বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

যাত্রাপুরে গৃহবধূকে বেধড়ক মারপিটের অভিযোগ

কামরুজ্জামান শিমুল বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি

রাস্তায় ফেলে ইয়াসমিন আক্তার (৩৭) নামের এক গৃহবধূকে বেধড়ক মারপিটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে বাগেরহাট জেলা সদরের যাত্রাপুর এলাকায়। সে ওই এলাকার মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম মোড়লের স্ত্রী। এ বিষয়ে নির্যাতিতা গৃহবধুর স্বামী বাগেরহাট মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করলেও এখন পর্যন্ত ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ। পরিবারের সবাইকে প্রাণ নাশের হুমকি দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইয়াসমিন আক্তার। গত (৭ আগস্ট) বুধবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে যাত্রাপুর এলাকার মৃত খেলাফত মোড়লের ছেলে মোকাদ্দেস মোড়ল ও তার ছেলে বাপ্পি মোড়ল এলাকার হালিমা বেগমের বাড়ি ও সীমানার গড়াবেড়া ভাঙচুর করে। বিষয়টি জানতে চাওয়ার অপরাধে বাপ বেটা দুজনে মিলে পিচের রাস্তার উপর ফেলে বেধড়ক মারপিট করে। মুমূর্ষ অবস্থায় স্থানীয়রা উদ্ধার করে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। এর আগেও একবার সে আমাকে রক্তাক্ত জখম করেছিল বলে জানান ইয়াসমিন আক্তার।

হালিমা বেগম জানান, মোকাদ্দেস মোড়ল এবং মোয়াজ্জেম মোড়ল আমার ভাই। জমি পাবে বলে মোকাদ্দেস মোড়ল জোরপূর্বক আমার বাড়িতে প্রবেশ করে বাড়ি ও সীমানার গড়াবেড়া ভাঙচুর করে। একাধিকবার সে আমাকে মারপিট করেছে। ভাঙচুরের ব্যাপারে জানতে চাওয়ার অপরাধে তারা ইয়াসমিন আকতারকে বেধড়ক পিটিয়েছে। তারা জামাত-বিএনপি’র রাজনীতির সাথে জড়িত বলে আমাদেরকে শাসিয়ে গেছে। ভয়ে আছি আবার কখন যেন এসে মারপিট শুরু করে। বাপ – বেটার ভয়ে এলাকার কেউ কথা বলতে সাহস পায় না। প্রতিবেশী সালমা সুলতানা বলেন, মোকাদ্দেস মোড়ল একজন নারী বিদ্বেষী। এ পর্যন্ত সে পাঁচজন নারীর গায়ে হাত তুলেছে। সে তার স্ত্রীকেও ভীষণ মারপিট করে। বিনা কারণে সে আমাকেও মেরেছে। তিন চার বছর আগে ইয়াসমিন আকতারকে মেরে রক্তাক্ত জখম করেছিল। আবারো সেদিন রাস্তার উপর ফেলে বাপ বেটা দুজনে মিলে ভীষণ মার মেরেছে। এদের কঠিন বিচার হওয়া উচিত।

নির্যাতিতার স্বামী মোয়াজ্জেম মোড়ল জানান, মোকাদ্দেস মোড়ল আমার ভাই হলেও সে একজন অত্যাচারী। সে আমার পরিবারের সবাইকে হত্যা করতে চায়। আগেও একবার আমার স্ত্রীকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় আঘাত করে। পরে আমরা পারিবারিকভাবে বিষয়টা মীমাংসা করি। কিন্তু এবার আবারো আমার স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তারকে রাস্তার উপর ফেলে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে। সে হাসপাতালে ভর্তি ছিল। বিষয়টি সেনাবাহিনীকে জানিয়েছি, থানায় অভিযোগ দিয়েছি। এখনো পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন।

ঘটনার বিষয়ে মোকাদ্দেস মোড়ল মোবাইলে জানান, ইয়াসমিন আক্তার ও আমার বাড়ি একই জায়গায়। আমার দূরে জমির সীমানায় যদি সে ক্ষমতা দেখায় তবে আমি কি করবো। আমাদের র‍্যাবের সদস্য আছে, নাম্বার দিয়ে দিতেছি তারা আপনার সাথে কথা বলবে। আমার পিতাকে এই মোয়াজ্জেম ঘরে আটকে রেখে জমি দলিল করে নিয়েছে। আপনারা আসেন তদন্ত করেন। বাগেরহাট সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ সাইদুর রহমান বলেন, থানায় অভিযোগ দিলে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

থেকে আরও পড়ুন