খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার ভান্ডার পাড়া ইউনিয়নের রাজিবপুর গ্রামের এক অসহায় কৃষক পরিবারকে মিথ্যা মামলার জালে ফাঁসিয়ে তাদের যুগ যুগ ধরে ভোগ দখলে থাকা সম্পত্তি জবর দখলের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা শিবিরের সাবেক নেতা মোঃ আলমগীর শেখের বিরুদ্ধে।
সরেজমিন তথ্য সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রাজিবপুর গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ মাহবুর শেখ নামে এক অসহায় কৃষকের যুগ যুগ ধরে ভোগ দখলে থাকা সম্পত্তি বহিরাগত পেটুয়া বাহিনীর দ্বারা ভোগদখলের পাঁয়তারা করছেন।
ভোক্তভোগী মোঃ মাহবুর শেখ প্রতিবেদককে বলেন,প্রভাবশালী উপজেলা শিবিরের সাবেক এই নেতা ক্ষমতাধর একটি মহলকে সুকৌশলে কব্জা করে তাদের সাথে বিভিন্ন দেনদরবার করে একের পর এক মিথ্যা মামলার জালে ফাঁসিয়ে যুগ যুগ ধরে ভোগ দখলে থাকা আমার সম্পত্তিতে বিদ্যমান ধান ও মৎস্য চাষ করা কিন্তু শিবিরের এই সাবেক নেতা আলমগীর তার পেটুয়া বাহিনী দ্বারা মহামান্য আদালতকে অমান্য করে আমার দখলে থাকা জমি দখলের পাঁয়তারা করছে।
মাহবুর রহমান আরোও বলেন, আমি বিদ্যমান এই বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান, থানা প্রশাসন সহ বিভিন্ন মহলে গিয়েও সঠিক বিচার পাইনী,এখন আমি এবং আমার পরিবার প্রতিনিয়ত শিবির নেতা আলমগীরের তান্ডবের ভয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছি।
দায়িত্বশীল সূত্রে ও থানা পুলিশের নিকট থেকে আরো জানা যায়, রাজিবপুর গ্রামের মৃতঃ বাবর আলী শেখের দুই পুত্র মোঃ সাইদুর রহমান শেখ ও মোঃ মাহবুর রহমান শেখ নলঘোনা মৌজায় যুগ যুগ ধরে ৩ একর ১০ শতক জমি ভোগদখল করে আসছেন কিন্তু তাদের আরেক শরীক মৃতঃ শামসুর রহমান শেখ বিগত বিআরএস জরিপ চলাকালিন সময়ে যোগসাজসে কাগজপত্রে ওভার রাইট করে বিভিন্ন নাটকীতার মাধ্যমে দায়িত্বরত অফিসারদের সাথে দেন দরবার করে উপরিক্ত অংশের মধ্যে ১ একর জমি নিজ নামে রেকর্ড করে নেয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
এমনি যোগসাজসে ও অফিসার দের ম্যানেজ করে জমি রেকর্ড নেওয়ায়, মোঃ সাইদুর রহমান ও মোঃ মাহবুর রহমানের পিতা মহামান্য আদালত ডুমুরিয়া সহকারী যুগ্ম- জজ খুলনা আদালতে মামলা করেন বিচারক দীর্ঘ সময়ে কাগজপত্র যাচাই বাছাই করে রায় দেন সাইদুর ও মাহবুরের পিতার পক্ষে।
মাহবুর শেখ জানান উচ্চ আদালতের রায় থাকার পরেও, উচ্চ আদালতের রায় কে অবমাননা করে মৃতঃ শামসুর শেখের পুত্র মোঃ আতিয়ার রহমান এর ছেলে প্রভাবশালী পেটুয়াবাহিনীর কমান্ডার শিবিরের সাবেক এই নেতা বার বার জমি জবর দখলের পাঁয়তারা চালিয়ে যাচ্ছে।
বিষয়টি নিয়ে একাধিক বার অভিযোগ করা হয়েছে,অভিযোগের ভিত্তিতে দু'পক্ষ বসে কোন সিন্ধান্ত নেওয়া হলে আলমগীর সেটা অবমাননা করে লঙ্ঘন করে।
এমনকি গত ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৩ ইং সকালে আলমগীর শেখ তার বহিরাগত পেটুয়া বাহিনী নিয়ে জমি দখলের আবারও চেষ্টা করেন,তাদের প্রাথমিক বাঁধা দেওয়ায় কোন ঘটনা ছাড়াই ক্ষমতাধর উচ্চ একটি মহলের মাধ্যমে কাল্পনিক একটি মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে হয়রানীমুলক ৭ জনকে আসামী করে ডুমুরিয়া থানায় একটি মামলা রুজু করেন বলে জানান।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে,শিবিরের এই সাবেক নেতা এস এম আলমগীর হোসেন বলেন,আমাদের উপর হামলার কারণে মামলা করা হয়েছে।তিনি ঐ জমি তার বলে দাবি করেন।
এ ব্যাপারে ডুমুরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ সেখ কনি মিয়া বলেন,মামলার এজাহার পেলে, মামলা নিয়ে তদন্ত করার নিয়ম রয়েছে। ঘটনা মিথ্যা হলে তদন্ত পুর্বক পুনরায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তবে ভুক্তভোগীর দাবি মামলার তদন্ত না করে, আসামী গ্রেফতার করা হয়েছে।