ডুমুরিয়া(খুলনা) প্রতিনিধিঃ
খুলনার ডুমুরিয়ার মাদারতলায় ১৫ কেজি হরিণের মাংসসহ সুফল মন্ডল (২৮) কে আটকের পর ৭০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগে ডুমুরিয়ার মাদারতলা ফাঁড়ি পুলিশের দুই সদস্যকে প্রত্যাহর করা হয়েছে। রোববার দুপুরে খুলনা জেলা পুলিশ সুপার তাজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রেরিত বার্তায় এ তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়। সাথে সাথে অভিযুক্ত দুই পুলিশ সদস্যকে শিরোমণি খুলনা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত হতে বলা হয়েছে। প্রসঙ্গত গত ১২ মে মঙ্গলবার বেলা ২ টার দিকে মাদারতলা এলাকায় পরিতোষ মন্ডল ছেলে সুফল মন্ডল কে ডুমুরিয়া থানাাধীন মাদারতলা পুলিশ ফাঁড়ির অদূরে টাওয়ার এলাকায় ১৫ কেজি হরিণের মাংস সহ তাকে আটক করে মাদারতলা ফাঁড়ি পুলিশের দুই সদস্য। তারা হলেন -কং নম্বর ৮৩৯ মোঃ মাইনুল ইসলাম ও কং নম্বর ৫৪২ মোঃ মুছাব্বির হোসেন। কোন অফিসার ব্যাতিরেকে তারা মামলার ভয় দেখিয়ে আটক সুফলের কাছ থেকে নগদ ৭০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহন ও মাংস ভাগবাটোয়ারা করে নিয়ে সুফলকে ছেড়ে দেয়া হয় বলে অভিযোগ উঠে। এনিয়ে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা ঝড় ওঠে । তোপের মুখে পড়ে যায় পুলিশের দুই সদস্য। এক পর্যায়ে গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১১ দিকে সুফলের কাছ থেকে নেয়া ঘুষের ৭০ হাজার টাকা হতে ৪০ হাজার টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হন পুলিশের ওই দুই কনেস্টবল। আরও ১০ হাজার টাকা গত শনিবার রাতে ফেরত দেয়ার কথা ছিল বলে জানিয়েছেন সুফলের কাকা প্রকাশ মন্ডল।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফাঁড়িতে কর্মরত অধিকাংশ পুলিশ সদস্য ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তারা বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানতে চাইলে তারা প্রত্যক্ষ স্বাক্ষ্য দিবেন। এবিষয়ে মাদারতলা ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই নাজির হেসেন বলেন ঘটনার দিন আমার কোন কিছু জানা ছিল না। তিনি পরে বিষয়টি শুনেছন এবং থানার তদন্ত ওসিকে অবগত করেছেন। খবর পেয়ে থানা অফিসার ইনচার্জ (ভারপ্রাপ্ত) ওসি তদন্ত আছের আলি শনিবার রাতে ক্যাম্প পরিদর্শনে যান এবং ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন অপরাধ তো অপরাধী। এবিষয়ে খুলনা জেলা পুলিশ সুপার তাজুল ইসলাম জানান,এ ঘটনায় অভিযুক্ত দুই পুলিশ সদস্যকে সাময়িক ভাবে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।