নুরুজ্জামান লিটন, জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ:
নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলায় ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে দুর্ভোগ বেড়েছে সাধারণ মানুষের। দিনে-রাতে একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেক এলাকায় দিনে ও রাতে মিলিয়ে ৮ থেকে ১০ বার পর্যন্ত বিদ্যুৎ আসা যাওয়া করছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে এ সমস্যা বেশি বলে অভিযোগ রয়েছে। কোথাও কোথাও প্রায় দুই ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় পড়াশোনা, গৃহস্থালির কাজসহ স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, সারাদিনের কাজ শেষে রাতে বিশ্রাম নেওয়ার সময় কিংবা গভীর রাতে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় প্রচণ্ড গরমের মধ্যে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্যেও। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমের কারণে বিদ্যুৎবিহীন পরিবেশে অনেক ক্রেতাই প্রয়োজনীয় পণ্য না কিনেই ফিরে যাচ্ছেন।
রবিউল অনলাইন কম্পিউটার সেন্টারের পরিচালক ও বদলগাছী উপজেলা প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক মোঃ রবিউল আউয়াল বলেন, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষ ভূমিসেবা নিতে এসে বিড়ম্বনায় পড়ছেন। এ অবস্থা দীর্ঘায়িত হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে।
এদিকে বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্টদের মতে, তীব্র গরমে বিদ্যুতের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি কোনো কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি বা গ্যাসের সংকট এবং সঞ্চালন ব্যবস্থার বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যা হচ্ছে।
বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে ফ্যান, এসি, সেচপাম্পসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্র একসঙ্গে বেশি ব্যবহৃত হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিভিন্ন এলাকায় নির্দিষ্ট সময় পরপর লোডশেডিং করতে হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বদলগাছী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দায়িত্বে থাকা ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) প্রকৌশলী রঞ্জন কুমার সরকার বলেন, “লোডশেডিং এখন অনেকটা জাতীয় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রায় সব এলাকাতেই কমবেশি একই পরিস্থিতি। তবে ঝড়-বৃষ্টির কারণে কোনো এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগে সমস্যা হলে আমাদের জানানো হলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
তবে স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি করে লোডশেডিং কমানো না হলে সামনে ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে।