স্টাফ রিপোর্টার
ঘরে বসেই মিলবে বিআরটিএ-র সেবা, ভোগান্তি ছাড়া মিলবে ড্রাইভিং লাইসেন্স"— ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশের পথে হাঁটার এই মহৎ উদ্যোগকে কাঁচকলা দেখাচ্ছে বিআরটিএ (BRTA) মিরপুর সার্কেল-১-এর একশ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তা ও তাদের পোষা দালাল চক্র।
যেখানে একজন সাধারণ নাগরিককে লার্নার (শিক্ষানবিশ) লাইসেন্স করার পর পরীক্ষার (DCTC) জন্য দুই থেকে তিন মাস ব্যাকুল হয়ে অপেক্ষা করতে হয়, সেখানে টাকার গরম দেখালেই মিলছে আশ্চর্যের এক জাদুকড়ি সেবা! নির্ধারিত কিছু অনলাইন দোকানের মাধ্যমে মাত্র ৭ হাজার টাকা গুনলেই ২-৩ মাসের অপেক্ষা হাওয়া হয়ে যাচ্ছে মাত্র ৭ দিনে।
বিআরটিএ-র অনলাইন পোর্টালে (BSP) সাধারণ মানুষের ডিজিটাল সিরিয়াল টপকে কীভাবে ঘটছে এই অনিয়ম? অনুসন্ধানে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর ও বিস্ময়কর সব তথ্য।
বিআরটিএ-র নিয়ম অনুযায়ী, অনলাইন সিস্টেমে লার্নার আবেদনের সাথে সাথেই সার্ভার থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে (Automated) পরীক্ষার ডেট বরাদ্দ হয়। কিন্তু মিরপুর সার্কেল-১ এ দীর্ঘদিন ধরে চলছে ভিন্ন খেলা।
প্রতিটি সার্কেল অফিসের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) এবং সিস্টেম অ্যাডমিনিস্ট্রেটরদের হাতে বিআরটিএ পোর্টালে যেকোনো প্রার্থীর পরীক্ষার তারিখ ম্যানুয়ালি রিসেডিউল (Reschedule) বা পরিবর্তন করার বিশেষ 'ব্যাকএন্ড এক্সেস' বা বিশেষ ক্ষমতা থাকে। উদ্দেশ্য ছিল—জরুরি রোগী বা প্রবাসীদের আইনি সহায়তা দেওয়া। কিন্তু সেই জনকল্যাণকর ক্ষমতাই এখন পরিণত হয়েছে কোটি টাকার অনৈতিক আয়ের হাতিয়ারে!
বিআরটিএ মিরপুর সার্কেল-১ এর আশেপাশের গুটিকয়েক নির্দিষ্ট কম্পিউটার দোকানে দালালরা সাধারণ গ্রাহকদের ধরে নিয়ে আসে।
সরকারি নির্ধারিত ফি-র কয়েকগুণ বেশি নিয়ে করা হয় অবৈধ চুক্তি।
দালালদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী অফিসের ভেতরের অসাধু চক্র তাদের ব্যাকএন্ড প্যানেল ব্যবহার করে সাধারণ লাইন টপকে ৭ দিনের মধ্যে পরীক্ষা দেওয়ার স্লট বা ডেট ম্যানুয়ালি 'এডিট' করে বসিয়ে দেয়।
মিরপুর সার্কেল-১ এ পরীক্ষা দিতে আসা একাধিক ভুক্তভোগীর সাথে কথা বললে ফুটে ওঠে তাদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও অসন্তোষ। এক ভুক্তভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,"আমি দুই মাস আগে আবেদন করে এখনো পরীক্ষার অপেক্ষায় প্রহর গুনছি। আর আমার এক পরিচিত লোক দালালকে ৭ হাজার টাকা দিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে লার্নারের ডেট পেয়ে পরীক্ষা দিয়ে চলেও গেল! ডিজিটাল সিস্টেমের নামে এটা সাধারণ নাগরিকদের সাথে প্রতারণা। যাদের হাতে সিস্টেম রক্ষার দায়িত্ব, তারাই যদি ঘুষের বিনিময়ে ব্যাকএন্ড বিক্রি করে দেয়, তবে এদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা দরকার।"
আমজনতার এখন একটাই প্রশ্ন—যে কর্মকর্তারা কোটি টাকার ঘুষের বিনিময়ে সাধারণ মানুষের অধিকার হরণ করছে এবং সরকারি সিস্টেমকে কলঙ্কিত করছে, তাদের স্থান চাকরিতে নাকি কারাগারে?
বিআরটিএ মিরপুর সার্কেল-১ এর এই অদৃশ্য সিন্ডিকেট ভাঙতে ইতোমধ্যে মাঠে নেমেছে সাংবাদিকদের একটি বিশেষ অনুসন্ধানী টিম।
অত্যন্ত গোপনে পরিচালিত এই অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে বহু তথ্য-প্রমাণ, স্ক্রিনশট, অডিও রেকর্ড এবং লেনদেনের ডিজিটাল প্রমানপত্র হস্তগত হয়েছে। সবচেয়ে বড় খবর হলো—এই ডিজিটাল জালিয়াতি ও ব্যাকএন্ড অপব্যবহারের সাথে সরাসরি জড়িত দুই প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে শতভাগ নিরঙ্কুশ প্রমাণ পেয়েছে অনুসন্ধানী টিম!
কাদের আস্কারায় মিরপুর সার্কেলের সিস্টেম এভাবে বেহাত হলো? কোন কোন কর্মকর্তা এই সিন্ডিকেটের মূল মদদদাতা?—সেই বিস্ফোরক তথ্য ও অভিযুক্তদের নাম-পরিচয় খুব শীঘ্রই প্রকাশ করা হচ্ছে আমাদের পরবর্তী ধামাকা প্রতিবেদনে!
চোখ রাখুন... বিস্তারিত আসছে!