
শাহাজামান বাদশা,পাইকগাছা (খুলনা)।
খুলনার পাইকগাছা উপজেলার লতা ইউনিয়নে আম্ফান পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় চলছে সড়ক উন্নয়নের কাজ। কিন্তু ২ কোটি ৪৯ লাখ টাকার এই প্রকল্প এখন স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে আশীর্বাদের বদলে অভিশাপে পরিণত হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ধীরগতি আর অপরিকল্পিত কাজের ফলে দীর্ঘ কাদা-জল মাড়িয়ে চরম কষ্টে দিন পার করছেন কয়েক হাজার মানুষ।
উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, লতা ইউনিয়নের শংকরদানা খেয়াঘাট থেকে কাঁঠামারি বাজার পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৯শ’ ৪০ মিটার সড়ক কার্পেটিংয়ের কাজ পায় চুয়াডাঙ্গার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জাকাউল্লাহ এন্ড ব্রাদার্স লিমিটেড। তবে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও কাজের অগ্রগতি নামমাত্র।
রাস্তার দুই পাশে রিং বাঁধ দেওয়ায় বৃষ্টি ও জোয়ারের পানি বের হতে পারছে না। সড়কের সামান্য অংশে বালু ফেলে বাকিটা ফেলে রাখা হয়েছে।তেঁতুলতলাসহ বিস্তীর্ণ এলাকার সড়ক এখন হাঁটুজল আর কাদার নিচে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সামান্য বৃষ্টি বা জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে পুরো পথ। স্কুলগামী শিশুরা নিয়মিত কাদায় পড়ে বই-খাতা নষ্ট করছে। অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। স্থানীয় এক ভুক্তভোগী ক্ষোভের সাথে জানান, “উন্নয়নের কথা শুনে আশা জেগেছিল, কিন্তু এখন ঘর থেকে বের হওয়াই দায়। আমাদের কষ্টের কি কোনো শেষ নেই?”
কাজের দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের রোলার ড্রাইভার টিটন বিশ্বাস জানান, যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ হওয়ায় ভারী যন্ত্রপাতি (রোলার) প্রকল্প এলাকায় ঢোকাতে সমস্যা হচ্ছে, যার ফলে কাজে দেরি হচ্ছে।
এদিকে স্থানীয় ইউপি সদস্য বিজন কুমার হালদার যান্ত্রিক সমস্যার কথা স্বীকার করলেও জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
জনগণের এই চরম ভোগান্তি নিয়ে উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর হোসেন জানান আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছি। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে এবং প্রকল্পের কাজ দ্রুততম সময়ে শেষ করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জনগণের দাবি বর্ষা মৌসুম পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই যদি এই সমস্যার সমাধান না হয়, তবে পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তদারকি বাড়িয়ে দ্রুত সড়কের কার্পেটিং শেষ করার দাবি জানিয়েছেন শংকরদানা ও তেঁতুলতলা গ্রামবাসী।
প্রতিনিধির নাম 


















