
পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি
একটি ঘর, এক চিলতে স্বপ্ন আর মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়—সবই এখন শুধুই ছাই। খুলনার পাইকগাছা উপজেলার উত্তর গড়ের আবাদ গ্রামে অগ্নিকাণ্ডের লেলিহান শিখা কেড়ে নিয়েছে বাকপ্রতিবন্ধী আবু ছিদ্দিক সরদারের বেঁচে থাকার শেষ অবলম্বন। মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে যখন আগুন লাগে, তখন বাকপ্রতিবন্ধী ছিদ্দিক জানতেনও না যে, তার অবর্তমানে পরিবারটি আক্ষরিক অর্থেই পথের ফকির হয়ে যাচ্ছে।
মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে চাঁদখালী ইউনিয়নের উত্তর গড়ের আবাদ গ্রামে এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের ধারণা, বৈদ্যুতিক মিটারের ত্রুটিপূর্ণ সংযোগ (শর্ট সার্কিট) থেকে আগুনের সূত্রপাত। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা ছিদ্দিক সরদারের পুরো বসতঘর গ্রাস করে নেয়। ঘরে থাকা আসবাবপত্র, খাদ্যশস্য এবং পরিধেয় বস্ত্রসহ প্রায় লক্ষাধিক টাকার সম্পদ কয়েক মিনিটের ব্যবধানে ভস্মীভূত হয়।
জীবিকার তাগিদে বাইরে থাকা ছিদ্দিক যখন বাড়ি ফেরেন, তখন তার ঘর বলতে অবশিষ্ট আছে কেবল তপ্ত কয়লা আর ধোঁয়া। ছিদ্দিকের স্ত্রী কাকুলী বেগমের আর্তনাদ যেন থামছেই না। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার সব শেষ হয়ে গেছে। বাচ্চাদের নিয়ে এখন আমি কোথায় দাঁড়াব?” ছোট ছেলে বাজিদের সেই আতঙ্কিত চিৎকার— “মা, আগুন!” এখনও প্রতিবেশীদের কানে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা রসিদ সরদারের মতে, চরম অভাবের মধ্যে তিল তিল করে জমানো অর্থে ছিদ্দিক এই ঘরটি তুলেছিলেন। এখন নতুন করে ঘর তৈরির সামর্থ্য এই পরিবারের নেই।
এই অগ্নিকাণ্ড আবারও পাইকগাছার এক চরম বাস্তবতাকে সামনে এনেছে—একটি পূর্ণাঙ্গ ফায়ার স্টেশনের অভাব। গ্রামবাসীরা প্রাণপণ চেষ্টা করেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেননি। ফায়ার সার্ভিস না থাকায় চোখের সামনে সবকিছু পুড়ে যাওয়া দেখা ছাড়া তাদের কিছুই করার ছিল না।
আর কত ঘর পুড়লে এবং কত মানুষ নিঃস্ব হলে কর্তৃপক্ষের ঘুম ভাঙবে?
একটি জনবহুল উপজেলায় ফায়ার স্টেশন কি সাধারণ মানুষের অধিকার নাকি বিলাসিতা?
আজ ছিদ্দিকের ঘরে আগুন লেগেছে, কাল হয়তো অন্য কারো ঘরে লাগবে। একটি আধুনিক ফায়ার স্টেশন স্থাপন করা এখন পাইকগাছাবাসীর প্রাণের দাবি। বর্তমানে আবু ছিদ্দিক ও তার সন্তানেদের ঠিকানা খোলা আকাশ। এই অসহায় পরিবারটিকে পুনরায় মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দিতে প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবানদের দ্রুত এগিয়ে আসা প্রয়োজন।
প্রতিনিধির নাম 


















