সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

সাবেক কলেজ ছাত্রী বর্তমান ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদককে ফাঁসানোর চেষ্টা

-সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আশিকুল ইসলাম আশিককে ফাঁসানো অভিযোগ উঠে এসেছে একই কলেজের ইন্টার পড়ুয়া সাবেক শিক্ষার্থী সাদিয়া খন্দকারের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত সাদিয়া খন্দকার বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য।

জানা যায় গত বৃহস্পতিবার সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২য় বর্ষের ছাত্র রাকিবুল হাসান রাকিব নাকি তার সাথে রাকিবের প্রেমের সম্পর্ক ছিল এমন কথা ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে বেড়াচ্ছিল। বিষয়টি জানতে পেরে সাদিয়া খন্দকার রাকিবুল হাসান রাকিবকে প্রথমে জিজ্ঞেস করে সে এসব কথা কেনো ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে বেড়াচ্ছে। রাকিব বিষয়টি শুনতে পেরে হতভম্ব হয়ে পরে এবং সে প্রমাণ দিতে বলে। এক পর্যায়ে সাদিয়া খন্দকার রাকিবের শার্টের কলার চেপে ধরে এবং তাকে চড়থাপ্পড় দিতে থাকে। এর মধ্যে দুজনের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়ে যায়। একপর্যায়ে রাকিব ছুটে চলে যায় কলেজের ছাত্র সংসদের ভেতরে সেখানে অন্যান্য নেতাদের সাথে বসে ছিল সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আশিকুল ইসলাম আশিক। বিষয়টি তার নজরে আসলে সে তৎক্ষনিক রাকিবকে চড়থাপ্পড় দিয়ে সাদিয়া কাছে মাফ চাইয়িয়ে দেন। এবং রাকিবকে ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করে দেয়। পরে সাদিয়া খন্দকার ছাত্র সংসদ থেকে বেড়িয়ে চলে আসে। বাসায় গিয়ে প্রথমে সে তার উপর হামলার বিচারের দাবি করে কিন্তু সেখানে সে সাধারণ সম্পাদক আশিকের নাম উল্লেখ করেনি। পরে আরেকটি লাইভে এসে সে বলে আজকে আমার উপর হামলা হয়েছে সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আশিকুল ইসলাম আশিকের নির্দেশে পরে সে এর বিচারের দাবি করে।

সিসি ফুটেছে বিষয়টি স্পষ্ট দেখা যায় যে, সোহরাওয়ার্দী কলেজ মাঠে রাকিবুল ইসলামকে আনুমানিক দুপুর ৩ টার দিকে তার সাথে ব্যক্তিগত বিষয়ে কথার জন্যে ডাকলে
রাকিব যেতে না চাইলে হাত ধরে টেনে কলেজটির মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের সামনে নিয়ে যায় সেখানে নিয়ে উত্তেজিত ভাবে কিছু বলতে দেখা যায় এবং রাকিবের শার্টের কলার টানাটানি করতেও দেখা যায়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনে।

ঘটনার একপর্যায়ে তাদের দুজনকে ছাত্র সংসদের ভিতরে যেতে দেখা যায় সেখানে উপস্থিত ছিলেন সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আশিকুল ইসলাম আশিকসহ অন্যান্যরা। পরবর্তীতে তৎক্ষনিত এই বিষয়ে রাকিব কে সবার সামনে অভিযোগকারী সাদিয়ার পায়ে ধরিয়ে ক্ষমা চাওয়ার মধ্যে দিয়ে সমাধানের চেষ্টা করেন।

এই বিষয়ে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আশিকুল ইসলাম আশিক বলেন, আমার রাজনৈতিক জীবনে কলঙ্ক লেপে দিয়েছে সাদিয়া খন্দকার। আমি সবসময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপকার করে থাকি। কিন্তু সে আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এনেছে তার সম্পন্ন বানোয়াট মিথ্যা। আমি এর সুষ্ঠ তদন্তের দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি সে কার ইন্দ্রনে আমার উপর এমন অভিযোগ উঠালো তাদেরকে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি। পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সংবাদ পত্রিকা এবং টিভি নিউজের প্রকাশিত সংবাদের নিন্দা জানিয়ে বলেন, এভাবে কারো বিরুদ্ধে কোনো রিপোর্ট করার আগে সাংবাদিক ভাইদের আরোও অনুসন্ধান করা উচিৎ।

বলা বহুল্য যে সাদিয়া খন্দকার সাংবাদিকদের কাছে নিজেকে সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী দাবি করেছেন। কিন্তু আবার অন্য একজনের সাথে পরিচয় দিয়েছে সে একাউন্টটিং ডিপার্টমেন্ট ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী। খবর নিয়ে জানা যায় সে আসলেই এই কলেজে বর্তমান শিক্ষার্থী না, সে এই কলেজে থেকে এইচএসসি পাশ করেছে।

থেকে আরও পড়ুন