ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২ আশ্বিন ১৪৩৩ বাংলা

কয়রার চৌকুনী কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওমর ফারুক (আলিফের)ট্যালেন্টপুল বৃত্তি লাভ”

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি

মেধা আর পরিশ্রমের জয়গান গাইলো কয়রা উপজেলার চৌকুনী কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র ওমর ফারুক (আলিফ)। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬-এ সে ট্যালেন্টপুল ক্যাটাগরিতে বৃত্তি লাভ করে গোটা উপজেলার জন্য গর্বের উপলক্ষ এনে দিয়েছে।
ট্যালেন্টপুল বৃত্তি প্রাথমিক স্তরের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি। উপজেলার হাজারো শিক্ষার্থীর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত মেধাবীরাই এই তালিকায় জায়গা পায়। ফলাফল প্রকাশের পর চৌকুনী কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আঙিনায় নেমে আসে উৎসবের আমেজ।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাজশ্রী বালা বলেন, ওমর ফারুক (আলিফ) ক্লাস ওয়ান থেকেই ব্যতিক্রমী। পড়ায় মনোযোগ, শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা আর নিয়মিত চর্চা – ওকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। ওর এই ট্যালেন্টপুল বৃত্তি শুধু ওর একার না,চৌকুনী কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আর কয়রা উপজেলার সম্মান।
প্রধান শিক্ষক রাজশ্রী বালা আরও জানান, ওমর ফারুক (আলিফ )
ক্লাসের সবচেয়ে বিনয়ী শিক্ষার্থী। ওর খাতা দেখলেই বোঝা যায় কতটা যত্ন নিয়ে লিখেছে। এই ছেলে অনেক দূর যাবে।
ওমর ফারুকের বাবা গাউসুল হক একজন শিক্ষক। তিনি আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলে ছোটবেলা থেকেই বইয়ের পোকা। রাত জেগে পড়তো। ওর একটাই স্বপ্ন – মানুষের সেবা করবে, ডাক্তার হবে। আজকের এই ট্যালেন্টপুল বৃত্তি ওর সেই স্বপ্নপূরণের প্রথম ধাপ। কয়রাবাসীর কাছে আমার ছেলের জন্য দোয়া চাই।
ওমর ফারুকের মা একজন (কলেজ শিক্ষক)
তিনি বলেন, “ও কখনো বায়না ধরতো না। নিজেই পড়তে বসতো। মা হিসেবে এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কি আছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জানান, কয়রা উপজেলা থেকে প্রত্যন্ত উপকূলীয় অঞ্চলের একটি বিদ্যালয় থেকে এমন মেধাবী উঠে আসা নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক। ওমর ফারুকের এই সাফল্য প্রমাণ করলো, সুযোগ আর দিকনির্দেশনা পেলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের ছেলেমেয়েরাও জাতীয় পর্যায়ে আলো ছড়াতে পারে।
বৃত্তি পাওয়ার অনুভূতি জানতে চাইলে ওমর ফারুক (আলিফ) বলেন,”আমি অনেক খুশি। শিক্ষক, বাবা-মা আর আল্লাহ তায়ালার কাছে কৃতজ্ঞ। আমি বড় হয়ে গরিব মানুষের চিকিৎসা করতে চাই। আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন।”
কয়রাবাসী বিশ্বাস করে, ওমর ফারুক (আলিফ) এর এই সাফল্য উপজেলার প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য নতুন প্রেরণা হয়ে থাকবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

জবিতে ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৩

কয়রার চৌকুনী কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওমর ফারুক (আলিফের)ট্যালেন্টপুল বৃত্তি লাভ”

০৯:৫৫:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি

মেধা আর পরিশ্রমের জয়গান গাইলো কয়রা উপজেলার চৌকুনী কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র ওমর ফারুক (আলিফ)। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬-এ সে ট্যালেন্টপুল ক্যাটাগরিতে বৃত্তি লাভ করে গোটা উপজেলার জন্য গর্বের উপলক্ষ এনে দিয়েছে।
ট্যালেন্টপুল বৃত্তি প্রাথমিক স্তরের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি। উপজেলার হাজারো শিক্ষার্থীর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত মেধাবীরাই এই তালিকায় জায়গা পায়। ফলাফল প্রকাশের পর চৌকুনী কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আঙিনায় নেমে আসে উৎসবের আমেজ।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাজশ্রী বালা বলেন, ওমর ফারুক (আলিফ) ক্লাস ওয়ান থেকেই ব্যতিক্রমী। পড়ায় মনোযোগ, শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা আর নিয়মিত চর্চা – ওকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। ওর এই ট্যালেন্টপুল বৃত্তি শুধু ওর একার না,চৌকুনী কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আর কয়রা উপজেলার সম্মান।
প্রধান শিক্ষক রাজশ্রী বালা আরও জানান, ওমর ফারুক (আলিফ )
ক্লাসের সবচেয়ে বিনয়ী শিক্ষার্থী। ওর খাতা দেখলেই বোঝা যায় কতটা যত্ন নিয়ে লিখেছে। এই ছেলে অনেক দূর যাবে।
ওমর ফারুকের বাবা গাউসুল হক একজন শিক্ষক। তিনি আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলে ছোটবেলা থেকেই বইয়ের পোকা। রাত জেগে পড়তো। ওর একটাই স্বপ্ন – মানুষের সেবা করবে, ডাক্তার হবে। আজকের এই ট্যালেন্টপুল বৃত্তি ওর সেই স্বপ্নপূরণের প্রথম ধাপ। কয়রাবাসীর কাছে আমার ছেলের জন্য দোয়া চাই।
ওমর ফারুকের মা একজন (কলেজ শিক্ষক)
তিনি বলেন, “ও কখনো বায়না ধরতো না। নিজেই পড়তে বসতো। মা হিসেবে এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কি আছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জানান, কয়রা উপজেলা থেকে প্রত্যন্ত উপকূলীয় অঞ্চলের একটি বিদ্যালয় থেকে এমন মেধাবী উঠে আসা নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক। ওমর ফারুকের এই সাফল্য প্রমাণ করলো, সুযোগ আর দিকনির্দেশনা পেলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের ছেলেমেয়েরাও জাতীয় পর্যায়ে আলো ছড়াতে পারে।
বৃত্তি পাওয়ার অনুভূতি জানতে চাইলে ওমর ফারুক (আলিফ) বলেন,”আমি অনেক খুশি। শিক্ষক, বাবা-মা আর আল্লাহ তায়ালার কাছে কৃতজ্ঞ। আমি বড় হয়ে গরিব মানুষের চিকিৎসা করতে চাই। আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন।”
কয়রাবাসী বিশ্বাস করে, ওমর ফারুক (আলিফ) এর এই সাফল্য উপজেলার প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য নতুন প্রেরণা হয়ে থাকবে।