ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২ আশ্বিন ১৪৩৩ বাংলা

স্বস্তি ফিরে পেলেন ১১ তম বিসিএস ক্যাডার রত্না গর্ভা মায়ের সন্তান ড. ফরিদুল ইসলাম

কামরুজ্জামান শিমুল বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি

সস্তি ফিরে পেয়েছেন ১১ তম বিসিএস ক্যাডার রত্নগর্ভা মায়ের সন্তান ড. ফরিদুল ইসলাম। মাস্টার্স অধ্যায়নরত থাকাকালীন ১১ তম বিসিএসে চাকরি পাওয়া দারুন মেধাবী ড. ফরিদুল ইসলাম ১৯ বছর পর সচিব পদে পদোন্নতি পেলেন। এর আগে স্বৈরাচারী হাসিনা সরকার তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে অবসরে পাঠিয়েছিলেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গত ৯ ফেব্রুয়ারি উন্নয়নের কারিগর খ্যাত বাগেরহাটের কৃতি সন্তান ড. ফরিদুল ইসলামকে ‘ভূতাপেক্ষ’ পদোন্নতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেন।

সেবার ব্রত নিয়ে বাবার নামে গড়ে তুলেছেন “লতিফ মাস্টার ফাউন্ডেশন” নামের একটি সেচ্ছাসেবী সংগঠন। সকল ভাই-বোনেরা মিলে পৈতৃকসূত্রে পাওয়া সম্পত্তি দান করেছেন সেই ফাউন্ডেশনের নামে। গড়ে তুলেছেন দৃষ্টিনন্দন মডেল মসজিদ, এতিম ও বৃদ্ধা নিবাস, পাবলিক লাইব্রেরি, স্পোর্টিং ক্লাব ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং প্রবীনদের জন্য থেরাপি সেন্টার। রয়েছে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প। স্থায়ীভাবে পানির সংকট মেটাতে চলছে ওয়াটার প্লান্ট এর পরিকল্পনা। এ সব কিছু তাদের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণ ও বাস্তবায়ন হচ্ছে।

মাস্টার্স ডিগ্রির ইন্টারভিউর সময়ই খবর পান ১১তম বিসিএসে চাকরি হয়েছেতার। চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগেই ১ম শ্রেণি পেয়ে এম.এস.সি (এগ্রিকালচার) ডিগ্রি অর্জন করেন। আইন পেশায়ও ডিগ্রি নিয়েছেন তিনি। টাঙ্গাইল সদর উপজেলার এসি ল্যান্ড হিসেবে কর্মরত থাকার সময় টাঙ্গাইল কলেজ থেকে এলএলবি (প্রথম পার্ট) পাশ করেন। ১/১১ এর সময় ভুয়া অভিযোগে তদন্তের সম্মুখীন হন তিনি। টাস্কফোর্সের তদন্তে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের কোনো প্রমাণ মেলেনা সে সময়। দ্বিতীয় দফায় তদন্ত শুরু হয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলে আবারও অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এবার তাকে লিখিতভাবে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনে পাবলিক পলিসিতে ডিপ্লোমা ডিগ্রি অর্জন করেন। তাছাড়া লন্ডন ইউনিভার্সিটি থেকে পাবলিক পলিসিতে উচ্চতর প্রশিক্ষণসহ দেশ-বিদেশে বহু প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। ড. ফরিদুল ইসলাম পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ে পিএইচডি স্কলারশিপের জন্য আবেদন করলে জাইকার অর্থায়নে ৪ বছরের স্কলারশিপ পান। কিন্তু চাকুরি স্থল থেকে অনুমতি না দেওয়ায় তার আশা ভঙ্গ হয়। 

সরকারি নিয়মনীতি অনুসরন করে বিপিএটিসি ও সিংগাপুরে অনুষ্ঠিত সরকারি প্রশিক্ষণ MAAT-1 এ পর্যাপ্ত যোগ্যতা অর্জন করায় MAAT-2 এ মনোনিত হয়ে London Wolver hampton Universityতে পড়াশোনা করার সুযোগ পান তিনি। জনপ্রশাসন থেকে অবসরে যাওয়া সাবেক ৭৬৪ জন কর্মকর্তাকে গত ৯ ফেব্রুয়ারি ‘ভূতাপেক্ষ’ পদোন্নতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। উপসচিব থেকে সচিব পর্যন্ত এই পদোন্নতি দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে ১১৯ জন সচিব পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। এর মধ্যে কেউ ১৬ বছর পদোন্নতি পাননি, কেউ পাননি ১৯ বছর। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে বঞ্চনার শিকার ড. ফরিদুল ইসলাম তাদেরই একজন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

বদলগাছীতে পুকুরে ডুবে ৬ বছরের শিশুর মৃত্যু

স্বস্তি ফিরে পেলেন ১১ তম বিসিএস ক্যাডার রত্না গর্ভা মায়ের সন্তান ড. ফরিদুল ইসলাম

০৭:২০:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

কামরুজ্জামান শিমুল বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি

সস্তি ফিরে পেয়েছেন ১১ তম বিসিএস ক্যাডার রত্নগর্ভা মায়ের সন্তান ড. ফরিদুল ইসলাম। মাস্টার্স অধ্যায়নরত থাকাকালীন ১১ তম বিসিএসে চাকরি পাওয়া দারুন মেধাবী ড. ফরিদুল ইসলাম ১৯ বছর পর সচিব পদে পদোন্নতি পেলেন। এর আগে স্বৈরাচারী হাসিনা সরকার তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে অবসরে পাঠিয়েছিলেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গত ৯ ফেব্রুয়ারি উন্নয়নের কারিগর খ্যাত বাগেরহাটের কৃতি সন্তান ড. ফরিদুল ইসলামকে ‘ভূতাপেক্ষ’ পদোন্নতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেন।

সেবার ব্রত নিয়ে বাবার নামে গড়ে তুলেছেন “লতিফ মাস্টার ফাউন্ডেশন” নামের একটি সেচ্ছাসেবী সংগঠন। সকল ভাই-বোনেরা মিলে পৈতৃকসূত্রে পাওয়া সম্পত্তি দান করেছেন সেই ফাউন্ডেশনের নামে। গড়ে তুলেছেন দৃষ্টিনন্দন মডেল মসজিদ, এতিম ও বৃদ্ধা নিবাস, পাবলিক লাইব্রেরি, স্পোর্টিং ক্লাব ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং প্রবীনদের জন্য থেরাপি সেন্টার। রয়েছে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প। স্থায়ীভাবে পানির সংকট মেটাতে চলছে ওয়াটার প্লান্ট এর পরিকল্পনা। এ সব কিছু তাদের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণ ও বাস্তবায়ন হচ্ছে।

মাস্টার্স ডিগ্রির ইন্টারভিউর সময়ই খবর পান ১১তম বিসিএসে চাকরি হয়েছেতার। চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগেই ১ম শ্রেণি পেয়ে এম.এস.সি (এগ্রিকালচার) ডিগ্রি অর্জন করেন। আইন পেশায়ও ডিগ্রি নিয়েছেন তিনি। টাঙ্গাইল সদর উপজেলার এসি ল্যান্ড হিসেবে কর্মরত থাকার সময় টাঙ্গাইল কলেজ থেকে এলএলবি (প্রথম পার্ট) পাশ করেন। ১/১১ এর সময় ভুয়া অভিযোগে তদন্তের সম্মুখীন হন তিনি। টাস্কফোর্সের তদন্তে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের কোনো প্রমাণ মেলেনা সে সময়। দ্বিতীয় দফায় তদন্ত শুরু হয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলে আবারও অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এবার তাকে লিখিতভাবে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনে পাবলিক পলিসিতে ডিপ্লোমা ডিগ্রি অর্জন করেন। তাছাড়া লন্ডন ইউনিভার্সিটি থেকে পাবলিক পলিসিতে উচ্চতর প্রশিক্ষণসহ দেশ-বিদেশে বহু প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। ড. ফরিদুল ইসলাম পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ে পিএইচডি স্কলারশিপের জন্য আবেদন করলে জাইকার অর্থায়নে ৪ বছরের স্কলারশিপ পান। কিন্তু চাকুরি স্থল থেকে অনুমতি না দেওয়ায় তার আশা ভঙ্গ হয়। 

সরকারি নিয়মনীতি অনুসরন করে বিপিএটিসি ও সিংগাপুরে অনুষ্ঠিত সরকারি প্রশিক্ষণ MAAT-1 এ পর্যাপ্ত যোগ্যতা অর্জন করায় MAAT-2 এ মনোনিত হয়ে London Wolver hampton Universityতে পড়াশোনা করার সুযোগ পান তিনি। জনপ্রশাসন থেকে অবসরে যাওয়া সাবেক ৭৬৪ জন কর্মকর্তাকে গত ৯ ফেব্রুয়ারি ‘ভূতাপেক্ষ’ পদোন্নতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। উপসচিব থেকে সচিব পর্যন্ত এই পদোন্নতি দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে ১১৯ জন সচিব পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। এর মধ্যে কেউ ১৬ বছর পদোন্নতি পাননি, কেউ পাননি ১৯ বছর। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে বঞ্চনার শিকার ড. ফরিদুল ইসলাম তাদেরই একজন।