
স্টাফ রিপোর্টার :
খাগড়াছড়ি জেলার গুইমারা উপজেলার বড়পিলাক গ্রামের হিল ভিডিপি (গ্রাম প্রতিরক্ষা দল) সদস্যরা এক চমৎকার সাফল্য দেখিয়েছেন। আনসার ও ভিডিপি কর্তৃপক্ষের সঠিক দিকনির্দেশনা ও প্রশিক্ষণে, পতিত জমিতে আগাম জাতের শিম চাষ করে তাঁরা শুধু স্বাবলম্বীই হননি, বরং দেশের গ্রামীণ অর্থনীতির জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন। বর্তমানে এই চাষাবাদে গুইমারার ২৫ থেকে ৩০ জন ভিডিপি সদস্য সরাসরি লাভবান হচ্ছেন।
জেলা কমান্ড্যান্ট আরিফুর রহমান-এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং উপজেলা প্রশিক্ষক আল আমিন-এর নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই উদ্যোগ শুরু হয়। সদস্যদের উৎসাহ দিতে আনসার ভিডিপি ব্যাংক থেকে তাঁদের সহজ শর্তে ঋণ গ্রহণের সুযোগ করে দেওয়া হয়।
ভিডিপি সদস্যরা শীতকালীন সবজি হলেও আধুনিক পদ্ধতিতে আগাম জাতের শিম চাষ করেন। এতে মৌসুমের শুরুতেই বাজারে ফসল সরবরাহ করে তাঁরা ভালো দাম ও উচ্চ মুনাফা নিশ্চিত করতে পেরেছেন। এই মুনাফা তাঁদের ঋণ পরিশোধে সহায়তা করার পাশাপাশি পারিবারিক জীবনে আর্থিক সচ্ছলতা ও আত্মনির্ভরতা এনেছে।
উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা গোলাম হারুন, প্রশিক্ষক আল আমিন এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার যৌথ কারিগরি সহায়তা এই সফলতার প্রধান ভিত্তি। আধুনিক চাষপদ্ধতি, রোগ দমন ও ফলন বৃদ্ধির কৌশল অবলম্বন করায় মানসম্মত ফলন নিশ্চিত হয়েছে।
আনসার ও ভিডিপি প্রশিক্ষক আল আমীন জানান, “ভিডিপিদের আয় বৃদ্ধির চিন্তা থেকেই আমরা পতিত জমিতে আগাম সবজি চাষের উদ্যোগ নিই। এতে রেঞ্জ কমান্ডার, জেলা কমান্ড্যান্ট, আনসার ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পূর্ণ সহযোগিতা করেছে।”
সরেজমিনে দেখা যায়, এই সাফল্যের কারণে ভিডিপি সদস্যদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে। হিল ভিডিপি সদস্য বেলাল তাঁর সফলতা সম্পর্কে বলেন, “আল আমিন স্যারের সহযোগিতায় ভিডিপি ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে সবজি চাষ করে আমাদের ভাগ্য ফিরেছে। আমার প্রায় বছরে ৩ থেকে ৪ লক্ষ টাকা আয় হচ্ছে।”
তবে চাষের পরিধি বাড়াতে আরও আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন বলে মনে করছেন তাঁরা। সহকারী প্লাটুন লিডার মহি উদ্দিন সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে বলেন, “আমরা আনসার ভিডিপি ব্যাংক হতে লোন নিয়ে এই চাষাবাদ করেছি। আমাদের কে যদি লোনের পরিমাণটা ১ লাখ টাকা করে দেওয়া হয়, তাহলে আমাদের চাষাবাদে আরও সুবিধা হবে।”
বর্তমানে গুইমারায় উৎপাদিত শিম স্থানীয় বাজারের চাহিদা পূরণ করে দেশের বিভিন্ন জেলাতেও সরবরাহ হচ্ছে। ভিডিপি সদস্যদের এই উদ্যোগ প্রমাণ করে, সঠিক প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা পেলে গ্রামীণ অর্থনীতিও দ্রুত গতিতে এগিয়ে যেতে পারে।
প্রতিনিধির নাম 


















