খুলনা জেলা প্রতিনিধি
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার খর্ণিয়া ইউনিয়নের গোনালী গ্রামের অসহায় এক মহিলার মৎস্য ঘেরে হামলা চালিয়েছে প্রভাবশালী প্রতিপক্ষ । উপজেলার গোনালী গ্রামের মোঃ আবুল হোসেন শেখের স্ত্রী মোছাঃ নিরু খাতুনের ক্রয়কৃত ও লিচ সূত্রে জমিতে মৎস্য ঘেরের মাছ লুটপাট করে নিয়ে গেছে বলে প্রতিবেদকের নিকট অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী মোছাঃ নিরু খাতুন,তার স্বামী আবুল শেখ ও তার পরিবার।
তাদের যুগ যুগ ধরে ভোগ দখলে থাকা সম্পত্তি জবর দখলের অভিযোগ উঠেছে উপজেলার ডুমুরিয়া সদরের প্রভাবশালী মনিরুজ্জামান ও গোনালী গ্রামের বাসিন্দা বৃহস্পতি সরকার ও রিপন সরকার গংদের বিরুদ্ধে।
সরেজমিন তথ্য সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ডুমুরিয়া সদরের মনিরুজ্জামান ও গোনালী গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা বৃহস্পতি সরকার ও রিপন সরকার গংরা মোছাঃ নিরু খাতুন নামে অসহায় এক মহিলার যুগ যুগ ধরে ভোগ দখলে থাকা সম্পত্তি বহিরাগত পেটুয়া বাহিনীর দ্বারা ভোগদখলের পাঁয়তারা করছেন।
ভোক্তভোগী মোছাঃ নিরু খাতুনের স্বামী আবুল হোসেন শেখ প্রতিবেদককে বলেন,প্রভাবশালী মনিরুজ্জামান, বৃহস্পতি সরকার ও রিপন সরকার গংরা ক্ষমতাধর একটি মহলকে সুকৌশলে কব্জা করে তাদের সাথে বিভিন্ন দেনদরবার করে যুগ যুগ ধরে ভোগ দখলে থাকা আমার সম্পত্তিতে বিদ্যমান মৎস্যঘেরের আইলে লাগানো দুই শতাধিক কলা গাছ,মৎস্য ঘেরে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মনিরুজ্জামান, বৃহস্পতি সরকার ও রিপন সরকার গংরা তাদের পেটুয়া বাহিনী দ্বারা লুটপাট করে নিয়ে গেছে এবং আমার ঘেরের বাসা ভাংচুর করেছে এমনকি মহামান্য আদালতকে অমান্য করে আমার যুগ যুগ ধরে ভোগ দখলে থাকা জমি দখলের পাঁয়তারা করছে।
ভুক্তভোগী মোছাঃ নিরু খাতুনের স্বামী গোনালী গ্রামের বাসিন্দা আবুল হোসেন শেখ আরোও বলেন, আমি বিদ্যমান এই বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান, থানা প্রশাসন সহ বিভিন্ন মহলে গিয়েও সঠিক বিচার পাইনী,এখন আমি এবং আমার পরিবার প্রতিনিয়ত মনিরুজ্জামান, বৃহস্পতি সরকার ও রিপন সরকার গংদ্বয়ের তান্ডবের ভয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছি।
দায়িত্বশীল সূত্রে আরো জানা যায়, গোনালী গ্রামের মোছাঃ নিরু খাতুন গোনালী মৌজায় যুগ যুগ ধরে সিএস ৩৩৮ মোতাবেক এসএ ৩১৭ নং খতিয়ানে সিএস ও এসএ ১৩২৪ দাগে ১.২৮ শতাং এর মধ্যে হারিসূত্রে ওলিয়ার রহমান খান, মনোজ সরকার ও মোছা নিরু খাতুন এই তিন জনের সমন্বয়ে ৬৪ শতাংশ জমি ভোগদখল করে আসছেন কিন্তু বৃহস্পতি সরকার বিগত বিআরএস জরিপ চলাকালিন সময়ে যোগসাজসে বিভিন্ন নাটকীতার মাধ্যমে দায়িত্বরত অফিসারদের সাথে দেন দরবার করে উপরিক্ত অংশের জমি নিজের নামে রেকর্ড করিয়ে নেয়।
এমনি যোগসাজসে ও অফিসার দের ম্যানেজ করে জমি রেকর্ড নেওয়ায়, মোছাঃ নিরু খাতুন মহামান্য আদালতে ডুমুরিয়া সিনিয়র সহকারী জজ খুলনা আদালতে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইবুন্যালে মামলা নং ১২৬৪/২০১৭ ও দেওয়ানী মামলা নং ৬১/২০২৩ মামলা চলমান রয়েছে।
মোছাঃ নিরু খাতুনের স্বামী আবুল শেখ জানান উচ্চ আদালতে মামলা চলমান থাকা সত্বেও প্রভাবশালী ডুমুরিয়া সদরের মনিরুজ্জামান ও গোনালী গ্রামের বৃহস্পতি সরকার ও রিপন সরকার গংরা বার বার জমি জবর দখলের পাঁয়তারা চালিয়ে যাচ্ছে।
বিষয়টি নিয়ে একাধিক বার ভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করা হয়েছে,অভিযোগের ভিত্তিতে দু'পক্ষ বসে কোন সিন্ধান্ত নেওয়া হলে বৃহস্পতি সরকার ও রিপন সরকার গংরা সেটা অবমাননা করে লঙ্ঘন করে।
গত ২৪ এপ্রিল ২০২৩ ইং সোমবার সকাল আনুমানিক ৭ টায় মনিরুজ্জামান,বৃহস্পতি সরকার ও রিপন সরকার গংরা তাদের বহিরাগত পেটুয়াবাহিনী নিয়ে মৎস্য ঘেরের বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, ঘেরের আইলে থাকা দুই শতাধিক কলাগাছ ও ঘেরের বাসা ভাংচুর করে, মোছাঃ নিরু খাতুনের স্বামী আবুল হোসেন শেখ বলেন আমার পরিবারে ঐ দিন আমার স্ত্রী ছাড়া পরিবারের অন্য কোন সদস্য বাড়িতে ছিলোনা আমার স্ত্রী প্রাথমিকভাবে বাঁধা দিলে আমার স্ত্রীকে কোন রকম তোয়াক্কা না করে,তাদের কাজ শেষ করে চলে যায়।
ঘটনার বিষয়ে বৃহস্পতি সরকারের ছেলে রিপন সরকারের নিকট জানতে চাইলে,তিনি প্রতিবেদককে বলেন,আমাদের নিজেদের ঘের থেকে মাছ মারছি,এই জমি বিআরএস রেকর্ড অনুযায়ী আমরা মালিক,আমাদের বিরুদ্ধে যে ঘটনার অভিযোগ আনা হয়েছে,সেটা সম্পুর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।
ভুক্তভোগী মোছাঃ নিরু খাতুন এর স্বামী আবুল হোসেন শেখের নিকট ঘটনার বিষয়ে অধিকতর জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদকের প্রশ্নের উত্তরে বলেব, থানা পুলিশে অভিযোগ করেছেন কিনা, নিরু খাতুনের স্বামী আবুল শেখ বলেন,অভিযোগ করিনী,তবে আইনের সহযোগিতা নিবো ও আদালতে মামলা চলমান।