
খান আরিফুজ্জামান(নয়ন),ডুমুরিয়া(খুলনা)প্রতিনিধি
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার সাহস ইউপি সদস্যকে মারপিট করে ভিজিএফ-এর কার্ড সহ টাকা ও চেন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে।
থানার লিখিত অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, গত ১১ জুন (২০২৪ ইং) মঙ্গলবার সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৬ টায় পরিষদের থেকে বাড়ি ফেরার পথে তাকে(ইউপি)কে মারপিট করে ঈদুল আজহার ভিজিএফ-এর কার্ড সহ নগদ অর্থ সোনার চেন কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় একই ইউনিয়নের সাহস কুমারঘাটা গ্রামের আসাদুল খান,ইনামুল শেখ ও আব্দুল্লাহ সরদারের বিরুদ্ধে ডুমুরিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন উপজেলার সাহস ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বিবেকানন্দ বিশ্বাস।
ইউপি সদস্য বিবেকানন্দ বিশ্বাস প্রতিবেদককে বলেন,পূর্ব শত্রুতার জের ধরে গত ১১ জুন সন্ধ্যায় তিনি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বাড়ি ফেরার পথে রাস্তায় ওঠা মাত্রই পূর্ব হতে ওত পেতে থাকা আসাদুল গংরা আমার উপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে হাতুড়ি ও লোহার রড দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে এবং আমার কাছে থাকা নগদ টাকা, গলার স্বর্ণের চেইন ও ১৬৩ টি ভিজিএফ -এর কার্ড ছিনিয়ে নিয়ে জীবন নাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
সরেজমিন ও দায়িত্বশীল তথ্যসূত্রে জানা যায়, ঘটনার বিষয়ে আসাদুল খান প্রতিবেদককে বলেন,ইউপি সদস্য বিবেকানন্দ বিশ্বাস আমার এলাকার ইউপি সদস্য দীর্ঘদিন তার সাথে আমার সখ্যতা রয়েছে।উনাকে আমি আমার বড় দাদা’র মতো সম্মান করি।উনার (ইউপি সদস্য) সাথে দীর্ঘদিন আমার সখ্যতা থাকায় আমরা উভয়ই আর্থিক লেনদেন করে থাকি সেই সুবাধে উনি আমার নিকট থেকে ২০ হাজার টাকা ধার নেন টাকাটি দীর্ঘদিন ধার নিয়েছেন কিন্তু আমি টাকা ফেরত চাইলে উনি টাকা ফেরত দিতে বিভিন্ন টালবাহানা করেন।গত ১১ জুন উনি ইউনিয়ন পরিষদে আসেন আমিও উনার আসার খবর পেয়ে ইউনিয়ন পরিষদে যাই এবং আমি বার বার আমার ধার দেওয়া টাকা ফেরত চাইলে দিচ্ছি দেবো বলে বলে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে করতে প্রায় সন্ধ্যা হয়ে আসে সন্ধ্যা প্রায় উনি বাড়ি চলে যাচ্ছেন তখন বলছে আমি টাকা দিতে পারবোনা তখন আমি বলছি দাদা আপনি দীর্ঘ সময় বসিয়ে রেখে এখন বলছেন টাকা দিতে পারবোনা আগেই বলে দিতেন এই কথা বলা মাত্রই উনি আমাকে বলেন যা যা পারলে টাকা আদায় করে নিস উল্টো উনি আমাকে মারতে তেড়ে আসেন এবং আমাকে কিল ঘুষি- লাথি মেরে চলে যান স্থানীয় অনেকেই জানেন। পরবর্তীতে শুনি আমার নামে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন আমি নাকি উনার গলার চেন,নগদ টাকা, ভিজিএফ কার্ড, উনাকে হামলা চালিয়ে হাতুড়ি,রোড দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেছি এবং আমি নাকি উনাকে বিভিন্ন রকম হুমকি দিয়েছি।যার কোন সত্যতা নেই।
আমি এসবের কিছুই জানিনা ইউপি সদস্য বিবেকানন্দ বিশ্বাস আমি ও আমার সাথে থাকা এনামুল শেখ, আব্দুল্লার নামে থানায় একটি মিথ্যা ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছেন আমাকে হেয় করার জন্য আমিও উনার বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করবো এবং আমি এই মিথ্যা ভিত্তিহীন অভিযোগের তিব্র নিন্দা জানাই।
এঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান মোল্যা মাহাবুর রহমান বলেন আমি ঘটনার সময় পরিষদের ভিতরে ছিলাম বাইরে কি হয়েছে সেটা আমি জানিনা তবে পরে শুনেছি আমার পরিষদের ইউপি সদস্য বিবেকানন্দ বিশ্বাস আসাদুল খান গংদের নামে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন আমি থানা ইনচার্জের সাথে কথা বলেছি উভয় পক্ষকে নিয়ে থানা ইনচার্জের সহযোগিতায় বসাবসি করে সমঝোতা করবো।
