বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

অসহনীয় লোডশেডিং: ক্ষোভে বিদ্যুৎ অফিস উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি, যুবক আটক

পাইকগাছা খুলনা: প্রতিনিধি।।

তীব্র দাবদাহ আর পল্লী বিদ্যুতের লাগামহীন লোডশেডিংয়ে জনজীবন যখন ওষ্ঠাগত, ঠিক তখনই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে বিপাকে পড়েছেন দেবজ্যোতি চক্রবর্তী নামে এক যুবক। খুলনার পাইকগাছায় পল্লী বিদ্যুৎ অফিস বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে পুলিশের হাতে আটক হন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত মুচলেকা দিয়ে মুক্তি মিলেছে তার।

​​বর্তমানে পাইকগাছায় বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিং চলছে। প্রচণ্ড গরমে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি চলমান এসএসসি পরীক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার বিকেলে বিদ্যুতের এমন আসা-যাওয়ায় ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন দেবজ্যোতি। বিকেল ৩টার দিকে তিনি সরাসরি পাইকগাছা জোনাল অফিসের ডিজিএম রঞ্জন কুমার সরকারকে ফোন করেন। ফোনে তিনি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে গালিগালাজ করেন এবং একপর্যায়ে অফিসটি বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন।

​​হুমকির বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে থানা পুলিশকে জানানো হলে মাঠে নামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রাত ৯টার দিকে পৌর বাজার এলাকা থেকে অভিযুক্ত দেবজ্যোতিকে আটক করা হয়। তবে বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী সময়ে নমনীয় অবস্থান নেয় কর্তৃপক্ষ। নিজের ভুল স্বীকার এবং ভবিষ্যতে এমন আচরণ না করার শর্তে লিখিত মুচলেকা দিলে রোববার (২৬ এপ্রিল) সকালে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

​লোডশেডিংয়ের ভয়াবহতা নিয়ে পাইকগাছা জোনাল অফিসের ডিজিএম রঞ্জন কুমার সরকার এক হতাশাজনক চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান চাহিদা ২৪ ঘণ্টায় ১৮ মেগাওয়াট।​বরাদ্দ: মাত্র ৩ মেগাওয়াট।প্রতি ৬ ঘণ্টা অন্তর মাত্র ১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে।

​তিনি বলেন, “চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি অত্যন্ত কম হওয়ায় লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণ করা আমাদের সাধ্যের বাইরে চলে গেছে।” হুমকির ঘটনায় পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের পক্ষ থেকে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।

​​পাইকগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম কিবরিয়া জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে দেবজ্যোতিকে আটক করা হয়েছিল। তবে সে তার অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছে এবং পরিবারের জিম্মায় লিখিত মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পেয়েছে।

​তীব্র গরমে মানুষের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেলেও সরকারি দপ্তরে হুমকির মতো ঘটনা আইনত দণ্ডনীয়। তবে বিষয়টিকে মানবিক দৃষ্টিতে দেখে সমাধান করা হয়েছে। তবুও প্রশ্ন থেকে যায়—বিদ্যুতের এই চরম সংকট কবে কাটবে?

থেকে আরও পড়ুন