
কক্সবাজার প্রতিনিধি :
শহর রেঞ্জ কর্মকর্তা ও ডিএফও সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি;
* পোস্টিং বানিজ্য
* ঘুষের বিনিময়ে মামলা নিষ্পত্তি
* স্পেশাল টহল টিমের চাঁদাবাজি
* চেক স্টেশনের চাঁদাবাজি
* সুফল প্রকল্পের দূর্নীতি
কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের বিস্তৃর্ণ বনভূমি ধ্বংস করে ও পাহাড়ের মাটি বিক্রি করে এবং বনের জমি বিক্রি করে গত ৬ মাসেই কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা(ডিএফও) মারুফ হোসেন। তারই আজ্ঞাবহ বন কর্মকর্তারা তার অপকর্ম ও দূর্নীতির বিশ্বস্থ সহযোগী। তাদের বিরোদ্ধে বনআইন পরিপন্থি কোন তথ্য দিলে ডিএফওর এককথার উত্তর “প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে”। বিগত ছয় মাসে কোন অভিযোগের কার্যত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যেসকল কর্মকর্তারা ডিপোর দূর্নীতি ও অকর্মের সহযোগীতায় অস্বীকার করে সেসকল কর্মকর্তাদের কারনে-অকারনে বদলি করা হয়। মোটা অংকের ঘুষের বিনিময়ে বললি ও পোস্টিং বানিজ্য হয় কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগে। চেক স্টেশন থেকে মাসিক নির্দিষ্ট মাসোহারা, করাতকল সিন্ডিকেট থেকে নির্দিষ্ট মাসিক মাসোহারা, পাহাড়ি বালি উত্তোলন ও সামাজিক বনায়নের গাছ বিক্রি সিন্ডিকেটের সাথে আতাত করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বিভাগীয় বনকর্মকর্তা মারুফ হোসেন। তিনি কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগে যোগদান করার পর প্রতিটি রেঞ্জ ও বিট অফিস যেমন খুশি তেমন সাজো রুপে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। এতে যেসব কর্মকর্তার সার্ভিস বুক দূর্নীতিবাজ তকমায় কলংকিত সেসব কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ন রেঞ্জ ও বিটে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। রেঞ্জ সমূহের জন্যে বরাদ্দকৃত সুফল প্রকল্পের বনায়ন নয়-ছয় করে মোটা অংকের টাকা আত্মসাৎ এর মতোন গুরুতর অভিযোগ রয়েছে ডিএফও মারুফ হোসেনের বিরোদ্ধে।
অনুসন্ধানে জানা যায়- কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের তিনটি চেকপোস্ট স্টেশনে নিজের লোককে পোস্টিং দিয়ে লাখ লাখ টাকা ঘুষ বানিজ্য করা হচ্ছে ।কাকড়া বিট অফিসে মাত্র ছয় মাসে তিন বিট কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হয়। সম্প্রতি লামা বন বিভাগ থেকে আগত ফরেস্ট গার্ডকে চেকপোস্ট স্টেশনে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। বাকখালী রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা আল আমিন ডিএফও মারুফ হোসেনের এলাকার ছোট ভাই তাই বাকখালী রেঞ্জে সুফলের না হওয়া বাগানে বাগান রক্ষনাবেক্ষণ নামে কোটি কোটি টাকা অর্থ ছাড় দিয়ে মিলেমিশে কোটি কোটি টাকা গিলে খেয়েছে দুজনেই। বাখখালী রেঞ্জ ও জোয়ারিয়ানালা রেঞ্জে সুফলের কোনো বাগান হয়নি তারপরও ডিএফও মারুফ হোসেন অর্থ ছাড় দিয়ে নিজের ২০% বুঝে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। গত ৫ আগষ্টে সরকারের পট পরিবর্তনে ডিএফও মারুফ হোসেনের ভাগ্য খুলে যায়। তিনি একজন এসিএফ হয়েও ডিএফওর চলতি দায়িত্ব পান। বিট কাম চেক স্টেশন থেকে নির্দিষ্ট মাসোহারা, করাতকল সিন্ডিকেট, কাঠ পাচার সিন্ডিকেট, পাহাড় খেকো ও বালি উত্তোলন সিন্ডিকেটের মাসোহারাসহ ডিএফও অফিসের সব ধরনের অপকর্ম নিয়ন্ত্রণ করে ডিএফও’র ক্যাশিয়ার খ্যাত শহর রেঞ্জ কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান। শহর রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান ফরেস্টার ১৫-গ্রেডের চাকরি করেও আজ কোটি কোটি টাকার মালিক। তার এলাকায় খোঁজ নিলে জানা যাবে যশোরে কি পরিমাণ সম্পত্তির মালিক সে। ডিএফওকে মোটা অংকের টাকা শহর রেঞ্জ থেকে দেওয়া হয় বলে তাকে শহর রেঞ্জ থেকে তাকে বদলী করা হচ্ছে না। অথচ শহর রেঞ্জে প্রায় তিন বছর ধরেই দায়িত্বে আছেন। এমনকি কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের আওতাধীন চকরিয়া থেকে পিএমখালী স্পেশাল বাহিনী টহলের নামে চাঁদাবাজি করে যার রেঞ্জ কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান। যার মোটা অংকের একটি অংশ যায় ডিএফওর পকেটে। ফজলুল কাদের চৌধুরী প্রকৃতপক্ষে আপাদমস্তক একজন বনখেকো। সে ফুলছড়ি বিটের হরিখোলা পূর্বপাড়া এফসিভির সিডিএফের কাজ না করে ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এবং সুফল থেকে ক্ষুদ্র ঋণের ১৩ জনের ৪২হাজার করে ৫লাখ ৪৬হাজার টাকা নিজের পকেটে ঢুকিয়েছে। সে ফুলছড়ি বিটের হাজার অপকর্ম করলেও ডিএফও মারুফ হোসেন তাকে বাকখালী রেঞ্জের তার পৈত্রিক নিবাসের পাশেই একটি চেক স্টেশনের দায়িত্বে বসান টাকার বিনিময়ে। এই বনখেকো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন পত্রিকায় একাধিক সংবাদ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা না নিয়ে পদোন্নতি দিয়ে বাকখালী রেঞ্জের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে গুঞ্জন চলছে। বর্তমানে নাপিতখালী ও ফুলছড়ি বিটের দায়িত্বে থাকা জুয়েল চৌধুরী ও একজন আপাদমস্তক বনখেকো। যোগদানে তিন মাসের মধ্যে তার বিরুদ্ধে নাপিতখালী বিট ও ফুলছড়ি বিটে শত শত বন অপরাধের সাথে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া তো দূরের কথা তাকে ফুলছড়ি রেঞ্জের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে গুঞ্জন চলছে।
জোয়ারিয়ানালা রেঞ্জ কর্মকর্তা কেএম কবীর উদ্দীনের জোয়ারিয়ানালা রেঞ্জে ৩ বছর পার হলেও তাকে দিয়ে রেঞ্জ পরিচালনা করা ক্ষমতার অপব্যবহার ছাড়া কিছু না। জোয়ারিয়ানালা রেঞ্জে সুফলের বাগান না করেই কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এই বনখেকো কেএম কবির উদ্দিন। এই বনখেকো বন কর্মকর্তা দিয়ে মারুফ হোসেনের ঘুষ বানিজ্য বর্তমানে রমরমা। এরকমই রেঞ্জ কর্মকর্তা প্রায় চার বছর একই কর্মস্থলে অবস্থান করছেন।
কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগ ১০টি রেঞ্জ, ২৫ টি বিট ও ৩টি বিট কাম চেক স্টেশন নিয়ে প্রশাসনিক কাঠামো। নানা অপকর্ম দূর্নীতির মধ্য দিয়েই চলছে কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগ। এভাবেই উদ্ভট উঠের পিঠে চলছে কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগ। অভিযোগের বিষয় নিয়ে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা সাথে মুটুফোনে যোগাযোগ করা ফোন রিসিভ না করায় ওয়াট সেপ মেসেজ করা হলেও কোন উত্তর না পাওয়া বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
প্রতিনিধির নাম 


















