
গোলাম রাব্বি(বরগুনা )
বরগুনায় পুলিশের ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদের নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে পুলিশের চাকরি পেলেন ২২ তরুণ-তরুণী। ‘সেবার ব্রতে চাকরি’ এই স্লোগানের শতভাগ মেধা, যোগ্যতা ও স্বচ্ছতার মাধ্যমে মাত্র ১২০ টাকা খরচে এই ২২ তরুণ-তরুণী পেলেন পুলিশে চাকরি।
শনিবার রাতে বরগুনা পুলিশ লাইনে এসব তরুণ-তরুণীদের পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করেন বরগুনা পুলিশ সুপার মো. আব্দুস সালাম। এতে ১৯ জন ছেলে এবং ৩ জন মেয়ে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। এ সময় তাদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন জেলা পুলিশ সুপার।
কোনো প্রকার হয়রানি, সুপারিশ এবং ঘুস ছাড়া পুলিশের গর্বিত সদস্য হতে পেরে খুশিতে আত্মহারা হতদরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের এসব তরুণ-তরুণী।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণসহ সাধারণ মানুষের নিরাপত্তায় জানুয়ারি ২০২৪ সালের ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদের নিয়োগ পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের মাধ্যমে তাদের নির্বাচিত করা হয়। এ সময় এক আনন্দঘন মুহূর্ত দেখা গেছে পুলিশ লাইনে।
নিজ যোগ্যতায় ও মেধায় চাকরির ফলাফল পাওয়া মাত্রই ২২ জন তরুণ-তরুণী আনন্দে বিমোহিত হন। এ সময় পুলিশের ড্রিল শেড মুহূর্তের মধ্যে পরিণত হয় আনন্দ ও কান্নার মিলনমেলায়। অনেকের নাম ঘোষণার পরপরই দুই নয়ন অশ্রুতে ভিজে যায়। অনেকেই চাকরি পেয়ে আনন্দ উল্লাস করেন।
বরগুনা জেলার ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল ২২ জনের শূন্য পদের বিপরীতে প্রিলিমিনারি স্ক্রিনিং শেষে ২৪৯ জন প্রার্থী শারীরিক মাপ, শারীরিক সক্ষমতা যাচাই পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান। শারীরিক মাপ, শারীরিক সক্ষমতা যাচাই পরীক্ষা শেষে ২৪১ জন লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন এবং লিখিত পরীক্ষায় ৭০ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়ে মৌখিক (ভাইভা) পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। তার মধ্যে চূড়ান্তভাবে ২২ জনকে (১৯ জন ছেলে ও ৩ জন মেয়ে) মনোনীত করে বরগুনা জেলা টিআরসি-২০২৪ নিয়োগ বোর্ড। এতে অপেক্ষমাণ রাখা হয় আরও ৪ ছেলে ও ২ মেয়েকে।
২২ জনের মধ্যে সাধারণ কোটা ১২ জন, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ৪ জন, পুলিশ পোষ্য কোটায় ২ জন, ক্ষুদ্র-নৃ-গোষ্ঠী কোটায় একজন নিয়োগ পেয়েছেন। নারী সাধারণ কোটায় ২ জন এবং নারী পুলিশ পোষ্য কোটায় একজন নিয়োগ পেয়েছেন।
এ বিষয়ে বরগুনা পুলিশ সুপার মো. আব্দুস সালাম সংবাদ-কর্মীদের বলেন, নিজের যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে চাকরি পেল বরগুনার ২২ জন তরুণ তরুণী। যারা আজ নিয়োগ পেয়েছেন তারা সবাই নিজেদের যোগ্যতায় ও মেধায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। এতে তাদের কোনো যোগাযোগ, লবিং ও ঘুস বিনিময় করতে হয়নি। তাদের মাত্র আবেদন করতে খরচ হয়েছে ১২০ টাকা, সেটিই তাদের খরচ। আশা করছি আজকে যারা পরীক্ষা উত্তীর্ণ হয়ে বাংলাদেশ পুলিশের নতুন সদস্য হলেন; তারা সবাই দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করবে। তাদের জন্য রইল অনেক শুভকামনা।
প্রতিনিধির নাম 


















