নিয়মিত জামায়াতে নামাজ আদায় করায় শিশু-কিশোরদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ

পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি:

বরগুনার পাথরঘাটা ও বামনা উপজেলার সীমান্তবর্তী রায়হানপুর ইউনিয়ন সংলগ্ন চরকখোলা প্রাইমারীর সম্মুখে অবস্থিত ইমাম হাসান ও হোসাইনিয়া জামে মসজিদে নিয়মিত জামায়াতে নামাজ আদায়কারী শিশু-কিশোরদের উৎসাহিত করতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবে পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) জুমার নামাজের পূর্বে টানা দুই সপ্তাহ পাঁচ ওয়াক্ত জামায়াতে অংশগ্রহণকারী প্রায় ২০ জন শিশু-কিশোর ও মুসল্লির হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। এ সময় মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং মুসল্লিরা উপস্থিত ছিলেন।

মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা মুহা. ইব্রাহীম খলীল জানান, মহান আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের ওপর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছেন। ছোটবেলা থেকেই শিশু-কিশোরদের মাঝে নামাজের অভ্যাস, মসজিদমুখী জীবন গঠন এবং দ্বীনি মূল্যবোধ জাগ্রত করার উদ্দেশ্যেই এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এই মহতী উদ্যোগে পুরস্কার প্রদানে সহযোগিতা করেন মসজিদের মুসল্লি ও পরিচিত ফ্রিল্যান্সার মো. বেলাল হোসাইন।

এমন আয়োজনে প্রতিদিনই শিশু-কিশোরদের পাশাপাশি অন্যান্য মুসল্লিদের উপস্থিতিও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে মসজিদ প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে উঠছে। স্থানীয়রা এ উদ্যোগকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, শিশুদের হাতে খেলনা নয়, নামাজের পুরস্কার তুলে দেওয়া সমাজের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।

আয়োজকরা জানান, প্রথমে এক সপ্তাহের জন্য কর্মসূচি শুরু হলেও ব্যাপক সাড়া পাওয়ায় তা দুই সপ্তাহে সম্প্রসারণ করা হয়েছে। বর্তমানে এক মাসব্যাপী এ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ভবিষ্যতে এটি ৪১ দিনব্যাপী পরিচালনারও পরিকল্পনা রয়েছে।

মহানবী সা. বলেছেন, “বান্দা ও কুফর-শিরকের মাঝে পার্থক্য হলো নামাজ ত্যাগ করা।” (সহিহ মুসলিম)।
অন্য হাদিসে এসেছে, “যে ব্যক্তি চল্লিশ দিন আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য প্রথম তাকবিরসহ জামায়াতে নামাজ আদায় করবে, তার জন্য দুটি মুক্তি লেখা হবে—* জাহান্নাম থেকে মুক্তি এবং * মুনাফিকি থেকে মুক্তি।” (জামে তিরমিজি)

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন:
“তোমরা নামাজ কায়েম করো, যাকাত প্রদান করো এবং রুকুকারীদের সঙ্গে রুকু করো।”
(সুরা আল-বাকারা: ৪৩)

এ ধরনের উদ্যোগ শুধু শিশু-কিশোরদের নয়, বরং পুরো সমাজকে মসজিদমুখী করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তাঁদের প্রত্যাশা, দেশের প্রতিটি মসজিদে এমন উৎসাহমূলক কার্যক্রম চালু হলে নতুন প্রজন্ম কুরআন, সুন্নাহ ও জামায়াতে নামাজের প্রতি আরও বেশি আকৃষ্ট হবে এবং মসজিদ হবে সমাজ গঠনের প্রাণকেন্দ্র।

অন্যান্য খবর