ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২ আশ্বিন ১৪৩৩ বাংলা

সৌদি আরবে সোফা কারখানার আগুনে নিহতদের মধ্যে ১৩ জনের বাড়ি নওগাঁয়

নুরুজ্জামান লিটন, নওগাঁ প্রতিনিধিঃ

সৌদি আরবের রিয়াদের শিফা থানাধীন মুসা সানাইয়া শিল্প এলাকায় একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ঘটনাস্থলে ১৭ জন মারা গেছেন। নিহতদের মধ্যে ১৩ জনের বাড়ি নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে। আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে সৌদি আরবে গিয়ে ওই কারখানায় কাজ করছিল তারা। তবে এই হতাহতের সংখ্যা আরো বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান সৌদি আরবের সোফা কারখানায় আগুনে পুড়ে মৃত প্রবাসীদের অধিকাংশর বাড়ি আত্রাই উপজেলায়। এদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৩ জনের নামের প্রাথমিক তালিকা পাওয়া গেছে। অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়ায় মৃতদেহগুলো শনাক্ত করা দুরূহ হয়ে পড়েছে। তবে মৃত্যুর সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে। বাকিদের তথ্য সংগ্রহ চলছে। ইতোমধ্যেই আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মনিরুজ্জামান নিহতের পরিবারের কাছে গিয়ে সমবেদনা জ্ঞাপন করেছে এবং সার্বিক খোঁজখবরও রাখছে।

উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের গন্ডগোহালী গ্রামের গুফফার প্রামাণিকের ছেলে মো. মোহন প্রামাণিক ও মো. সুমুন প্রামাণিক দুই ভাই, জান্নার ছেলে মো. রুবেল হোসেন ও ফজলুর ছেলে কলিউদ্দিন প্রামাণিক।

বিশা ইউনিয়নের ডুবাই গ্রামের বাদলের ছেলে মো. সুমন হোসেন, চঞ্চলের ছেলে মো. হাসিবুল হাসান শুভ, সোহেল রানা, খরসতী গ্রামের মো. মহিদুল ইসলাম, সাধনগর গ্রামের মো. সাগর হোসেন ও মাদবপুর গ্রামের মজনু মিয়ার ছেলে মো. মজিদুল ইসলাম।

পাঁচুপুর ইউনিয়নের পারকাসুন্দা গ্রামের মৃত তমেজ উদ্দিনের ছেলে মো. জালাল ও মধ্য বোয়ালিয়া গ্রামের মো. মিনহাজ। শাহগোলা ইউনিয়নের উদনপৈ গ্রামের ময়েন শেখের ছেলে মো. ফরিদ শেখ। এছাড়াও বাকি দুইজনের বাড়ি নাটোর জেলায় এবং একজনের বাড়ি রাজশাহী জেলায়।

জেলা প্রশাসক আরো জানান এই বিষয়ে সরকারের উর্দ্ধতন বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সর্বদা যোগাযোগ করা হচ্ছে। নিহতদের পরিবারের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যা যা করা প্রয়োজন সেগুলো করা হবে। এছাড়া মৃতদেহগুলো দেশে আসার সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো নিহতদের পরিবারের কাছে যথাযথ ভাবে পৌছে দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

এদিকে মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে উপজেলা জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের পরিবার তাদের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

বদলগাছীতে পুকুরে ডুবে ৬ বছরের শিশুর মৃত্যু

সৌদি আরবে সোফা কারখানার আগুনে নিহতদের মধ্যে ১৩ জনের বাড়ি নওগাঁয়

০১:২৬:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

নুরুজ্জামান লিটন, নওগাঁ প্রতিনিধিঃ

সৌদি আরবের রিয়াদের শিফা থানাধীন মুসা সানাইয়া শিল্প এলাকায় একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ঘটনাস্থলে ১৭ জন মারা গেছেন। নিহতদের মধ্যে ১৩ জনের বাড়ি নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে। আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে সৌদি আরবে গিয়ে ওই কারখানায় কাজ করছিল তারা। তবে এই হতাহতের সংখ্যা আরো বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান সৌদি আরবের সোফা কারখানায় আগুনে পুড়ে মৃত প্রবাসীদের অধিকাংশর বাড়ি আত্রাই উপজেলায়। এদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৩ জনের নামের প্রাথমিক তালিকা পাওয়া গেছে। অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়ায় মৃতদেহগুলো শনাক্ত করা দুরূহ হয়ে পড়েছে। তবে মৃত্যুর সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে। বাকিদের তথ্য সংগ্রহ চলছে। ইতোমধ্যেই আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মনিরুজ্জামান নিহতের পরিবারের কাছে গিয়ে সমবেদনা জ্ঞাপন করেছে এবং সার্বিক খোঁজখবরও রাখছে।

উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের গন্ডগোহালী গ্রামের গুফফার প্রামাণিকের ছেলে মো. মোহন প্রামাণিক ও মো. সুমুন প্রামাণিক দুই ভাই, জান্নার ছেলে মো. রুবেল হোসেন ও ফজলুর ছেলে কলিউদ্দিন প্রামাণিক।

বিশা ইউনিয়নের ডুবাই গ্রামের বাদলের ছেলে মো. সুমন হোসেন, চঞ্চলের ছেলে মো. হাসিবুল হাসান শুভ, সোহেল রানা, খরসতী গ্রামের মো. মহিদুল ইসলাম, সাধনগর গ্রামের মো. সাগর হোসেন ও মাদবপুর গ্রামের মজনু মিয়ার ছেলে মো. মজিদুল ইসলাম।

পাঁচুপুর ইউনিয়নের পারকাসুন্দা গ্রামের মৃত তমেজ উদ্দিনের ছেলে মো. জালাল ও মধ্য বোয়ালিয়া গ্রামের মো. মিনহাজ। শাহগোলা ইউনিয়নের উদনপৈ গ্রামের ময়েন শেখের ছেলে মো. ফরিদ শেখ। এছাড়াও বাকি দুইজনের বাড়ি নাটোর জেলায় এবং একজনের বাড়ি রাজশাহী জেলায়।

জেলা প্রশাসক আরো জানান এই বিষয়ে সরকারের উর্দ্ধতন বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সর্বদা যোগাযোগ করা হচ্ছে। নিহতদের পরিবারের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যা যা করা প্রয়োজন সেগুলো করা হবে। এছাড়া মৃতদেহগুলো দেশে আসার সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো নিহতদের পরিবারের কাছে যথাযথ ভাবে পৌছে দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

এদিকে মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে উপজেলা জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের পরিবার তাদের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে।