
কামরুজ্জামান শিমুল বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ
ছাত্র জনতার আন্দোলনে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার পতনের পর বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মীদের নামে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে হেনস্থা করার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন স্থানে। এমনই একটি মিথ্যা ভিত্তিহীন অভিযোগের শিকার হয়েছেন বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আলী আজিম। জেলা ছাত্রদল নেতা আল আমিনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য শহীদুল ইসলাম খান, অ্যাডভোকেট আসলাম হোসেন, শাহজামাল হাওলাদার, মতিন ফরাজীসহ বিভিন্নজনদের নিয়ে এলাকায় করে সন্ত্রাস লুটতরাজ দখলবাজির বিরুদ্ধে শান্তি সমাবেশ করার কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে স্থানীয় আ’লীগ ও যুবলীগের নেতারা তার বিরুদ্ধে প্রপাগান্ডা ছড়াচ্ছেন।
জানা গেছে, সাবেক এমপি এ্যাডঃ আমিরুল ইসলাম মিলনের ক্যাডার হিসেবে পরিচিত উপজেলার সুতালড়ি এলাকার নুরুল ইসলাম হাওলাদারের ছেলে যুবলীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম ও মহিদুল ইসলাম। গত ১৫ বছর যাবত এলাকায় লুটপাট অগ্নিসংযোগ ভাঙচুর ও সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। ছাত্র জনতার আন্দোলনে স্বৈরাচারী সরকার পতনের পর স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে ছাত্রনেতা আলী আজিমের আপন চাচা এসকান্দার হাওলাদারের বাড়ী ও একটি মৎস্য খামার ভাঙচুর লুটপাট চালিয়ে দখলে নেয়। এ বিষয়ে এস্কেন্দার হাওলাদার উপজেলা ও জেলা বিএনপি, মোড়েলগঞ্জ থানা এবং সেনাবাহিনী বরাবর আবেদন করেন। তারা কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় ছাত্রনেতা আলী আজিম এলাকাবাসীদের নিয়ে একটি শান্তি সমাবেশের মাধ্যমে সন্ত্রাসীদের হাত থেকে মাছের ঘেরটি উদ্ধার করে তার চাচা এস্কান্দার হাওলাদারকে বুঝিয়ে দেয়।
স্থানীয় সেলিম খান বলেন, জাহিদুল আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় নেতা। তার নেতৃত্বে অনেক লোকজন এসে এস্কেন্দার হাওলাদারের বাড়ি ভাঙচুর লুটপাট করে। পরে তার একটি মাছের ঘের দখলে নেয়। আলী আজিম স্থানীয় শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করেছে। যে কাজ করে তার পিছনে ষড়যন্ত্র করা লোকের অভাব হয় না। জাহিদুল ইসলাম ও তার ভাই এলাকায় সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত।
রাসেল হাওলাদার বলেন, জাহিদুল লোকজন নিয়ে এস্কেন্দার হাওলাদারের বাড়ি ভাঙচুর করে লুটপাট করেছে এমনকি ঘরে আগুন দিয়েছে। আর তার মাছের ঘের ভাঙচুর করে দখলে নিয়েছে। এমপি মিলন ক্ষমতায় থাকাকালীন এই জাহিদুল এলাকায় ব্যাপক নির্যাতন চালিয়েছে। সে একজন বড় মাপের সন্ত্রাসী তার বিচার হওয়া উচিত। ছাত্র জনতার সরকার দেশ চালাচ্ছে কিন্তু সে এখনো আওয়ামীলীগ সরকারের মত এলাকায় ক্ষমতার অপব্যবহার করছে।
হালিমা বেগমের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, জাহিদুল ও মহিদুলের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী এসকেন্দার হাওলাদারের বাড়ি ভাঙচুর লুটপাট করেছে, বাড়িতে আগুন দিয়েছে। তার মাছের ঘেরও ভাঙচুর লুটপাট করে দখল করে নিয়েছে। আলী আজিম এলাকার লোকজন নিয়ে শান্তি সমাবেশ করেছে। সে বলেছে লুটপাট ভাঙচুর দখল বাজি করা যাবে না। তাতেই তারা ক্ষিপ্ত হয়ে আলী আজিম এর বিরুদ্ধে মিথ্যা রটাচ্ছে।
তবে জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমি শিক্ষকতা করি। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তাদের নির্দেশনা মোতাবেক চলতে হয়েছে। আমার পরিবারের সকলেই বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। আমি কোন ঘের দখল কিংবা বাড়ি ভাঙচুর করতে যাই নাই। আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা।
