
পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি :
বরগুনার পাথরঘাটায় সরকারি জমি দখলে দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মচারী মামুনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয়রা বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েও কোনো সমাধান না পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক কর্মকর্তা মামুনের কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন পাথরঘাটার মানুষ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের পদ্মা, টেংরা বাজার সংলগ্ন নাচনাপাড়া, কাকচিড়া, বাইনচটকি, কালমেঘা, জ্ঞানপাড়া, কাঞ্চুরহাট এবং চরদোয়ানী ইউনিয়নের মাছের খাল বাজার, বান্ধাঘাটাসহ একাধিক স্থানে হাট-বাজার গড়ে উঠেছে। বেড়িবাঁধের ওপর অনেকেই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করেছেন।
এছাড়া বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধের ঢালে ভূমিহীন পরিবারগুলো ঘর তুলে বসবাস করছেন।
অভিযোগ রয়েছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের পাথরঘাটা অফিসের মামুনকে ম্যানেজ করে এসব স্থানে বহুতল ভবনসহ ছোট-বড় অসংখ্য স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিটি স্থাপনা নির্মাণের জন্য মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেন হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভুক্তভোগীরা জানান, পাথরঘাটা পৌর শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে প্লট বরাদ্দ দিয়ে সেখানে স্থাপনা নির্মাণের কাজ চলছে। সংশ্লিষ্টদের কাছে জানতে চাইলে তারা জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মামুনকে টাকা দিয়েই কাজ করছেন।
অপরদিকে পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের নিজলাঠিমা টেংরা বাজার এলাকায় বেড়িবাঁধের ওপর বন বিভাগের বনায়নের হাজারো চারা গাছ কেটে ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব ঘর নির্মাণে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অনুমতি রয়েছে বলে জানানো হয়। বন বিভাগ বাধা দিলেও মামুনের নাম ব্যবহার করে রাতের আঁধারে ঘর নির্মাণ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রতি ঘর নির্মাণে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মামুনকে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা থেকে শুরু করে এক লাখ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, তার কাছে মামুন দুই লাখ টাকা দাবি করেন। তিনি ৫০ হাজার টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় ঘর নির্মাণ করতে পারেননি। পরে এমাদুল গাজী দুই লাখ টাকা দেওয়ার পর তাকে জায়গা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
পাথরঘাটা বন বিভাগের সদর বিট কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাই বলেন, “মামুন বিভিন্ন সময়ে টাকার বিনিময়ে সরকারি জমি দখলে দিয়েছেন। এমনকি বন বিভাগের গাছ কেটে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে। সংরক্ষিত বনায়নের চারা গাছ নষ্ট করে দোকান নির্মাণের জন্য প্লট দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে।
পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান গোলাম সগীর জানান, তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘর নির্মাণের অনুমতি দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেকেই আমার কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করেছেন। শুনে মনে হয় পাথরঘাটার মালিক যেন তিনিই।
অভিযোগের বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পাথরঘাটা অফিসের মো. মামুনের সঙ্গে কথা বলতে তার কার্যালয়ে গেলে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে সেখান থেকে চলে যান।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বরগুনা জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল হান্নান বলেন, আমাদের জমি বিভিন্ন স্থানে দখল হওয়ার অভিযোগ পাচ্ছি। তবে আমাদের নাম ব্যবহার করে কেউ টাকা নিচ্ছে—এ বিষয়টি জানা নেই। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিনিধির নাম 


















