
পাইকগাছা খুলনা প্রতিনিধি।।
খুলনার পাইকগাছা উপজেলায় অবস্থিত একটি সরকারি স্থাপনা স্থানীয়দের কাছে এক পরম বিস্ময়ের নাম। বিশালাকার ভবন, চারদিকে উঁচু দেয়াল আর মজবুত লোহার গেট দেখে যে কেউ এটিকে একটি সাধারণ জেলখানা মনে করবেন। কিন্তু অবাক করার বিষয় হলো, নির্মাণের দীর্ঘ কয়েক দশক পেরিয়ে গেলেও এই জেলখানায় আজ পর্যন্ত একজন আসামিও পা রাখেনি।
আশির দশকে পাইকগাছাকে যখন উপজেলায় রূপান্তর করা হয়, তখন প্রশাসনিক প্রয়োজনে এই ‘সাব-জেল’ বা উপ-কারাগারটি নির্মাণ করা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয় অপরাধীদের দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়ার আওতায় এখানে রাখা। কিন্তু ভবনটি সম্পূর্ণ হওয়ার পর কোনো এক অজ্ঞাত প্রশাসনিক বা আইনি জটিলতায় এর কার্যক্রম আর শুরু করা সম্ভব হয়নি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অযত্ন আর অবহেলায় ভবনটি এখন জরাজীর্ণ। চারপাশ লতাপাতা আর ঝোপঝাড়ে ঢেকে গেছে। গেটের সামনে এখন কয়েদি বা পুলিশের পরিবর্তে স্থানীয়দের গবাদিপশু কিংবা ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল পার্ক করে রাখতে দেখা যায়। ভবনটির মূল ফটকের লোহার শিকলগুলো এখন মরিচা ধরা অবস্থায় কেবল ইতিহাসের সাক্ষ্য দিচ্ছে।
এলাকার প্রবীণ ব্যক্তিদের মতে, ভবনটি যখন তৈরি হয়েছিল, তখন সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের কৌতূহল ও আতঙ্ক ছিল। কিন্তু গত ৪০ বছরেও কোনো কয়েদি না আসায় এটি এখন কেবলই একটি দর্শনীয় স্থান বা পরিত্যক্ত স্থাপনায় পরিণত হয়েছে। অনেকেই একে রসিকতা করে বলেন, “পাপমুক্ত এলাকার প্রতীক এই জেলখানা।”
ভবনটি এভাবে পরিত্যক্ত পড়ে থাকায় সরকারি সম্পদের অপচয় হচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। এটি সংস্কার করে অন্য কোনো সরকারি কাজে ব্যবহার করা যায় কি না—এমন দাবি স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের। তবে এখন পর্যন্ত এই কারাগার চালু হওয়া বা এর বিকল্প ব্যবহারের কোনো সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ লক্ষ্য করা যায়নি।
উপজেলার কেন্দ্রস্থলের এই নিস্তব্ধ ভবনটি আজও দাঁড়িয়ে আছে এক অদ্ভূত রহস্য নিয়ে। যেখানে জেলখানা মানেই কয়েদিদের ভিড় আর শোরগোল থাকার কথা, সেখানে পাইকগাছার এই স্থাপনাটি চিরকালই থেকে গেল একদম ‘আসামিশূন্য’।
প্রতিনিধির নাম 


















