বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

ডুমুরিয়ার কৃষ্ণনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দূর্নীতি ঢাকতে শিক্ষকের নানা জায়গায় ধর্ণা ঃ সাবেক সভাপতিকে প্রাণনাশের হুমকি

খান আরিফুজ্জামান(নয়ন),ডুমুরিয়া(খুলনা)প্রতিনিধিঃ

ডুমুরিয়ার কৃষ্ণনগর এম বি বি এস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কতিপয় শিক্ষকের ১৭ পৃষ্ঠার দূর্নীতির ফিরিস্থির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের ইন্সট্রাক্টর মোঃ মনির হোসেনকে। এদিকে অপকর্ম ঢাকতে বিভিন্ন দপ্তরে এবং একাধিক প্রভাবশালীর কাছে ধর্ণা দিচ্ছেন দূর্নীতির সাথে জড়িত কতিপয় শিক্ষক। ষড়যন্ত্রের জালে ফাসাঁতে চাচ্ছেন সাবেক সভাপতিকে। প্রতিনিয়ত দিচ্ছেন নানা প্রকার হুমকি। নিরুপায় হয়ে নিজেকে রক্ষায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে সোমবার আলাদা আবেদন করেছেন সাবেক সভাপতি স্বপন কুমার বিশ্বাস।

কৃষ্ণনগর এমবিবিএস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের নানা অনিয়ম ও দূর্নীতির প্রতিকার চেয়ে এলাকাবাসী ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র জনতার পক্ষে গত ৫ সেপ্টেম্বর মনিতোষ মন্ডল উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আল আমিন অভিযোগটি তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের ইন্সট্রাক্টর মোঃ মনির হোসেনকে। এদিকে ওই প্রতিষ্ঠানটির অনিয়ম ও দূর্নীতি নিয়ে একাধিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দেওয়া ও সংবাদ কর্মীদের বিভিন্ন তথ্য দেওয়ার জন্য দূর্নীতিবাজ শিক্ষকরা সাবেক সভাপতি স্বপন কুমার মন্ডলকে দায়ি করছেন। তারা এসব অপকর্ম ঢাকতে এবং সাবেক সভাপতিকে শাহেস্থা করতে নানা প্রকার ষড়যন্ত্র করছেন বলে অভিযোগ উঠছে। প্রতিদিন প্রধান শিক্ষক বিমান কুমার রায়সহ বেশ কয়েকজন উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরে যেয়ে ধর্ণা দিচ্ছেন। সোমবার দুপুরে সাবেক সভাপতির প্রাণ নাশের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। এসময়ে তার সাথে দু’জন অভিভাবক সদস্য ছিলেন। তাদেরকে ফোন করে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানান। এসব ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আল-আমিন বলেন, দূর্নীতি বন্ধে সকল প্রকার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। হুমকি ও জীবননাশের ঘটনা সত্য হলে অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।  উল্লেখ্য, সহকারী প্রধান শিক্ষক বিচরণ হালদার ১ যুগ ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছেন। এ এক যুগে অনেক শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে কমপক্ষে এক কোটি টাকার উৎকোচ গ্রহন করেছেন। সর্বশেষ ভ্থয়া চিঠির মাধ্যমে চতুর্থ শ্রেণীর ৩ টি পদে পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠলে এলাকাবাসী মানববন্ধন করেন। এ সময়ে ম্যানেজিং কমিটির সদস্য, এলাকাবাসী এবং শিক্ষকদের সমন্বয়ে একটি সভা হয়। ওই সভায় শিক্ষক বিচরণ হালদার ঘুষের ৯ লাখ টাকা প্রতিষ্ঠানে দিতে অঙ্গিকার করেন। সকলের উপস্থিতিতে গত ২২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর একটি চেক এবং একটি লিখিত অঙ্গিকারনামা প্রদান করেণ শিক্ষক বিচরণ হালদার। তবে ওই টাকা এখনও প্রতিষ্ঠানে তিনি দেননি। এছাড়া বিভিন্ন সময় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের কথা বলে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করলেও কোন উন্নয়নমুলক কাজ না করেই সমুদয় টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। সদ্য সাবেক সভাপতি স্বপন বিশ্বাস বলেন, বিচরণ হালদার লিখিত অঙ্গিকার করেও ঘুষের টাকা বিদ্যালয়ে জমা দেয়নি। এমনকি ভ্থক্তভোগিদেরও ওই টাকা ফেরত দেয়নি বলে তিনি জানান। এদিকে এসব অনিয়ম বন্ধে গত সপ্তাহে এলাকাবাসী ও বেশকয়েকজন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতা ওই প্রতিষ্ঠানে গেলে শিক্ষক বিচরণ হালদারের একটি পোষা বাহিনী বহিরাগত কিছু দুষ্টু লোকদের এনে নানা প্রকার সন্ত্রাসী আচারণ করে প্রতিবাদী এলাকাবাসীকে প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দেয় ।

থেকে আরও পড়ুন