
নুরুজ্জামান লিটন, নওগাঁ প্রতিনিধি:
নওগাঁ শহরে রাসায়নিক স্প্রে ও স্বর্ণের বার দেখিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় পুলিশ সুপারের নির্দেশে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে প্রতারক চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ। এ সময় চোরাই স্বর্ণ কেনার অভিযোগে এক স্বর্ণ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজারকেও আটক করা হয়। উদ্ধার করা হয়েছে গলানো অবস্থায় চার আনা স্বর্ণ।
পুলিশ জানায়, গত ২৩ জুন নওগাঁ সদর এলাকায় একই দিনে প্রতারণার দুটি ঘটনা ঘটে। প্রথম ঘটনায় শহরের চুরিপট্টি এলাকায় ৭০ বছর বয়সী এক নারীকে রাসায়নিক স্প্রে প্রয়োগ করে অচেতন করে তার স্বর্ণের চেইন, কানের দুল ও নগদ টাকা নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৫ জুন তার মৃত্যু হয়।
অপর ঘটনায় ঢাকা বাসস্ট্যান্ড থেকে লিটন ব্রিজের মাঝামাঝি এলাকায় এক বৃদ্ধ দম্পতিকে স্বর্ণের বারের লোভ দেখিয়ে সম্মোহিত করে তাদের ছয় আনা ওজনের একজোড়া স্বর্ণের কানের দুল নিয়ে যায় প্রতারকরা।
এ দুটি ঘটনায় নওগাঁ সদর থানায় পৃথক মামলা হওয়ার পর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম-এর নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম), সদর মডেল থানা ও জেলা গোয়েন্দা শাখার সমন্বয়ে বিশেষ টিম গঠন করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় ২৭ জুন গভীর রাতে শহরের নয়টি হোটেলে একযোগে অভিযান চালিয়ে গাইবান্ধার আব্দুল হাই, এরশাদ আলী, বাবলু এবং দিনাজপুরের নবাবগঞ্জের কালামসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দ্বিতীয় ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।
তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নওগাঁ স্বর্ণপট্টির একটি জুয়েলার্স প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার মো. জাহাঙ্গীরকে আটক করা হয়। তিনি চোরাই স্বর্ণ কেনার কথা স্বীকার করলে তার কাছ থেকে গলানো অবস্থায় চার আনা স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, চক্রটির আরও কয়েকজন সদস্য পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তার এবং অবশিষ্ট স্বর্ণালংকার উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রতিনিধির নাম 


















