এক রাতেই শেষ ১২ বিঘা পটলক্ষেত, দিশেহারা বদলগাছীর কৃষকরা

মোঃ হিমেল হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধি

নওগাঁর বদলগাছীতে রাতের আঁধারে প্রায় ১২ বিঘা জমির পটলগাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এতে উপজেলার বালুভরা ইউনিয়নের দোনইল গ্রামের ১০ থেকে ১২ জন কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ভুক্তভোগীদের দাবি, এ ঘটনায় তাদের প্রায় ৫ থেকে ৭ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে দোনইল গ্রামের বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে এ ঘটনা ঘটে। সকালে জমিতে গিয়ে কৃষকেরা দেখতে পান, পটলগাছগুলোর গোড়া কেটে দেওয়া হয়েছে। কোথাও কাঁচা-পাকা পটলসহ লতাগুলো মাটিতে পড়ে আছে, আবার কোথাও কেটে দেওয়া গাছ শুকিয়ে যেতে শুরু করেছে। কয়েক দিন আগেও যে মাঠ সবুজ পটলগাছে পরিপূর্ণ ছিল, রাতারাতি সেখানে দেখা দিয়েছে ক্ষতির চিহ্ন।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা জানান, চলতি মৌসুমে এসব জমিতে পটলের ফলন ভালো হয়েছিল। অনেক কৃষকের গাছে ইতোমধ্যে নিয়মিত পটল ধরতে শুরু করেছিল। প্রতি সপ্তাহে মিলিয়ে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ মণ পটল ক্ষেত থেকে সংগ্রহ করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হচ্ছিল। ফসল বিক্রির আয় দিয়েই পরিবারের দৈনন্দিন খরচ, সন্তানদের পড়াশোনার ব্যয় এবং কৃষিকাজে নেওয়া ঋণ পরিশোধের পরিকল্পনা করেছিলেন তারা।

কৃষকদের অভিযোগ, পূর্বপরিকল্পিতভাবে রাতের কোনো একসময় দুর্বৃত্তরা ক্ষেতের বিভিন্ন অংশে ঢুকে পটলগাছের গোড়া কেটে দেয়। সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা নিজেদের জমিতে গিয়ে এমন দৃশ্য দেখতে পান। এতে একদিকে যেমন চলতি মৌসুমের ফসল নষ্ট হয়েছে, অন্যদিকে নতুন করে জমিতে চাষাবাদ করতে তাদের অতিরিক্ত অর্থ ও সময় ব্যয় করতে হবে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আব্দুস সালাম বলেন, “ধারদেনা করে অনেক কষ্টে পটল চাষ করেছি। সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের পেছনে অনেক টাকা খরচ হয়েছে। ফসল বিক্রি করে সেই ঋণ পরিশোধের আশা করেছিলাম। কিন্তু এক রাতেই সব শেষ হয়ে গেল।”

আরেক কৃষক ইসরাফিল বলেন, সকালে জমিতে এসে তিনি দেখতে পান পটলগাছের গোড়াগুলো কেটে দেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য, পরিবারের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস ছিল এই পটল চাষ। ফসল নষ্ট হওয়ায় তিনি এখন আর্থিক সংকটে পড়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, কৃষকেরা দীর্ঘদিন ধরে এসব জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করে আসছেন। হঠাৎ করে বিপুল পরিমাণ পটলগাছ কেটে ফেলার ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা।

বদলগাছী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি দুঃখজনক। তবে এ বিষয়ে এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যান্য খবর