
স্টাফ রিপোর্টার:
খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার হাজীপাড়া এলাকার আশ্রয়ন কেন্দ্রের বাসিন্দা রংমিস্ত্রি বশির উদ্দিনের ১১ বছর বয়সী শিশু কন্যা ফাতেমা আক্তারের হৃদপিণ্ডে ধরা পড়েছে বড় আকারের ছিদ্র!
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে তাকে উন্নত চিকিৎসায় জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটে রিলিজ করলেও অর্থসংকটে শিশু কন্যাকে নিয়ে অসহায় পিতা এখন উপজেলা হাসপাতালে! কন্যাকে বাঁচাতে সাহায্য চাইলেন অসহায় পিতা বশির উদ্দিন।
যে বয়সে স্কুল কিংবা বাসায় সমবয়সীদের সঙ্গে খেলাধুলা আর হাসি-আনন্দে মেতে থাকার কথা ফাতেমার। সেই বয়সে হাসপাতালের বিছানায় দিন কাটছে তাঁর। ফাতেমার বাবা বশির উদ্দিন একজন অসহায় মানুষ। ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ বহন করার সামর্থ্য নেই তাঁর ।
মেয়ের অসুস্থতা আর চিকিৎসার অনিশ্চয়তায় দিশেহারা এই বাবা। চোখের সামনে সন্তানকে মৃত্যুঝুঁকিতে দেখে অসহায়ভাবে মানুষের দ্বারে দ্বারে সহযোগিতা চাইছেন তিনি।
চিকিৎসার জন্য দ্রুত প্রয়োজন আর্থিক সহযোগিতা। সমাজের বিত্তবান, জনপ্রতিনিধি, প্রবাসী ভাই-বোন ও দেশ-বিদেশের হৃদয়বান মানুষের কাছে ছোট্ট ফাতেমার চিকিৎসায় সহযোগিতার আকুল আবেদন জানিয়েছেন পরিবারটি।
৩১ অক্টোবর শনিবার উপজেলা হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, চিকিৎসাধীন শিশু কন্যার পাশে বসে আছেন বশির উদ্দিন। এ সময় তিনি জানান, জন্মের পর পরই ২০১৬ সালে ফাতেমার হার্টে ছিদ্র ধরা পড়ে! চিকিৎসক জানিয়েছিল, নিয়মিত ওষুধ চালিয়ে নিতে পারলে ওষুধেই হার্টের ছিদ্র বন্ধ হবে। কিন্তু আমি অর্থ সংকটে ওষুধ নিয়মিত চালাতে পারিনি! ফলে এখন ফাতেমার জীবন সংকটাপন্ন!
অক্টোবর মাসের শেষ সপ্তাহে চমেক হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগে ভর্তি করলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসকেরা ফাতেমার হার্টের ছিদ্র বড় এবং তাঁর জরুরি উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দিয়ে জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটে ভর্তি করাতে বলেন। কিন্তু আমার কাছে কোন অর্থের ব্যবস্থাই নেই! ফলে আমি উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি রেখেছি। এখানে ভর্তি যোগ্য না হওয়ায় চিকিৎসকেরা ভর্তি রাখতে অপারগ। তারপরও আমি অনেক কাকুতি মিনতি করে স্বাক্ষর দিয়ে ভর্তি রেখেছি। বাবা হিসেবে আমি ব্যর্থ!
এছাড়া আমি নিজেও হার্টের রোগী! দুই বার স্ট্রোক করেছি। দুই কন্যা, এক পুত্র সন্তানের মধ্যে ফাতেমা মেঝ। বড় মেয়ে স্বামীর সংসারে। ঘরে ফাতেমা আক্তার ও ছোট পুত্র। জায়গা-জমি না থাকায় সরকারি আশ্রয়ন ঘরে বসবাস। রং মিস্ত্রি হলেও নিজে হার্টের রোগ হওয়ায় নিয়মিত কাজ করাও সম্ভব হয় না।
মানিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক পার্বন চাকমা বলেন, হার্টের রোগীর কোন চিকিৎসক এখানে নেই। চমেক হাসপাতাল থেকে ফাতেমার উন্নত চিকিৎসায় জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটে রেফার করা হলেও অভিভাবক অর্থ সংকটে নিতে পারছে না।
তাঁর হার্টে বড় ছিদ্র থাকার বিষয়টি ডায়াগনস্টিকে নিশ্চিত হওয়া গেছে। আমরা আপাতত চমেক হাসপাতালের চিকিৎসা পত্রের আলোকে সকাল,বিকেল ইনজেকশন পুশ করছি। তাকে খুব দ্রুত জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটে ভর্তি করা জরুরি।
আপনাদের সামান্য সহযোগিতা হতে পারে আমার ফাতেমার বেঁচে থাকার স্বপ্ন পূরণের বড় অবলম্বন। আমার নগদ: 01893133917 ও বিকাশ: 01778-652472 নম্বর।









