ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২ আশ্বিন ১৪৩৩ বাংলা

সালিশ ও গ্রাম্য আদালতের রায় অমান্য করে সম্পত্তি দখলের চেষ্টা, আইনশৃঙ্খলা অবনতির আশঙ্কা

বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি

সালিশ ও গ্রাম্য আদালতের রায় অমান্য করে সম্পত্তি দখলের চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৈধ কাগজপত্র ছাড়া পেশিশক্তি ব্যবহার করে বারবার জমি দখলের চেষ্টায় ওই এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। হলে যেকোনো সময় আইন শৃঙ্খলা অবনতির সম্ভাবনা রয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার দৈবঞ্জহাটি ইউনিয়নের বলইবুনিয়া গ্রামে। দখলকারী কুদ্দুস মোল্লা, কাউসার মোল্লা, সোহাগ মোল্লা এবং হান্নান মোল্লা একই এলাকার মৃত সোবহান মোল্লার ছেলে বলে জানা গেছে। অভিযোগকারী আব্দুল হাকিম মোল্লা একই এলাকার আব্দুল গফুর মোল্লার ছেলে।
কাগজপত্র পর্যালোচনা ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, মোড়েলগঞ্জ উপজেলার বলইবুনিয়া মৌজার ৪৭০ নং খতিয়ানে ৫৩৬ নং দাগে ১২ শতক জমি রেকর্ড মূলে আব্দুল গফুর মোল্লা ভোগ দখল করেন। কয়েক বছর আগে অভিযুক্তরা পেশিশক্তি প্রয়োগ করে তফশিল সম্পত্তি ভোগ দখলে নেয়। উভয় পক্ষের বক্তব্য এবং কাগজপত্র পর্যালোচনা করিয়া স্থানীয় সালিশগন ও গ্রাম্য আদালত অভিযুক্তদের জমির দখল ছাড়িয়া দিয়া সবাইকে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করার নির্দেশ প্রদান করেন। কিন্তু অভিযুক্তরা হুমকি ধামকি ও পেশীশক্তি ব্যবহার করে ওই জমি দখলে রেখেছে।
অভিযোগের সূত্র ধরে সরে জমিনে গিয়ে দেখা যায়, অভিযুক্ত সোহাগ মোল্লা বিরোধীয় সম্পত্তি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করছেন। জমির বৈধ কাগজপত্র আছে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে অভিযুক্তরা জানান, তাদের অংশের জমি আব্দুল গফুর মোল্লা কর্তন করে তার নামে রেকর্ড করিয়েছে। এটা আমাদের অংশের জমি। স্থানীয় সালিশ ব্যবস্থা এবং গ্রাম্য আদালতের রায় আমরা মানি না। জমিটা আমাদের ঘরের সাথে হওয়ায় আপাতত আমরা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে রাখছি। কোন স্থাপনা নির্মাণ করব না। আমাদের বাপ-দাদার সম্পূর্ণ সম্পত্তি নিয়ে আদালতে একটি বাটোয়ারা মামলা রয়েছে। মামলায় কি রায় হয় দেখা যাক।
অভিযোগকারী আব্দুল হাকিম মোল্লা জানান, বিরোধীয় সম্পত্তি নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশ এবং গ্রাম্য আদালতের রায় অমান্য করে জোরপূর্বক বসত বাড়ি নির্মাণের চেষ্টা করছে। রাতের আঁধারে ইট বালু সিমেন্ট দিয়ে স্থাপনা তৈরি করছে। বাধা দিলে তারা কয়েকবার আমাদের উপর হামলা করেছে। কয়েকটি মিথ্যা মামলাও দায়ের করেছে আমাদের বিরুদ্ধে। তারা যে কোন উপায়ে সর্বশক্তি দিয়ে ওই জমিতে স্থাপনা নির্মাণ করতে চাই। প্রতিনিয়ত আমাদের প্রাণ নাশের হুমকি ধামকি দিতেছে। যেকোনো সময় তারা আমাদের উপর আবারো হামলা করতে পারে।
সার্ভেয়ার দ্বারা মাপঝোপ করে সকলের জমি বুঝিয়ে দেওয়ার পরেও কুদ্দুস মোল্লা, কাউসার মোল্লা, সোহাগ মোল্লা এবং হান্নান মোল্লা বিভিন্ন শরিকের সম্পত্তি জোর-পূর্বক দখল করার চেষ্টা করছে। বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও প্রাণভয়ে জমি ভোগ দখল করতে পারছি না। স্থানীয় আইন শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে সহাবস্থান নিশ্চিত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান আব্দুল হাকিম মোল্লা।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

বদলগাছীতে পুকুরে ডুবে ৬ বছরের শিশুর মৃত্যু

সালিশ ও গ্রাম্য আদালতের রায় অমান্য করে সম্পত্তি দখলের চেষ্টা, আইনশৃঙ্খলা অবনতির আশঙ্কা

০২:১১:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি

সালিশ ও গ্রাম্য আদালতের রায় অমান্য করে সম্পত্তি দখলের চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৈধ কাগজপত্র ছাড়া পেশিশক্তি ব্যবহার করে বারবার জমি দখলের চেষ্টায় ওই এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। হলে যেকোনো সময় আইন শৃঙ্খলা অবনতির সম্ভাবনা রয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার দৈবঞ্জহাটি ইউনিয়নের বলইবুনিয়া গ্রামে। দখলকারী কুদ্দুস মোল্লা, কাউসার মোল্লা, সোহাগ মোল্লা এবং হান্নান মোল্লা একই এলাকার মৃত সোবহান মোল্লার ছেলে বলে জানা গেছে। অভিযোগকারী আব্দুল হাকিম মোল্লা একই এলাকার আব্দুল গফুর মোল্লার ছেলে।
কাগজপত্র পর্যালোচনা ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, মোড়েলগঞ্জ উপজেলার বলইবুনিয়া মৌজার ৪৭০ নং খতিয়ানে ৫৩৬ নং দাগে ১২ শতক জমি রেকর্ড মূলে আব্দুল গফুর মোল্লা ভোগ দখল করেন। কয়েক বছর আগে অভিযুক্তরা পেশিশক্তি প্রয়োগ করে তফশিল সম্পত্তি ভোগ দখলে নেয়। উভয় পক্ষের বক্তব্য এবং কাগজপত্র পর্যালোচনা করিয়া স্থানীয় সালিশগন ও গ্রাম্য আদালত অভিযুক্তদের জমির দখল ছাড়িয়া দিয়া সবাইকে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করার নির্দেশ প্রদান করেন। কিন্তু অভিযুক্তরা হুমকি ধামকি ও পেশীশক্তি ব্যবহার করে ওই জমি দখলে রেখেছে।
অভিযোগের সূত্র ধরে সরে জমিনে গিয়ে দেখা যায়, অভিযুক্ত সোহাগ মোল্লা বিরোধীয় সম্পত্তি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করছেন। জমির বৈধ কাগজপত্র আছে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে অভিযুক্তরা জানান, তাদের অংশের জমি আব্দুল গফুর মোল্লা কর্তন করে তার নামে রেকর্ড করিয়েছে। এটা আমাদের অংশের জমি। স্থানীয় সালিশ ব্যবস্থা এবং গ্রাম্য আদালতের রায় আমরা মানি না। জমিটা আমাদের ঘরের সাথে হওয়ায় আপাতত আমরা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে রাখছি। কোন স্থাপনা নির্মাণ করব না। আমাদের বাপ-দাদার সম্পূর্ণ সম্পত্তি নিয়ে আদালতে একটি বাটোয়ারা মামলা রয়েছে। মামলায় কি রায় হয় দেখা যাক।
অভিযোগকারী আব্দুল হাকিম মোল্লা জানান, বিরোধীয় সম্পত্তি নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশ এবং গ্রাম্য আদালতের রায় অমান্য করে জোরপূর্বক বসত বাড়ি নির্মাণের চেষ্টা করছে। রাতের আঁধারে ইট বালু সিমেন্ট দিয়ে স্থাপনা তৈরি করছে। বাধা দিলে তারা কয়েকবার আমাদের উপর হামলা করেছে। কয়েকটি মিথ্যা মামলাও দায়ের করেছে আমাদের বিরুদ্ধে। তারা যে কোন উপায়ে সর্বশক্তি দিয়ে ওই জমিতে স্থাপনা নির্মাণ করতে চাই। প্রতিনিয়ত আমাদের প্রাণ নাশের হুমকি ধামকি দিতেছে। যেকোনো সময় তারা আমাদের উপর আবারো হামলা করতে পারে।
সার্ভেয়ার দ্বারা মাপঝোপ করে সকলের জমি বুঝিয়ে দেওয়ার পরেও কুদ্দুস মোল্লা, কাউসার মোল্লা, সোহাগ মোল্লা এবং হান্নান মোল্লা বিভিন্ন শরিকের সম্পত্তি জোর-পূর্বক দখল করার চেষ্টা করছে। বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও প্রাণভয়ে জমি ভোগ দখল করতে পারছি না। স্থানীয় আইন শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে সহাবস্থান নিশ্চিত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান আব্দুল হাকিম মোল্লা।