ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২ আশ্বিন ১৪৩৩ বাংলা

ইতালি রোমে Pisacane স্কুলে‘Taste de World’ উৎসব: খাবার, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির মিলনমেলা

মিনহাজ হোসেন বিশেষ প্রতিনিধি:

ইতালির রাজধানী রোমে বহুসাংস্কৃতিক এলাকা তরপিনাত্ত্বরা এ প্রতি বছরের মতো এবারও অনুষ্ঠিত হলো বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক উৎসব “Taste de World”। স্থানীয় Scuola Carlo Pisacane প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই উৎসবটি নানা ভাষা, সংস্কৃতি ও জাতিগোষ্ঠীর মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়।

দিনব্যাপী আয়োজিত এই উৎসবে বিশ্বের প্রায় ১০টি ভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের খাবারের স্টল বসে। অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন কমিউনিটি নিজেদের ঐতিহ্যবাহী খাবার পরিবেশনের মাধ্যমে দর্শনার্থীদের কাছে নিজস্ব সংস্কৃতি ও রন্ধনশৈলী তুলে ধরেন। ইতালীয়, বাংলা, আরবি, আফ্রিকান ও এশীয় বিভিন্ন স্বাদের খাবারে মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন।

এ আয়োজনের বাংলাদেশী ধুমকেতু সোসাল অর্গেনাইজেশন, মহিলা সংস্থা ইতালি, সঞ্চারী সঙ্গীতায়ন এর অংশগ্রহন ও নানা পরিবেশনা ছিলো অন্যতম।

খাবারের পাশাপাশি উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। সারাদিনজুড়ে লাইভ মিউজিক, নৃত্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দর্শকদের আনন্দ দেয়। শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে আয়োজিত পরিবেশনাগুলো উৎসবে প্রাণচাঞ্চল্য যোগ করে।

আয়োজকরা জানান, এই উৎসবের মূল উদ্দেশ্য হলো স্কুলকে স্থানীয় সমাজের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করা এবং বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্প্রীতি ও ভালোবাসা বৃদ্ধি করা। স্থানীয় বাসিন্দা, অভিবাসী পরিবার এবং স্কুলের শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ উৎসবটিকে এক অসাম্প্রদায়িক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক মিলনমেলায় রূপ দেয়।

পরিবেশ সচেতনতার দিক থেকেও উৎসবটি ছিল ব্যতিক্রমধর্মী। স্থানীয়দের মতে, “Taste de World” শুধু একটি উৎসব নয়, বরং এটি ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সহনশীলতার এক অনন্য উদাহরণ। প্রতি বছরই এই আয়োজন রোমের বহুসাংস্কৃতিক সমাজে সম্প্রীতির বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

বদলগাছীতে পুকুরে ডুবে ৬ বছরের শিশুর মৃত্যু

ইতালি রোমে Pisacane স্কুলে‘Taste de World’ উৎসব: খাবার, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির মিলনমেলা

০৬:০২:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

মিনহাজ হোসেন বিশেষ প্রতিনিধি:

ইতালির রাজধানী রোমে বহুসাংস্কৃতিক এলাকা তরপিনাত্ত্বরা এ প্রতি বছরের মতো এবারও অনুষ্ঠিত হলো বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক উৎসব “Taste de World”। স্থানীয় Scuola Carlo Pisacane প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই উৎসবটি নানা ভাষা, সংস্কৃতি ও জাতিগোষ্ঠীর মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়।

দিনব্যাপী আয়োজিত এই উৎসবে বিশ্বের প্রায় ১০টি ভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের খাবারের স্টল বসে। অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন কমিউনিটি নিজেদের ঐতিহ্যবাহী খাবার পরিবেশনের মাধ্যমে দর্শনার্থীদের কাছে নিজস্ব সংস্কৃতি ও রন্ধনশৈলী তুলে ধরেন। ইতালীয়, বাংলা, আরবি, আফ্রিকান ও এশীয় বিভিন্ন স্বাদের খাবারে মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন।

এ আয়োজনের বাংলাদেশী ধুমকেতু সোসাল অর্গেনাইজেশন, মহিলা সংস্থা ইতালি, সঞ্চারী সঙ্গীতায়ন এর অংশগ্রহন ও নানা পরিবেশনা ছিলো অন্যতম।

খাবারের পাশাপাশি উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। সারাদিনজুড়ে লাইভ মিউজিক, নৃত্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দর্শকদের আনন্দ দেয়। শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে আয়োজিত পরিবেশনাগুলো উৎসবে প্রাণচাঞ্চল্য যোগ করে।

আয়োজকরা জানান, এই উৎসবের মূল উদ্দেশ্য হলো স্কুলকে স্থানীয় সমাজের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করা এবং বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্প্রীতি ও ভালোবাসা বৃদ্ধি করা। স্থানীয় বাসিন্দা, অভিবাসী পরিবার এবং স্কুলের শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ উৎসবটিকে এক অসাম্প্রদায়িক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক মিলনমেলায় রূপ দেয়।

পরিবেশ সচেতনতার দিক থেকেও উৎসবটি ছিল ব্যতিক্রমধর্মী। স্থানীয়দের মতে, “Taste de World” শুধু একটি উৎসব নয়, বরং এটি ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সহনশীলতার এক অনন্য উদাহরণ। প্রতি বছরই এই আয়োজন রোমের বহুসাংস্কৃতিক সমাজে সম্প্রীতির বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে।