ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২ আশ্বিন ১৪৩৩ বাংলা

৩ দিনের রিমান্ড শেষ – পাইকগাছায় শ্রীলেখা হত্যা মামলার গতি কোন দিকে?

পাইকগাছা প্রতিনিধি।।

খুলনার পাইকগাছায়  শ্রীলেখা (৫৫)  হত্যা মামলায় ৩ দিনের রিমান্ড শেষে সন্ধিগ্ধ দু’ আসামী সম্ভু সানা (৬৫) ও সঞ্জয় মন্ডল( ৪৫)কে পুলিশ  মঙ্গলবার বিকেলে আদালতে পাঠিয়েছে। জানাগেছে, থানা হেফাজতে ৩ দিনের জিজ্ঞাসাবাদে এ হত্যা মামলায় উল্লেখযোগ্য কোন তথ্য বা ক্লু উদঘাটন হয়নি একটি সুত্র জানিয়েছে।

থানা পুলিশ ১০ এপ্রিল সম্ভু সানা ও সঞ্জয় সানা’কে ওই সামলায় সন্ধিগ্ধ হিসেবে গ্রেফতার করে আদালতে রিমান্ড আবেদন করেন।

এদিকে সম্ভু’ সানার মেয়ে ও দরিদ্র সঞ্জয় মন্ডলের স্ত্রী বলেন,  নির্মম এ হত্যাকান্ড’কে কেন্দ্র করে পুর্বশত্রুতার জেরে এলাকার কিছু মানুষ আমাদের ঘাড়ে দায় চাপাতে চাইছে। এর পুর্বে পুলিশ নিহত শ্রীলেখার দেবর প্রসেন সানা-বিজলী দম্পতি ও তাদের ছেলে হিরক-বৌমা রাখি দম্পতি’কে একাধিকবার থানা হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। সুত্র বলছেন, অনেকেরই সন্দেহে’র তীর ওই পরিবারের দেখভাল করতেন যারা তাদের দিকে কিন্তু মামলার বাদি গোবিন্দ সানা তা মানতে নারাজ।

অন্যদিকে স্থানীয়রা বলছেন, বন্দোবস্তকৃত খাস জমির উপর দিয়ে জল সরবরাহের ক্যানেল ও গাছ কাঁটা নিয়ে শ্রীলেখার পরিবারের সাথে ঘের মালিক সম্ভু সানার বিরোধ ছিল।  যা নির্বাহী কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়।

সুত্রটি আরোও জানান, শ্রীলেখা’র  স্বামী ফনি ( আমিন) সানার মুত্যু ও একমাত্র ছেলে গৌবিন্দ ঢাকায় চাকুরি করায় দেবর প্রসেন সানা এ পরিবারটির সুবিধা-অসুভিধা দেখভাল করতেন। তবে, ক্লু উদ্ধারে পুলিশ নানা বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রেখেছেন।

ইতোমধ্যে  ক্লু উদ্ধারের জন্য থানা পুলিশ থেকে শুরু করে পিবিআই,সিআইডি’র  উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বাব-বার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

জানাগেছে , চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি রাতে পশ্চিম দীঘায় মৃতঃ ফনিন্দ্র সানার স্ত্রী শ্রীলেখা’কে দুর্বত্তরা রান্না ঘরে ফেলে কুপিয়ে হত্যা করে।  ঘটনার রাতে নিহত ঐ  নারী বাড়িতে একাই ছিলেন। পরের দিন সকালে প্রসেনের স্ত্রী’র খবরে জানাজানি হয়। পরে পুলিশ  লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়।

এ ঘটনায় গত ২৩ জানুয়ারী  নিহতের ছেলে গোবিন্দ সানা বাদী হয়ে থানায় অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করে।

নিহতের স্বজনরা দাবি করেছেন ,দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও এ পর্যন্ত  হত্যাকান্ড সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য কোন ক্লু উদ্ধার হয়নি। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আঃ আজিজ জানান, এরই মধ্যে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে, যা মামলার সাথে সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা তা যাচাই বাছাই করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে ওসি মোঃ গোলাম কিবরিয়া বলেন, আমরা চাইনা এ হত্যা মামলায় কোন নির্দোষ ব্যক্তি জড়িয়ে হয়রানী হোক। তিনি আরোও বলেন, তদন্ত চলছে, পুলিশ খুবই আশাবাদি অচিরেই এ মামলার ক্লু উদ্ধার হবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

জবির ইকোনমিকস ক্যারিয়ার ক্লাবের নেতৃত্বে মাইশা-নাদিয়া

৩ দিনের রিমান্ড শেষ – পাইকগাছায় শ্রীলেখা হত্যা মামলার গতি কোন দিকে?

০৬:৪৪:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

পাইকগাছা প্রতিনিধি।।

খুলনার পাইকগাছায়  শ্রীলেখা (৫৫)  হত্যা মামলায় ৩ দিনের রিমান্ড শেষে সন্ধিগ্ধ দু’ আসামী সম্ভু সানা (৬৫) ও সঞ্জয় মন্ডল( ৪৫)কে পুলিশ  মঙ্গলবার বিকেলে আদালতে পাঠিয়েছে। জানাগেছে, থানা হেফাজতে ৩ দিনের জিজ্ঞাসাবাদে এ হত্যা মামলায় উল্লেখযোগ্য কোন তথ্য বা ক্লু উদঘাটন হয়নি একটি সুত্র জানিয়েছে।

থানা পুলিশ ১০ এপ্রিল সম্ভু সানা ও সঞ্জয় সানা’কে ওই সামলায় সন্ধিগ্ধ হিসেবে গ্রেফতার করে আদালতে রিমান্ড আবেদন করেন।

এদিকে সম্ভু’ সানার মেয়ে ও দরিদ্র সঞ্জয় মন্ডলের স্ত্রী বলেন,  নির্মম এ হত্যাকান্ড’কে কেন্দ্র করে পুর্বশত্রুতার জেরে এলাকার কিছু মানুষ আমাদের ঘাড়ে দায় চাপাতে চাইছে। এর পুর্বে পুলিশ নিহত শ্রীলেখার দেবর প্রসেন সানা-বিজলী দম্পতি ও তাদের ছেলে হিরক-বৌমা রাখি দম্পতি’কে একাধিকবার থানা হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। সুত্র বলছেন, অনেকেরই সন্দেহে’র তীর ওই পরিবারের দেখভাল করতেন যারা তাদের দিকে কিন্তু মামলার বাদি গোবিন্দ সানা তা মানতে নারাজ।

অন্যদিকে স্থানীয়রা বলছেন, বন্দোবস্তকৃত খাস জমির উপর দিয়ে জল সরবরাহের ক্যানেল ও গাছ কাঁটা নিয়ে শ্রীলেখার পরিবারের সাথে ঘের মালিক সম্ভু সানার বিরোধ ছিল।  যা নির্বাহী কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়।

সুত্রটি আরোও জানান, শ্রীলেখা’র  স্বামী ফনি ( আমিন) সানার মুত্যু ও একমাত্র ছেলে গৌবিন্দ ঢাকায় চাকুরি করায় দেবর প্রসেন সানা এ পরিবারটির সুবিধা-অসুভিধা দেখভাল করতেন। তবে, ক্লু উদ্ধারে পুলিশ নানা বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রেখেছেন।

ইতোমধ্যে  ক্লু উদ্ধারের জন্য থানা পুলিশ থেকে শুরু করে পিবিআই,সিআইডি’র  উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বাব-বার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

জানাগেছে , চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি রাতে পশ্চিম দীঘায় মৃতঃ ফনিন্দ্র সানার স্ত্রী শ্রীলেখা’কে দুর্বত্তরা রান্না ঘরে ফেলে কুপিয়ে হত্যা করে।  ঘটনার রাতে নিহত ঐ  নারী বাড়িতে একাই ছিলেন। পরের দিন সকালে প্রসেনের স্ত্রী’র খবরে জানাজানি হয়। পরে পুলিশ  লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়।

এ ঘটনায় গত ২৩ জানুয়ারী  নিহতের ছেলে গোবিন্দ সানা বাদী হয়ে থানায় অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করে।

নিহতের স্বজনরা দাবি করেছেন ,দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও এ পর্যন্ত  হত্যাকান্ড সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য কোন ক্লু উদ্ধার হয়নি। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আঃ আজিজ জানান, এরই মধ্যে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে, যা মামলার সাথে সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা তা যাচাই বাছাই করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে ওসি মোঃ গোলাম কিবরিয়া বলেন, আমরা চাইনা এ হত্যা মামলায় কোন নির্দোষ ব্যক্তি জড়িয়ে হয়রানী হোক। তিনি আরোও বলেন, তদন্ত চলছে, পুলিশ খুবই আশাবাদি অচিরেই এ মামলার ক্লু উদ্ধার হবে।