
মোঃ নওয়াব ভূইয়া,প্রতিনিধি: রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ)
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে গাজী টায়ার কারখানায় আগুনের ঘটনায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবন পরিদর্শন করেছে বুয়েট বিশেষজ্ঞ দল। ভবনের বেজমেন্টে অভিযান চালিয়ে মেলেনি মানুষের দেহাবশেষ। দুর্ঘটনা কবলিত ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় উদ্ধার কাজ প্রাথমিকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের টিম এখানে অবস্থান করবে।
গতকাল ২৯ আগস্ট বৃহস্পতিবার সকালে কারখানা পরিদর্শন শেষে বুয়েটের প্রফেসর রাকিব আহসান বলেন, ৬তলা ভবনের ওপরের তিনটি ছাদের অংশ ভেঙে পড়ছে। ভবনের পিলার বাঁকা হয়ে গেছে। ছাদের রড বেরিয়ে গেছে। ভবনটি ভেঙে পড়তে পারে। তাই উদ্ধার অভিযান করা ঝুঁকিপূর্ণ। ভবনের বেজমেন্টের কম ক্ষতি হয়েছে। সেখানে কোনো মরদেহ কিংবা মানুষের দেহাবশেষ চোখে পড়েনি।
ফায়ার সার্ভিসের লেদার মেশিন দিয়ে উপরে উঠে ভবনের বিভিন্ন অংশ চেক করেছি। সেখানে প্রচুর দাহ্য পদার্থ ছিল। ভবনটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখনো ভবনের ভিতরে প্রচুর তাপ রয়েছে। ড্রোন ও মই দিয়ে ভবনের ভেতরে আগুনের সামান্য উপস্থিতি দেখা গেছে। কিন্তু কোনো মৃত ব্যক্তির সন্ধান পাইনি। ভবন দাঁড়িয়ে থাকাটাও এখন ঝুঁকিপূর্ণ। ভবন ভেঙে ফেলার প্রক্রিয়াও খুব সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করতে হবে। অন্যথায় আবারো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
ভবনের ৪, ৫ ও ৬ তলার ছাদের বেশ কিছু অংশ ধসে তিন তলার ছাদের ওপর পড়েছে। যে কারণে দুই তলা থেকে ছয় তলা পর্যন্ত ভিতরে তল্লাশি করা বা ভেঙে ফেলাও সম্ভব নয়। বর্তমান অবস্থায় ভবনটি রাজধানীর তৎকালীন বিজয় সরণির র্যাংগস ভবনের চেয়েও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
এ সময় তদন্ত কমিটির প্রধান নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হামিদুর রহমান, রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আহসান মাহমুদ রাসেল, গণপূর্ত বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ছাইফুল ইসলাম, কলকারখানা অধিদফতরের উপ-মহাপরিদর্শক রাজীব চন্দ্র ঘোষ, নারায়ণগঞ্জ জেলা গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবীব, তিতাসের উপ-মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মঞ্জুর আজিজ মোহন ও পল্লী বিদ্যুতের জেনারেল ম্যানেজার হরেন্দ্র নাথ বর্মনসহ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল মান্নান জানান, ভিতরে কোনো মরদেহ বা মানবদেহের কোনো ধরণের অংশবিশেষ পাওয়া যায়নি। তাই উদ্ধার অভিযান আপাতত শেষ করা হয়েছে।
গতকাল ২৯আগষ্ট বৃহস্পতিবারও নিখোঁজের স্বজনরা কারখানার প্রধান ফটকের সামনে ভিড় করেছে তাদের প্রিয়জনের লাশ নেওয়ার জন্য। স্বজনদের কেউ কেউ বলছেন, লাশ না হোক তাদের হাড় পেলেও ধর্মীওভাবে জানাযার নামাজ শেষ করে দাফন করা যেত। অনেকেই সেখানে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছে।
