
মোঃ ওসমান গনি (ইলি) কক্সবাজার:
চট্টগ্রামের সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের এক ছাত্রী ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আদালতের নির্দেশের চার দিন অতিবাহিত হলেও এখনো পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। নিখোঁজ হওয়ার আগে ওই ছাত্রী হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়ে তাকে দ্রুত উদ্ধারের আকুতি জানান এবং আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে তাকে ভারতে পাচার করা হতে পারে। নিখোঁজ ওই ছাত্রীর বর্তমান নাম আয়েশা সিদ্দিকা জারা (২২)। ধর্মান্তরের আগে তার নাম ছিল তমী দে বিশ্বাস। তিনি মহসিন কলেজের দর্শন বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, জারা প্রায় এক বছর আগে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে গত ১ মার্চ ২০২৬ সালে চট্টগ্রামের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হলফনামার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর তার পরিবার ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং নানা কৌশলে তাকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করে। গত ২৮ মার্চ ঈদগাঁওয়ের জালিয়াপাড়া এলাকায় বান্ধবীর বাসা থেকে চট্টগ্রামে ফেরার পথে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় একই কলেজের দর্শন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. শহীদুল ইসলাম বাদী হয়ে জারার বাবা সঞ্জিত কুমার দে ও মা তপশ্রী দে-কে আসামি করে ঈদগাঁও থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পরে কার্যকর ব্যবস্থা না পাওয়ায় তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১০০ ধারায় মামলা দায়ের করেন।
আদালত গত ৬ এপ্রিল ঈদগাঁও থানাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে জারাকে উদ্ধার করে ১৬ এপ্রিলের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। তবে নির্ধারিত সময়ের চার দিন অতিবাহিত হলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই বলে অভিযোগ করা হয়েছে। মামলার বাদী মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, “ধর্মান্তরের পরপরই জারা হোয়াটসঅ্যাপে আমাকে বার্তা পাঠিয়ে দ্রুত উদ্ধারের অনুরোধ জানায়। সে জানায়, তাকে জোর করে আটকে রাখা হয়েছে এবং যেকোনো সময় ভারতে পাচার করা হতে পারে। এরপর থেকেই তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।তিনি আরও বলেন, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। সময় যত যাচ্ছে, তার নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা ততই বাড়ছে। এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঈদগাঁও থানার এসআই আতিউর রহমান বলেন, “ভুক্তভোগীকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।”
বাদীপক্ষের দাবি, পরিবারের সদস্যদের থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘটনার রহস্য দ্রুত উদঘাটন সম্ভব। এদিকে আদালতের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই জারাকে জীবিত ও নিরাপদে উদ্ধার করা যাবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন সহপাঠী, শিক্ষক ও এলাকাবাসী।
প্রতিনিধির নাম 


















