পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি:
বরগুনার পাথরঘাটা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অফিস চলাকালীন সময়ে কেক কেটে খণ্ডকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত সাব-রেজিস্টার পার্থপ্রতিম মুখার্জির জন্মদিন উদযাপনের অভিযোগ উঠেছে। সপ্তাহে মাত্র একদিন, বৃহস্পতিবার, কার্যক্রম পরিচালিত হওয়া এ অফিসে জন্মদিন উদযাপনের কারণে সেবা নিতে আসা জমির ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগ রয়েছে, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জন্মদিনের আয়োজনকে ঘিরে দলিল নিবন্ধন কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এতে অন্তত ১৩২ জন জমির ক্রেতা ও বিক্রেতা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে বাধ্য হন। অফিসকক্ষে কেক কাটার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জমি বিক্রেতা বলেন, আমার বাবা গুরুতর অসুস্থ। জমি বিক্রি করে তাঁকে ঢাকায় চিকিৎসার জন্য নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দলিল নিবন্ধনে বিলম্ব হওয়ায় লঞ্চ মিস করেছি। সরকারি অফিসে এ ধরনের দায়িত্বহীন আচরণে আমরা ক্ষুব্ধ।
তিনি আরও বলেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সপ্তাহে পাঁচ দিন অফিস চালু থাকলেও পাথরঘাটায় নিয়মিত সাব-রেজিস্টার না থাকায় দীর্ঘ তিন বছর ধরে সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বর্তমানে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা থেকে খণ্ডকালীন দায়িত্বে সপ্তাহে একদিন, বৃহস্পতিবার, সাব-রেজিস্টার পার্থপ্রতিম মুখার্জি অফিস করেন। এদিন অফিসে এসেও তোষামোদি কর্মচারীর রোষানলে পরে সময়ের অভাবে অনেকে দলিল করতে পারেননি।
মো. মিজানুর রহমান, যিনি কুড়িগ্রামে চাকরি করেন, জানান, তিন মাস আগে করা বায়নাপত্র অনুযায়ী দলিল সম্পন্ন করতে একদিনের ছুটি নিয়ে পাথরঘাটায় এসেছিলেন। কিন্তু বিলম্বের কারণে দলিল নিবন্ধন না করেই কর্মস্থলে ফিরে যেতে হয়েছে। এতে তাঁর সময় ও অর্থ—উভয়েরই ক্ষতি হয়েছে। তিনি পাথরঘাটায় একজন স্থায়ী সাব-রেজিস্টার নিয়োগের দাবি জানান।
এ বিষয়ে দলিল লেখক সমিতির সভাপতি ইব্রাহিম মোক্তার বলেন, অফিসে অনেক দলিল জমে আছে। এ ভোগান্তির প্রতিবাদ জানানোর ভাষা আমাদের নেই। আমরা তাদের অধীনস্থ। স্যারের জন্মদিন পালন দূর থেকে দেখেছি, আমাদের ডাকাও হয়নি। পাথরঘাটায় নিয়মিত একজন সাব-রেজিস্টার নিয়োগ এখন সময়ের দাবি।
অভিযোগের বিষয়ে খণ্ডকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত সাব-রেজিস্টার পার্থপ্রতিম মুখার্জি বলেন, সিম্পল একটা বিষয় নিয়ে আপনাদের সাথে কথা বলা যৌক্তিক মনে করছি না। অফিসের লোকজন আমার জন্মদিন উপলক্ষে একটি কেক নিয়ে এসেছিল। আমি কেক কেটে তাদের শুভেচ্ছা গ্রহণ করেছি। এরপর ১৪২ টি দলিল নিবন্ধন সম্পন্ন করে বাসায় ফিরেছি। এ বিষয় নিয়ে ফোন করায় আমি কষ্ট পেয়েছি।