ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২ আশ্বিন ১৪৩৩ বাংলা

ডুমুরিয়ায় ঘ্যাংরাইল নদীতে অবৈধ বাঁধ ও ক্ষতিকর জালের বিরুদ্ধে অভিযান

খান আরিফুজ্জামান(নয়ন), ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি:
অবৈধ বাঁধ আর ক্ষতিকর জালের ফাঁদে আটকে পড়েছিল ঘ্যাংরাইল নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ও দেশীয় মাছের বিচরণ। নদীর প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষায় এবার সেই ফাঁদ উচ্ছেদে নেমেছে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ। খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের ঘ্যাংরাইল নদীতে দিনব্যাপী অভিযানে ১০টি অবৈধ বাঁধসহ বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ ও ক্ষতিকর জাল উদ্ধার করে ধ্বংস করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার(৬ আগস্ট) সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ঘ্যাংরাইল নদীর প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে অভিযানটি পরিচালিত হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ডুমুরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অমিত কুমার বিশ্বাস এবং সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সোহেল মোঃ জিল্লুর রহমান রিগান।
অভিযানকালে নদী থেকে দুটি বেহুন্দি জাল, ১০-১২ টি অবৈধ বাঁধ, বিপুল পরিমাণ নেট-পাটা এবং কয়েকটি চায়না দুয়ারী জাল উদ্ধার করা হয়। পরে জব্দ করা এসব নিষিদ্ধ ও ক্ষতিকর সরঞ্জাম ঘটনাস্থলেই ধ্বংস করা হয়। অভিযানে আটলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হেলাল উদ্দিন সহযোগিতা করেন। পাশাপাশি উপজেলা ভূমি অফিস ও উপজেলা মৎস্য অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ডুমুরিয়া থানা পুলিশের সদস্যরা অভিযানে অংশ নেন। অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ঘ্যাংরাইল নদীতে অবৈধ বাঁধ ও নিষিদ্ধ জালের কারণে তারা চরম ভোগান্তিতে ছিলেন। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় একদিকে যেমন মাছের উৎপাদন কমে গিয়েছিল, অন্যদিকে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছিল। স্থানীয় এক জেলে বলেন, আগে নদীতে প্রচুর দেশীয় মাছ পাওয়া যেত, কিন্তু বাঁধ আর চায়না দুয়ারী জালের কারণে এখন মাছ প্রায় নেই বললেই চলে। মৎস্য বিভাগের এই অভিযান আমাদের জন্য খুবই ভালো খবর। আরেকজন বাসিন্দা জানান, নদীর পানি আটকে রাখায় আমাদের জমিতেও সমস্যা হচ্ছিল। এখন বাঁধগুলো সরিয়ে নেওয়ায় পানি স্বাভাবিকভাবে চলবে বলে আশা করছি। তারা নিয়মিতভাবে এ ধরনের অভিযান চালিয়ে যাওয়ার দাবি জানান এবং নদী রক্ষায় প্রশাসনের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এ বিষয়ে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সোহেল মোঃ জিল্লুর রহমান রিগান বলেন, নদী ও খালে অবৈধ বাঁধ এবং নেট-পাটা স্থাপন করায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এতে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি দেশীয় মাছের প্রজনন ও স্বাভাবিক বিচরণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে চায়না দুয়ারী ও অন্যান্য সূক্ষ্ম ফাঁসের ক্ষতিকর জালে মাছের পাশাপাশি পোনা ও বিভিন্ন জলজ প্রাণী নির্বিচারে আটকা পড়ছে। তিনি আরোও জানান, নদী-খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বজায় রাখা, দেশীয় মাছের প্রজনন ক্ষেত্র সুরক্ষা, জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলাবদ্ধতা কমাতে অবৈধ বাঁধ ও নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে। অভিযান শেষে সহকারী কমিশনার (ভূমি) অমিত কুমার বিশ্বাস বলেন, নদী-খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত করা যাবে না। অবৈধ বাঁধ ও নিষিদ্ধ জালের মাধ্যমে মাছ ধরার কারণে শুধু মৎস্যসম্পদই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না, একই সঙ্গে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ছে। দেশীয় মাছের প্রজনন ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

বদলগাছীতে পুকুরে ডুবে ৬ বছরের শিশুর মৃত্যু

ডুমুরিয়ায় ঘ্যাংরাইল নদীতে অবৈধ বাঁধ ও ক্ষতিকর জালের বিরুদ্ধে অভিযান

০৭:৫৪:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

খান আরিফুজ্জামান(নয়ন), ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি:
অবৈধ বাঁধ আর ক্ষতিকর জালের ফাঁদে আটকে পড়েছিল ঘ্যাংরাইল নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ও দেশীয় মাছের বিচরণ। নদীর প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষায় এবার সেই ফাঁদ উচ্ছেদে নেমেছে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ। খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের ঘ্যাংরাইল নদীতে দিনব্যাপী অভিযানে ১০টি অবৈধ বাঁধসহ বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ ও ক্ষতিকর জাল উদ্ধার করে ধ্বংস করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার(৬ আগস্ট) সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ঘ্যাংরাইল নদীর প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে অভিযানটি পরিচালিত হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ডুমুরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অমিত কুমার বিশ্বাস এবং সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সোহেল মোঃ জিল্লুর রহমান রিগান।
অভিযানকালে নদী থেকে দুটি বেহুন্দি জাল, ১০-১২ টি অবৈধ বাঁধ, বিপুল পরিমাণ নেট-পাটা এবং কয়েকটি চায়না দুয়ারী জাল উদ্ধার করা হয়। পরে জব্দ করা এসব নিষিদ্ধ ও ক্ষতিকর সরঞ্জাম ঘটনাস্থলেই ধ্বংস করা হয়। অভিযানে আটলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হেলাল উদ্দিন সহযোগিতা করেন। পাশাপাশি উপজেলা ভূমি অফিস ও উপজেলা মৎস্য অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ডুমুরিয়া থানা পুলিশের সদস্যরা অভিযানে অংশ নেন। অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ঘ্যাংরাইল নদীতে অবৈধ বাঁধ ও নিষিদ্ধ জালের কারণে তারা চরম ভোগান্তিতে ছিলেন। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় একদিকে যেমন মাছের উৎপাদন কমে গিয়েছিল, অন্যদিকে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছিল। স্থানীয় এক জেলে বলেন, আগে নদীতে প্রচুর দেশীয় মাছ পাওয়া যেত, কিন্তু বাঁধ আর চায়না দুয়ারী জালের কারণে এখন মাছ প্রায় নেই বললেই চলে। মৎস্য বিভাগের এই অভিযান আমাদের জন্য খুবই ভালো খবর। আরেকজন বাসিন্দা জানান, নদীর পানি আটকে রাখায় আমাদের জমিতেও সমস্যা হচ্ছিল। এখন বাঁধগুলো সরিয়ে নেওয়ায় পানি স্বাভাবিকভাবে চলবে বলে আশা করছি। তারা নিয়মিতভাবে এ ধরনের অভিযান চালিয়ে যাওয়ার দাবি জানান এবং নদী রক্ষায় প্রশাসনের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এ বিষয়ে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সোহেল মোঃ জিল্লুর রহমান রিগান বলেন, নদী ও খালে অবৈধ বাঁধ এবং নেট-পাটা স্থাপন করায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এতে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি দেশীয় মাছের প্রজনন ও স্বাভাবিক বিচরণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে চায়না দুয়ারী ও অন্যান্য সূক্ষ্ম ফাঁসের ক্ষতিকর জালে মাছের পাশাপাশি পোনা ও বিভিন্ন জলজ প্রাণী নির্বিচারে আটকা পড়ছে। তিনি আরোও জানান, নদী-খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বজায় রাখা, দেশীয় মাছের প্রজনন ক্ষেত্র সুরক্ষা, জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলাবদ্ধতা কমাতে অবৈধ বাঁধ ও নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে। অভিযান শেষে সহকারী কমিশনার (ভূমি) অমিত কুমার বিশ্বাস বলেন, নদী-খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত করা যাবে না। অবৈধ বাঁধ ও নিষিদ্ধ জালের মাধ্যমে মাছ ধরার কারণে শুধু মৎস্যসম্পদই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না, একই সঙ্গে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ছে। দেশীয় মাছের প্রজনন ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে।