
স্টাফ রিপোর্টার :
বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের আমন্ত্রণে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে বিএনপি-সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তির উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে ইতালির বাংলাদেশি রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম উত্তেজনা ও নতুন মেরুকরণ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ইতালি বিএনপির সাবেক প্রচার সম্পাদক খান রবিনের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে।
খান রবিন তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লেখেন— “ইতালি এম্বাসিতে রাষ্ট্রদূতের আমন্ত্রণে নব্য বিএনপির যে আনাগোনা, এটা আগামী দিনে ইতালি বিএনপিতে কলঙ্কিত অধ্যায়ে রূপান্তরিত হবে। সবাই সতর্ক হোন। সাধু সাবধান, এখনো ত্যাগিরা মাঠে।”
এই পোস্ট প্রকাশের পর থেকেই প্রবাসীদের রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত প্রবাসীদের মন্তব্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষের চিত্র ফুটে উঠেছে। বেশ কয়েকজন মন্তব্যকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে যাদের ভূমিকা ছিল না কিংবা যারা সুবিধাভোগী ও সুযোগসন্ধানী, তাদের আজ দূতাবাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মূল্যায়িত হতে দেখা যাচ্ছে। এতে দলের মূল ও ত্যাগী নেতাকর্মীরা উপেক্ষিত বোধ করছেন।
অনেকে অভিযোগ করে বলেন, কতিপয় নেতা নিজেদের আর্থিক ও ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করতে বিতর্কিত বা নবাগত ব্যক্তিদের দূতাবাসে নিয়ে গিয়ে সুযোগ করে দিচ্ছেন। এমনকি কেউ কেউ একে ‘হাইব্রিডদের দাপট’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে ভবিষ্যতে কঠোর পদক্ষেপ ও এমন পরিস্থিতি বয়কটের দাবি তুলেছেন। আবার কেউ কেউ বিষয়টিকে কেবল নেতৃত্বের অভ্যন্তরীণ কোন্দল বা দাওয়াত না পাওয়ার ক্ষোভ হিসেবে মন্তব্য করেছেন।
তবে এই আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠলেও বিতর্কিত ঘটনার ব্যাপারে রাষ্ট্রদূতের আমন্ত্রণে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ব্যক্তিগণ কিংবা ইতালি বিএনপির কোনো দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে এখনো কোনো লিখিত বা মৌখিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। একই সাথে এ বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকেও কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রবাসে দূতাবাসের বিভিন্ন সামাজিক ও কূটনৈতিক অনুষ্ঠানে নানা মত ও পথের মানুষের উপস্থিতি স্বাভাবিক একটি বিষয়। তবে রাজনৈতিক পরিচয় ও দলীয় প্রতিনিধিত্বের সংবেদনশীলতা রক্ষা না করা হলে প্রবাসী রাজনৈতিক অঙ্গনে এমন মতভেদে অসন্তোষ আরও বাড়তে পারে।
প্রতিনিধির নাম 


















