বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনাসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা:

সাবেক ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তাঁর সরকারের সাবেক ৩০ জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও নেতার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে গুম ও “আয়নাঘরে” নির্যাতনের দুটি পৃথক মামলায় এই পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
বুধবার বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউশনের দাখিল করা অভিযোগ আমলে নিয়ে এই আদেশ দেন।
আদালত সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে সংঘটিত গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় করা দুটি মামলায় অভিযোগ আমলে নিয়ে ট্রাইব্যুনাল এই পরোয়ানা জারি করেন। অভিযোগপত্রে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এই অপরাধগুলোর ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরোয়ানা পাঠানো হলো বাহিনী প্রধানদের কাছে:
ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাগুলো কার্যকর করার জন্য পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং সংশ্লিষ্ট বাহিনীর প্রধানসহ মোট ১২টি দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। আগামী ২২ অক্টোবর আসামিদের আদালতে হাজির করার জন্য পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, “গুমের শিকার হওয়া ভুক্তভোগীরা শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর বন্দিশালা থেকে মুক্তি পেয়েছেন। ট্রাইব্যুনাল এই অভিযোগগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রীসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।”
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়া উল্লেখযোগ্য অভিযুক্তদের মধ্যে আছেন— সাবেক প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) এবং ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্সের (ডিজিএফআই) সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
বর্তমানে বিদেশে অবস্থানরত শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এটি একটি গুরুতর আইনি পদক্ষেপ, যা দেশের রাজনৈতিক ও বিচারিক অঙ্গনে নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

থেকে আরও পড়ুন