
নিজস্ব প্রতিনিধি:
কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন সরকারের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধায়নে চলছে অবাধে বনভূমি দখল নিত্যনতুন পদ্ধতিতে বনের জমি জবর দখল হচ্ছে। কোথাও কোথাও বনভূমি কেটে সমতল করে পাকা দালান থেকে শুরু করে পোলট্রি ফার্ম ও নানা স্থাপনাসহ বনভূমির প্রায় সিংহ ভাগ জায়গায় দখলবাজরা নিয়মিত পাহাড় কেটে পাকা ঘর নির্মাণ ও পাহাড়ি মাটি অবৈধভাবে বিক্রি করছে।
কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের ফুলছড়ি রেঞ্জ এর আওতাধীন রাজঘাট
বিটের এলাকা রাজঘাটে বনের জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণকারীদের কে ৫০হাজার থেকে লাখ টাকায় অনুমতি দিয়ে রাজঘাট বিট কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহাআলম
একর্মকর্তা শাহাআলমের সহযোগিতায় ভূমিদস্যুরা নির্বিচারে ধ্বংস করছে বনভূমি। পাহাড় কাটা, সমাজিক বনায়ন প্লট দখল ও ভবন নির্মাণসহ রিজার্ভ বনভূমি থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালি উত্তোলন করে চিহ্নিত ভূমিদস্যুর এসুযোগ কাজে লাগিয়ে বিট কর্মকর্তা শাহাআলম নামের এ কর্মকর্তা হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা অবগত হলেও অজ্ঞাত কারণে উদাসীনতা প্রদর্শন করে আসছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের রাজঘাট এলাকায় গড়ে তোলা হচ্ছে বহতল ভবনটি।
বন বিভাগের সূত্রে জানা যায়,প্রায় ৭ মাসে আগে শাহাআলম নামের এ কর্মকর্তা যোগদান করার পর থেকে শুরু হয়েছে বিট এলাকায় চাঁদাবাজির মহোৎসব। তার চাঁদাবাজিতে কেউ বাঁধা প্রধান করিলে তার শক্তিশালী সিন্ডিকেট দিয়ে হুমকি প্রধান করে।
বনবিভাগের জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণে চাঁদাবাজির বিষয়টি উঠে আসায় ঘটনা ধামাচাপা দিতে রাজঘাট বিট কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহাআলম শুরু করে বাকযুদ্ধ। রহস্যজনক কারণে বনবিট কর্মকর্তাই অবৈধ দখলদারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না নিয়ে বহুতল ভবন নির্মাণ কাজে উৎসাহ দেন বলে অভিযোগ এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
এতে জীববৈচিত্রও ধ্বংস হচ্ছে। পরিবেশের এই বিপন্নতা নিয়ে বন বিভাগ একেবারেই উদাসীন। বনজমি দখলদারদের বিরুদ্ধে বন বিভাগ জিরো টলারেন্সে থাকার ঘোষনা দিলেও মাঠপর্যায়ে এ ঘোষনা তেমন কার্যকর হচ্ছে না। বন কর্মকর্তা গুটিকয়েক ভূমিদস্যুদের সাথে শাহাআলম আতাত করায় বনজমি দখলের হিড়িক আগের চেয়ে দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ। চিহ্নিত এই বনভূমি দখলবাজরা ভবন নির্মাণ করে ভাড়া দিলেও সংশ্লিষ্ট বনকর্তারা তাদের আইন প্রয়োগে রহস্যজনক ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।
বহুতল ভবন নির্মানকারীদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান আমারা বিট কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহাআলম ও হ্যাডম্যান ভিলেজার কে লাখ লাখ টাকা দিয়ে ঘর করি তাই আমাদের আর বাড়ী নির্মাণ করতে কোন সমস্যা হবে না বলেও জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত এই বিষয় নিয়ে রাজঘাট বিট কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহাআলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান আমরা এই বিষয় নিয়ে বসে সমাধান করবো
এই বিষয় ফুলছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির
সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয় টা তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলা হবে বলে জানান।
কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের সহকারি বন সংরক্ষক প্রান্তোষ চন্দ্র রায় জানান, কাউকেই বন বিভাগের জায়গায় বহুতল ভবন নির্মাণ করতে দেয়া হবে না। অবৈধ দখলদারের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়াও শাহাআলম ভূমিদস্যুদের থেকে টাকা নেওয়ার বিষয় প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হবে।
এ ব্যাপারে কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ আনোয়ার হোসেন সরকার’র মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিয়ে রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এলাকার লোকজন জানান, প্রতিটি এলাকায় বন ভূমি দখলকারীরা স্থানীয় বিট অফিসে অসাধু বন কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করে মোটা অংকের নজরানা দিয়ে বন ভূমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ সহ অবৈধ দখলে নিয়ে থাকেন। তবে এই বিপুল পরিমাণ বেদখলী বনভূমি উদ্ধারে পদক্ষেপ গ্রহণ প্রয়োজন বলে বন বিশেষজ্ঞগন মনে করেন।
