খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:
খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলার জালিয়াপাড়ায় অবস্থিত ইসলামিক মিশনের ইনচার্জ মুনমুন সুলতানার বিরুদ্ধে সেবাগ্রহীতা রোগীদের সঙ্গে চরম অসদাচরণ, চিকিৎসাসেবায় অনিয়ম, কর্মচারী ও স্থানীয় আলেম-ওলামাদের সাথে অপমানজনক আচরণ এবং ৩০-৪০ বছরের পুরনো জনচলাচলের রাস্তা বন্ধের চেষ্টার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া নিয়মবহির্ভূতভাবে স্বামী-স্ত্রী একই প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন কর্মরত থেকে সরকারি দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
অভিযুক্ত কর্মকর্তা মুনমুন সুলতানার অপসারণ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে ফুসে উঠছে গুইমারার সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ইসলামিক মিশনে যোগদানের পর থেকেই রোগীদের সেবা দেওয়ার নামে চরম অপমান ও হয়রানি করছেন এই কর্মকর্তা।
ভুক্তভোগী লুৎফর রহমান জানান,
"আমি দীর্ঘদিনের পায়ের সমস্যা নিয়ে চিকিৎসা নিতে গিয়ে বাবাতুল্য হিসেবে উনাকে ‘মা’ বলে সম্বোধন করি। ‘ম্যাডাম’ না বলে ‘মা’ বলায় তিনি জনসম্মুখে আমাকে অপমান করেন। এরপর থেকে আমি আর মিশনে যাই না।"
আরেক ভুক্তভোগী রহিমা বেগম বলেন,
"মেয়ের চিকিৎসার জন্য গিয়ে উনাকে ‘আপা’ বলে ডাকায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ম্যাডাম না ডাকার অপরাধে আমাকে রুম থেকে বের করে দেন এবং কোনো চিকিৎসা দেননি।"
এছাড়া অতিরিক্ত সরকারি টিকিট কিনতে বাধ্য করা এবং অন্য ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন নিয়ে গেলে চিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় আলেম মাওলানা ফারুকুল ইসলাম জানান,
"সাবেক আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ভাগ্নি পরিচয় দিয়ে বিগত দিনে অভিযুক্ত মুনমুন সুলতানা জালিয়াপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব মুফতি নোমানসহ এলাকার সম্মানিত আলেম-ওলামাদের চরম অপমান ও অপদস্থ করেছেন।"
১৯৮৬ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠিত গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দাদের চলাচলের প্রায় ৪০ বছরের পুরোনো একমাত্র রাস্তাটি সম্প্রতি শ্রমিক দিয়ে বন্ধের পাঁচতারা করা হয়। খবর পেয়ে স্থানীয়রা গিয়ে সেই কাজ বন্ধ করে দেন। এর আগেও এলাকাবাসীর কলাবাগান কেটে ফেলাসহ বিভিন্ন মিথ্যা মামলা দিয়ে সহায়-সম্বলহীন মানুষকে হয়রানি করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগে আরও জানা যায়, মুনমুন সুলতানা ও তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে একই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন। স্বামী ইসলামিক মিশনের মাটিরাঙ্গা ও লক্ষ্মীছড়ি কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকলেও নিয়মিত অফিসে আসেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। সরকারি নিয়োগবিধি তোয়াক্কা না করে কীভাবে স্বামী-স্ত্রী একই জায়গায় দীর্ঘদিন অবস্থান করছেন, তা খতিয়ে দেখার দাবি সচেতন মহলের।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইসলামিক মিশন প্রধান মুনমুন সুলতানা বলেন,
"আমরা সরকারি কর্মকর্তা, নিউজের ধার ধারি না। যেসব অভিযোগ ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে, তা নিয়ে বক্তব্য দেব না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কথা বলা যাবে না, আপনারা নিউজ করে দিন, সমস্যা নেই।"
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে গুইমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিসকাতুল তামান্না বলেন,
"এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টির সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
এদিকে এলাকাবাসী হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, অভিযুক্ত মুনমুন সুলতানাকে দ্রুত গুইমারা ইসলামিক মিশন থেকে অপসারণ এবং রাস্তা উন্মুক্ত করা না হলে মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদানসহ বৃহত্তর কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।