রহমান মুন্নার মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, তার বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ মিথ্যা ভুয়া ও ভিত্তিহীন।