এস এম মহিউদ্দিন, খাগড়াছড়ি :
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে ম্রাসা থোয়াই মারমাকে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। একই সঙ্গে ১৫ সদস্যবিশিষ্ট খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠন করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মঙ্গল চন্দ্র পাল স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে সংশ্লিষ্ট আইন ও সংশোধিত আইনের ক্ষমতাবলে নতুন পরিষদ গঠনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর জিরুনা ত্রিপুরাকে চেয়ারম্যান করে ১৫ সদস্যের পরিষদ গঠন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে পরিষদ পরিচালনা নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ ও বিতর্কের পর ২০২৬ সালের ৭ জুলাই জিরুনা ত্রিপুরাকে কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা হয়। পরে সেফালিকা ত্রিপুরাকে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সেফালিকা ত্রিপুরার নিয়োগ বাতিল করে ম্রাসা থোয়াই মারমাকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড
ম্রাসা থোয়াই মারমা সরাসরি বিএনপির কোনো দলীয় পদে না থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে মারমা জনগোষ্ঠীকে সংগঠিত করার পাশাপাশি বিএনপির পক্ষে সাংগঠনিকভাবে কাজ করে আসছেন বলে জানা গেছে।
তিনি শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদ, খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে পাহাড়ের মানুষের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা, সামাজিক সম্প্রীতি ও সাংগঠনিক কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ-জাতীয় ঐক্য, উন্নয়ন, জনগণের কল্যাণ ও পারস্পরিক সম্প্রীতির চেতনাকে পাহাড়ের বাস্তবতায় প্রয়োগ করার লক্ষ্যে ম্রাসা থোয়াই মারমা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তাঁর সহকর্মীরা।
নতুন পরিষদে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব
পুনর্গঠিত খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে রয়েছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমএন আবছার, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল মালেক মিন্টু, মোশারফ হোসেন, শান্তিপ্রিয় চাকমা, দেবরানী চাকমা, ক্ষেত্রমোহন রোয়াজা, কুহেলী দেওয়ান, তাছলিমা সিরাজ সিমা, ক্যরী মগ, মংসাপ্রু চৌধুরী, রুমেল মারমা, নারায়ণ ত্রিপুরা, খনি রঞ্জন ত্রিপুরা ও রিপল চাকমা।
পরিষদে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব থাকায় পাহাড়ের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, শান্তি ও সম্প্রীতি জোরদারে নতুন পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
পাহাড়ে জিয়ার আদর্শ বাস্তবায়নে প্রত্যয়
সংশ্লিষ্টদের মতে, পার্বত্য চট্টগ্রামের মতো বৈচিত্র্যময় অঞ্চলে জনগণের মধ্যে ঐক্য ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, কৃষি, পর্যটন, কর্মসংস্থান ও অবকাঠামোগত উন্নয়নকে এগিয়ে নেওয়া জরুরি।
ম্রাসা থোয়াই মারমার নেতৃত্বে জেলা পরিষদ এসব ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখবে-এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তাঁর রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক সহকর্মীরা।
তাঁরা মনে করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও দর্শনকে ধারণ করে পাহাড়ি-বাঙালি নির্বিশেষে সব মানুষের কল্যাণে কাজ করার মাধ্যমে খাগড়াছড়িতে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের পরিবেশ আরও সুদৃঢ় করা সম্ভব।
মুফতী রবিউল ইসলাম শামীমের অভিনন্দন
ম্রাসা থোয়াই মারমা খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পাওয়ায় তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও প্রধান সমন্বয়ক পার্বত্য চট্টগ্রাম মুফতী রবিউল ইসলাম শামীম।
অভিনন্দন বার্তায় মুফতী রবিউল ইসলাম শামীম বলেন, ম্রাসা থোয়াই মারমা দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ের মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে কাজ করে আসছেন। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও দর্শন পাহাড়ের মানুষের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন দায়িত্বে ম্রাসা থোয়াই মারমা তাঁর দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততাকে কাজে লাগিয়ে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদকে আরও জনবান্ধব ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে ভূমিকা রাখবেন।
মুফতী রবিউল ইসলাম শামীম আরও বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ছিল জনগণের কল্যাণ, জাতীয় ঐক্য, উন্নয়ন ও সম্প্রীতির আদর্শ। ম্রাসা থোয়াই মারমা সেই আদর্শকে ধারণ করে পাহাড়ের মানুষের কল্যাণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবেন-এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
তিনি ম্রাসা থোয়াই মারমার নতুন দায়িত্বের সফলতা কামনা করে বলেন, তাঁর নেতৃত্বে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ পাহাড়ি-বাঙালি সব জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন, শান্তি, সম্প্রীতি ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদী।