ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২ আশ্বিন ১৪৩৩ বাংলা

ডুমুরিয়ার আঠারোমাইল সৈয়দ ঈসা কলেজ যেন দূর্নীতির আঁতুর ঘর

খান আরিফুজ্জামান(নয়ন),ডুমুরিয়া(খুলনা)প্রতিনিধিঃ

আঠারোমাইল সৈয়দ ঈসা টেকনিক্যাল এন্ড বি এম কলেজ যেন দূর্নীতির আতুর ঘর। শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে প্রতিটি স্তরে হয়েছে দূর্নীতি। প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ জি এম আব্দুস সাত্তার ও তার আপনজন এবং আত্মীয়রা মিলে লোপাট করেছে কয়েক কোটি টাকা। বার বার এ দূর্নীতিবাজ অধ্যক্ষের অপসারণের দাবি উঠলেও অদৃশ্য কারণে প্রতিবাদ পার পেয়ে যায়। এবার প্রতিষ্ঠানের একাধিক শিক্ষক তার দূর্নীতি খতিয়ে দেখতে এবং অপসারণ চেয়ে আবেদন করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে। বুধবার সকাল ১০ টায় উভয় পক্ষ নিয়ে এক যৌথ সভা হচ্ছে বলে জানা গেছে। সরেজমিন প্রতিষ্ঠানে যেয়ে, অভিযোগকারী সুত্রে এবং উপজেলা প্রশাসনের কাছ থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, কলেজ প্রতিষ্ঠার পর থেকে এবং অধ্যক্ষ জি এম আব্দুস সাত্তার নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে একাধিক ব্যক্তিকে একই বিষয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গেল ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠানটির সাধারন শাখা এমপিও ভ্থক্ত হয়। এসময়ে তড়িঘড়ি করে বিভিন্ন জায়গা থেকে ভ্থয়া সার্টিফিকেট দিয়ে অনেককে এমপিও ভ্থক্তির জন্য তালিকা পাঠানো হয়। ওই তালিকা যাচাই করে ৭ জনের সার্টিফিকেট ভ্থয়া পেয়েছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া ২৪ জনের দেওয়া বিভিন্ন কাগজপত্রে গড়মিল পাওয়ার তথ্য মিলেছে। বাংলা বিভাগে প্রভাষক এম এম আলাউদ্দিন এবং অফিস সহকারী মোঃ আক্তারুজ্জামান এসব অনিয়োম রোধে বিভিন্ন সময় নানা দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেন। যে কারণে বিভিন্ন প্রকার অযুহাত দিয়ে তাদের নাম পাঠানো থেকে বিরত থাকেন অধ্যক্ষ জি এম আব্দুস সাত্তার। এছাড়া উৎপাদন ব্যবসস্থাপনা ও বিপনন বিভাগের প্রভাষক দিলীপ কুমার নন্দী, ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মোঃ ফারুক হোসেন, ম্যানেজমেন্টের প্রভাষক মোঃ রবিউল ইসলাম এবং সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক নাজমা শিউলীর নামও এমপিও ভুক্তির জন্য পাঠানো থেকে বিরত থাকেন। তারা অভিযোগ করেন কলেজ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে চাকরী করছি। বিভিন্ন সময় নানা কৌশলে অধ্যক্ষ আমাদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। আমাদের নাম এখনও না পাঠিয়ে পূণরায় প্রত্যেকের কাছে ৩ লাখ টাকা চাচ্ছেন। নিরুপায় হয়ে আমরা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে বিতর্কিত, দুর্নীতিবাজ, অর্থ আত্মসাৎকারী ও জাল জালিয়াতকারী অধ্যক্ষ জি এম আব্দুস সাত্তারকে চাকরী থেকে অব্যহতি এবং নতুন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগ দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি বাচঁাতে আবেদন করেছি। অধ্যক্ষ জি এম আব্দুস সাত্তারের কার্যালয়ে যেয়ে তার কাছে এসব বিষয়ে কোন কথা বলতে চাইলে তিনি কোন উত্তর না নিয়ে কৌশলে কলেজ ত্যাগ করেন মঙ্গলবার দুপুর ১ টায়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আল আমিন বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। বুধবার সকাল ১০ টায় উভয় পক্ষ নিয়ে শুনানী করা হবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

বদলগাছীতে পুকুরে ডুবে ৬ বছরের শিশুর মৃত্যু

ডুমুরিয়ার আঠারোমাইল সৈয়দ ঈসা কলেজ যেন দূর্নীতির আঁতুর ঘর

০৬:৫১:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৪

খান আরিফুজ্জামান(নয়ন),ডুমুরিয়া(খুলনা)প্রতিনিধিঃ

আঠারোমাইল সৈয়দ ঈসা টেকনিক্যাল এন্ড বি এম কলেজ যেন দূর্নীতির আতুর ঘর। শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে প্রতিটি স্তরে হয়েছে দূর্নীতি। প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ জি এম আব্দুস সাত্তার ও তার আপনজন এবং আত্মীয়রা মিলে লোপাট করেছে কয়েক কোটি টাকা। বার বার এ দূর্নীতিবাজ অধ্যক্ষের অপসারণের দাবি উঠলেও অদৃশ্য কারণে প্রতিবাদ পার পেয়ে যায়। এবার প্রতিষ্ঠানের একাধিক শিক্ষক তার দূর্নীতি খতিয়ে দেখতে এবং অপসারণ চেয়ে আবেদন করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে। বুধবার সকাল ১০ টায় উভয় পক্ষ নিয়ে এক যৌথ সভা হচ্ছে বলে জানা গেছে। সরেজমিন প্রতিষ্ঠানে যেয়ে, অভিযোগকারী সুত্রে এবং উপজেলা প্রশাসনের কাছ থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, কলেজ প্রতিষ্ঠার পর থেকে এবং অধ্যক্ষ জি এম আব্দুস সাত্তার নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে একাধিক ব্যক্তিকে একই বিষয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গেল ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠানটির সাধারন শাখা এমপিও ভ্থক্ত হয়। এসময়ে তড়িঘড়ি করে বিভিন্ন জায়গা থেকে ভ্থয়া সার্টিফিকেট দিয়ে অনেককে এমপিও ভ্থক্তির জন্য তালিকা পাঠানো হয়। ওই তালিকা যাচাই করে ৭ জনের সার্টিফিকেট ভ্থয়া পেয়েছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া ২৪ জনের দেওয়া বিভিন্ন কাগজপত্রে গড়মিল পাওয়ার তথ্য মিলেছে। বাংলা বিভাগে প্রভাষক এম এম আলাউদ্দিন এবং অফিস সহকারী মোঃ আক্তারুজ্জামান এসব অনিয়োম রোধে বিভিন্ন সময় নানা দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেন। যে কারণে বিভিন্ন প্রকার অযুহাত দিয়ে তাদের নাম পাঠানো থেকে বিরত থাকেন অধ্যক্ষ জি এম আব্দুস সাত্তার। এছাড়া উৎপাদন ব্যবসস্থাপনা ও বিপনন বিভাগের প্রভাষক দিলীপ কুমার নন্দী, ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মোঃ ফারুক হোসেন, ম্যানেজমেন্টের প্রভাষক মোঃ রবিউল ইসলাম এবং সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক নাজমা শিউলীর নামও এমপিও ভুক্তির জন্য পাঠানো থেকে বিরত থাকেন। তারা অভিযোগ করেন কলেজ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে চাকরী করছি। বিভিন্ন সময় নানা কৌশলে অধ্যক্ষ আমাদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। আমাদের নাম এখনও না পাঠিয়ে পূণরায় প্রত্যেকের কাছে ৩ লাখ টাকা চাচ্ছেন। নিরুপায় হয়ে আমরা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে বিতর্কিত, দুর্নীতিবাজ, অর্থ আত্মসাৎকারী ও জাল জালিয়াতকারী অধ্যক্ষ জি এম আব্দুস সাত্তারকে চাকরী থেকে অব্যহতি এবং নতুন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগ দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি বাচঁাতে আবেদন করেছি। অধ্যক্ষ জি এম আব্দুস সাত্তারের কার্যালয়ে যেয়ে তার কাছে এসব বিষয়ে কোন কথা বলতে চাইলে তিনি কোন উত্তর না নিয়ে কৌশলে কলেজ ত্যাগ করেন মঙ্গলবার দুপুর ১ টায়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আল আমিন বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। বুধবার সকাল ১০ টায় উভয় পক্ষ নিয়ে শুনানী করা হবে।