নেজাম উদ্দীন- রাঙ্গুনিয়া
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার মরিয়মনগর এলাকার কৃতিসন্তান আবদুল্লাহ আল মামুন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ থেকে সফলতার সঙ্গে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেছেন। দীর্ঘদিনের একাডেমিক সাধনা, কঠোর অধ্যবসায় এবং পরিবারের অকুন্ঠ সমর্থনের ফসল হিসেবে তিনি এই মাইলফলক স্পর্শ করলেন। রাউজান চুয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ এবং পরবর্তী সময়ে চট্টগ্রাম কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় নিজের মেধার স্বাক্ষর রাখেন তিনি। গত কয়েক বছরের নিরবচ্ছিন্ন একাডেমিক যাত্রার পর এমবিবিএস পরীক্ষায় তাঁর এই উত্তীর্ণ হওয়া কেবল একটি ডিগ্রি অর্জন নয়, বরং রাঙ্গুনিয়ার তরুণ প্রজন্মের জন্য মেধার সঠিক ব্যবহারের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে স্বীকৃত হচ্ছে।
আবদুল্লাহ আল মামুনের এই সাফল্যে তাঁর পরিবার ও স্থানীয় স্বজনদের মাঝে আনন্দের জোয়ার বইছে। বিশেষ করে তাঁর পিতা মাওলানা নুরুল আমিনের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে। মামুনের ছোট ভাই এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আরিফ বিন আমিন বলেন যে, বাবার স্বপ্ন ছিল তাঁর ছেলে একজন চিকিৎসক হিসেবে মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করবে, যা মহান আল্লাহর কৃপায় আজ পূর্ণতা পেয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই দীর্ঘ পথচলায় মামুনকে নানা প্রতিকূলতার মোকাবিলা করতে হয়েছে, কিন্তু তাঁর লক্ষ্য ছিল অবিচল। একজন মেডিকেল শিক্ষার্থী হিসেবে তাঁর একাডেমিক জীবন ছিল অত্যন্ত সুশৃঙ্খল, যা তাঁকে আজকের এই অবস্থানে পৌঁছাতে সহায়তা করেছে এবং স্থানীয় মহলে তিনি এখন এক গর্বিত নাম হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও সুধীজনদের মতে, আবদুল্লাহ আল মামুনের এই সাফল্য কেবল তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং রাঙ্গুনিয়ার সামগ্রিক শিক্ষার মানোন্নয়নের একটি প্রতিফলন। ভবিষ্যতে একজন মানবিক ও দক্ষ চিকিৎসক হিসেবে তিনি আর্তমানবতার সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করবেন—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের। বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদ থেকে উঠে এসে সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পাওয়া এবং সফলভাবে ডিগ্রি অর্জন করার এই গল্পটি ওই এলাকার অন্যান্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে উচ্চশিক্ষার আগ্রহ ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। স্থানীয়রা মনে করছেন, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে মামুনের মতো তরুণ চিকিৎসকরাই আগামী দিনে মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করবেন।
পরিশেষে, চিকিৎসা পেশায় আবদুল্লাহ আল মামুনের এই অন্তর্ভুক্তি রাঙ্গুনিয়ার স্বাস্থ্যসেবা খাতে এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিল। একজন চিকিৎসক হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু হতে যাওয়া এই মুহূর্তটি তরুণ শিক্ষার্থীদের জন্য একটি দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে। প্রতিকূলতা জয় করে মেধার মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার এই ধারা অব্যাহত থাকলে রাঙ্গুনিয়া থেকে ভবিষ্যতে আরও অনেক দক্ষ ও মানবিক চিকিৎসক উঠে আসবে, যা জাতীয় স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।