লবণাক্ততা আর দুর্যোগে কয়রায় পানির হাহাকার: সমাধানে জোর দিলেন বিশেষজ্ঞরা

কয়রা, (খুলনা) প্রতিনিধি

দুর্যোগপ্রবণ উপকূলীয় উপজেলা কয়রায় সুপেয় পানির সংকট যেন নিত্যসঙ্গী। বছরের পর বছর ধরে লবণাক্ততা, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের কারণে এখানকার মানুষ বিশুদ্ধ পানি পাওয়া থেকে বঞ্চিত। বিশেষ করে উপকূলের প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে নিরাপদ পানি সংগ্রহ এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই সংকটের টেকসই সমাধান ও জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) উপজেলা বিআরডিবি হলরুমে এক অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা কোয়িকারের অর্থায়নে এবং জেজেএসের ইআরসিসি-২ প্রকল্পের বাস্তবায়নে সকাল ১১টায় সভাটি শুরু হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে কয়রার ভূগর্ভস্থ পানি দিন দিন লবণাক্ত হয়ে পড়ছে। পুকুর-পানি নোনা হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ বিকল্প কোনো পথ পাচ্ছে না। ফলে ডায়রিয়া, চর্মরোগসহ নানা পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা।
সংকট মোকাবিলায় স্থানীয় বাস্তবতাকে গুরুত্ব দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা বলেন উপস্থিত অতিথিরা। তারা সুপেয় পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং, পুকুর সংরক্ষণ, পানি শোধনাগার স্থাপন এবং সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দেন। একইসঙ্গে পানি সংরক্ষণ ও সঠিক ব্যবহারে স্থানীয় জনগণকে আরও সচেতন করার তাগিদ দেওয়া হয়।
জেজেএস ইআরসিসি-২ প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়কারী নাসির উদ্দীনের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী ইশতিয়াক আহমেদ, বিআরডিবি অফিসার মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন, ইউএও শান্তনু অধিকারী, ইউপি সদস্য শেখ সেরাজুল ইসলাম, বিভূতি বিশ্বাস, মিতা মন্ডল, মৎস্য অফিসার সাদ্দাম হোসেন, ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটর শরিফুর রহমান, মোছা. নুসরাত জাহানসহ প্রকল্পের উপকারভোগী নাছিমা খাতুন ও সালমা আক্তার।
সভার শেষে বক্তারা বলেন, শুধু প্রকল্প নয়, কয়রার মানুষকে পানির সংকট থেকে বাঁচাতে হলে জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, এনজিও ও সাধারণ মানুষকে একসাথে কাজ করতে হবে। তাহলেই উপকূলের এই জনপদে প্রতিটি ঘরে নিরাপদ পানি পৌঁছানো সম্ভব হবে।

অন্যান্য খবর