ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২ আশ্বিন ১৪৩৩ বাংলা

মানিকগঞ্জের গড়পাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রপ্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

গত ৫ আগস্ট গড়পাড়া ইউনিয়নের তৎকালীন চেয়ারম্যান ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের আস্থাভাজন আফছার উদ্দিন সরকার পালিয়ে যান। এরপর পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য দেওয়ান মাসুদ রানাকে ভারপ্রাপ্ত প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া পর থেকেই পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ সব সিদ্ধান্ত কারও সঙ্গে আলাপ-আলোচনা না করে এককভাবে বাস্তবায়ন করেন। এ নিয়ে পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব সৃষ্টি হতে থাকে।

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গড়পাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেওয়ান মাসুদ রানার বিরুদ্ধে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে ইউপির নয়জন সদস্য জেলা প্রশাসক ও সদর ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগপত্রে তাঁরা মাসুদ রানার অব্যাহতি চেয়ে নতুন প্যানেল চেয়ারম্যান অথবা প্রশাসক নিয়োগের দাবি করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়ন তথ্যসেবাকেন্দ্রের আয় থেকেও মাসিক ভিত্তিতে অবৈধভাবে অর্থ গ্রহণ, গত ঈদুল ফিতরের আগে ১৫০টি শাড়ি বিতরণের সময় নিজের অনুসারী ও স্বজনদের মধ্যে বিতরণ, উন্নয়ন প্রকল্পের বণ্টনে স্বজনপ্রীতি, অধিকাংশ প্রকল্প নিজের ওয়ার্ডে বরাদ্দ, ৫৮০টি ভিজিএফ কার্ডের মধ্যে ৮০টি কার্ড সদস্যদের দিয়ে ৫০০ ভিজিএফ কার্ড নিজের ইচ্ছামতো বণ্টন করাসহ নানাবিধ অভিযোগ রয়েছে মাসুদ রানার বিরুদ্ধে।

এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের জন্য আসবাবপত্র কেনার একটি প্রকল্পে ১৪টি অফিশিয়াল টেবিল, ১৩টি আর্মড ভিজিটর চেয়ার ও ৫০টি প্লাস্টিক চেয়ার কেনার কথা থাকলেও মাসুদ রানা তা না করে বরাদ্দ করা অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। পরিষদে নিম্নমানের ফার্নিচার সরবরাহ করে অটবি ব্র্যান্ডের ভুয়া ভাউচার দাখিল করার অভিযোগ রয়েছে। ট্যাক্স আদায় করা ৫০ হাজার টাকা পরিষদের ব্যাংক হিসাবে জমা না দিয়ে তা আত্মসাৎ করেছেন। চৌকিদার ট্যাক্স থেকে সংগ্রহ করা ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা নিজের নামে ‘অগ্রিম বেতন’ হিসেবে গ্রহণ করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. আলাল হোসেন জানান, ‘ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাসুদ রানার অনিয়মের বিরুদ্ধে গত ১৫ এপ্রিল জেলা প্রশাসক এবং সদর ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। ওই অভিযোগপত্রে আটজন ইউপি সদস্য স্বেচ্ছায় স্বাক্ষর করেছেন।’ তিনি বলেন, ‘পরিষদে আমরা সবাই সমান সদস্য হলেও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণের পর মাসুদ রানা আমাদের গুরুত্ব না দিয়ে এককভাবে পরিষদ পরিচালনা করছেন। আমরা এমন বৈষম্য চাই না। আমরা মাসুদ রানার দুর্নীতির তদন্ত চাই।’

অভিযুক্ত চেয়ারম্যান দেওয়ান মাসুদ রানা বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়গুলো কোনোভাবেই সত্য নয়। তাহলে আপনার বিরুদ্ধে নয়জন সদস্য অনাস্থা জানিয়ে লিখিত অভিযোগ কেন দিয়েছেন—এমন প্রশ্নে মাসুদ রানা বলেন, ‘পরিষদের কয়েকজন সদস্য বলেছেন, তাঁদের নাকি ভয়ভীতি দেখিয়ে অভিযোগে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। এরপর তাঁরা গত ১৫ মে তাঁদের অভিযোগ পুনরায় প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।’

এ বিষয়ে সদর উপজেলার ইউএনও শেখ মেজবা-উল-সাবেরিন বলেন, ‘কিছুদিন আগে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেটি তদন্তাধীন থাকা অবস্থায় সম্প্রতি অভিযোগটি প্রত্যাহারের আরেকটি আবেদন এসেছে। সদস্যরা কেন অভিযোগ করলেন, এরপর পুনরায় কেন তা প্রত্যাহার করে নিলেন—দুটি বিষয় গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।’ জেলা প্রশাসক ড. মানোয়ার হোসেন মোল্লা বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের অভিযোগের বিষয়টি ইউএনওর মাধ্যমে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

বদলগাছীতে পুকুরে ডুবে ৬ বছরের শিশুর মৃত্যু

মানিকগঞ্জের গড়পাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রপ্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

০১:১০:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ মে ২০২৫

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

গত ৫ আগস্ট গড়পাড়া ইউনিয়নের তৎকালীন চেয়ারম্যান ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের আস্থাভাজন আফছার উদ্দিন সরকার পালিয়ে যান। এরপর পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য দেওয়ান মাসুদ রানাকে ভারপ্রাপ্ত প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া পর থেকেই পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ সব সিদ্ধান্ত কারও সঙ্গে আলাপ-আলোচনা না করে এককভাবে বাস্তবায়ন করেন। এ নিয়ে পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব সৃষ্টি হতে থাকে।

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গড়পাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেওয়ান মাসুদ রানার বিরুদ্ধে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে ইউপির নয়জন সদস্য জেলা প্রশাসক ও সদর ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগপত্রে তাঁরা মাসুদ রানার অব্যাহতি চেয়ে নতুন প্যানেল চেয়ারম্যান অথবা প্রশাসক নিয়োগের দাবি করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়ন তথ্যসেবাকেন্দ্রের আয় থেকেও মাসিক ভিত্তিতে অবৈধভাবে অর্থ গ্রহণ, গত ঈদুল ফিতরের আগে ১৫০টি শাড়ি বিতরণের সময় নিজের অনুসারী ও স্বজনদের মধ্যে বিতরণ, উন্নয়ন প্রকল্পের বণ্টনে স্বজনপ্রীতি, অধিকাংশ প্রকল্প নিজের ওয়ার্ডে বরাদ্দ, ৫৮০টি ভিজিএফ কার্ডের মধ্যে ৮০টি কার্ড সদস্যদের দিয়ে ৫০০ ভিজিএফ কার্ড নিজের ইচ্ছামতো বণ্টন করাসহ নানাবিধ অভিযোগ রয়েছে মাসুদ রানার বিরুদ্ধে।

এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের জন্য আসবাবপত্র কেনার একটি প্রকল্পে ১৪টি অফিশিয়াল টেবিল, ১৩টি আর্মড ভিজিটর চেয়ার ও ৫০টি প্লাস্টিক চেয়ার কেনার কথা থাকলেও মাসুদ রানা তা না করে বরাদ্দ করা অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। পরিষদে নিম্নমানের ফার্নিচার সরবরাহ করে অটবি ব্র্যান্ডের ভুয়া ভাউচার দাখিল করার অভিযোগ রয়েছে। ট্যাক্স আদায় করা ৫০ হাজার টাকা পরিষদের ব্যাংক হিসাবে জমা না দিয়ে তা আত্মসাৎ করেছেন। চৌকিদার ট্যাক্স থেকে সংগ্রহ করা ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা নিজের নামে ‘অগ্রিম বেতন’ হিসেবে গ্রহণ করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. আলাল হোসেন জানান, ‘ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাসুদ রানার অনিয়মের বিরুদ্ধে গত ১৫ এপ্রিল জেলা প্রশাসক এবং সদর ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। ওই অভিযোগপত্রে আটজন ইউপি সদস্য স্বেচ্ছায় স্বাক্ষর করেছেন।’ তিনি বলেন, ‘পরিষদে আমরা সবাই সমান সদস্য হলেও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণের পর মাসুদ রানা আমাদের গুরুত্ব না দিয়ে এককভাবে পরিষদ পরিচালনা করছেন। আমরা এমন বৈষম্য চাই না। আমরা মাসুদ রানার দুর্নীতির তদন্ত চাই।’

অভিযুক্ত চেয়ারম্যান দেওয়ান মাসুদ রানা বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়গুলো কোনোভাবেই সত্য নয়। তাহলে আপনার বিরুদ্ধে নয়জন সদস্য অনাস্থা জানিয়ে লিখিত অভিযোগ কেন দিয়েছেন—এমন প্রশ্নে মাসুদ রানা বলেন, ‘পরিষদের কয়েকজন সদস্য বলেছেন, তাঁদের নাকি ভয়ভীতি দেখিয়ে অভিযোগে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। এরপর তাঁরা গত ১৫ মে তাঁদের অভিযোগ পুনরায় প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।’

এ বিষয়ে সদর উপজেলার ইউএনও শেখ মেজবা-উল-সাবেরিন বলেন, ‘কিছুদিন আগে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেটি তদন্তাধীন থাকা অবস্থায় সম্প্রতি অভিযোগটি প্রত্যাহারের আরেকটি আবেদন এসেছে। সদস্যরা কেন অভিযোগ করলেন, এরপর পুনরায় কেন তা প্রত্যাহার করে নিলেন—দুটি বিষয় গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।’ জেলা প্রশাসক ড. মানোয়ার হোসেন মোল্লা বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের অভিযোগের বিষয়টি ইউএনওর মাধ্যমে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।