
নুরুজ্জামান লিটন, নওগাঁ প্রতিনিধি:
নওগাঁ জেলার বদলগাছীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এক নেতাকে গ্রেফতারের পর পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) অসিত কুমারকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, প্রথম দফায় ওই আসামিকে গ্রেফতারের সময় তাকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ায় অসিত কুমারের বিরুদ্ধে এ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়ভাবে নানা আলোচনা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ সেপ্টেম্বর ভোরে বদলগাছী উপজেলার আক্কেলপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে রাকিবুল হাসানকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন থানার এসআই অসিত কুমার। এর আগে ভান্ডারপুর বাজারে তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা করা হয়েছিল।
এসআই অসিত কুমার জানান, রাকিবুলের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকায় তাকে আটকের জন্য অভিযান চালানো হয়। ভান্ডারপুর বাজারে তাকে ধরার চেষ্টা করা হলেও তিনি অন্য একটি মোটরসাইকেলে করে সেখান থেকে চলে যান। পরে রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
তবে প্রথম দফায় রাকিবুলকে আটক করে টাকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল বলেও জানান এসআই অসিত কুমার। তিনি বলেন, ‘টাকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছি—এরকম একটা অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল।’ তবে কারা এ অভিযোগ করেছেন, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানেন না বলে জানান।
প্রত্যাহারের বিষয়ে এসআই অসিত কুমার বলেন, তিনিই রাকিবুলকে গ্রেফতার করেছেন। পরে তাকে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে। তবে পুলিশ সুপার তাকে এ বিষয়ে সরাসরি কিছু বলেননি।
রাকিবুলের মা রেহেনা পারভিন বলেন, পুলিশ তার ছেলেকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায়। কোন এসআই তাকে গ্রেফতার করেছেন, তা তিনি জানেন না। পুলিশ সুপারের কাছে কোনো অভিযোগ করেছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তিনি কোথাও কোনো অভিযোগ করেননি।
বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রুহুল আমিন এসআই অসিত কুমারকে প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘প্রথমে আসামিকে পাইয়া রেখে আসছে’—এমন একটি অভিযোগ পুলিশ সুপারের কাছে যাওয়ার পর তাকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে ওই এসআই রাকিবুলকে গ্রেফতার করেন।
নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, প্রথমবার রাকিবুলকে গ্রেফতার করতে গিয়ে তাকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। দায়িত্ব পালনে আরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন ছিল। এ কারণেই এসআই অসিত কুমারকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর সঙ্গে স্থানীয় আলোচনা-সমালোচনার কোনো সম্পর্ক নেই বলেও জানান তিনি।
তবে প্রথম দফায় ঠিক কী ঘটেছিল, কীভাবে রাকিবুল পালিয়ে গেলেন এবং তাকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগের ভিত্তি কী—এসব বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
একজন আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে গ্রেফতারের পর দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আসামিকে গ্রেফতারের কারণে নয়; বরং প্রথম অভিযানে তাকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার অভিযোগেই এসআই অসিত কুমারের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।









