মোঃ ওসমান গনি ইলি:
কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল ইউনিয়নে স্থানীয় সেবাখাতে নাগরিক পরিবীক্ষণের প্রাপ্ত তথ্য নিয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। “Voices for Change Project” এর আওতায় খুরুশকুলের সুখের ঠিকানা মহিলা সমবায় সমিতির প্রাঙ্গণে এ সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে আবদুল মোমেন খান মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন (খান ফাউন্ডেশন), বাস্তবায়নে সহযোগিতা করে পালস বাংলাদেশ এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান করে সুইস ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কো-অপারেশন (এসডিসি), গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এছাড়া নাগরিকতা-জিএফএ-এর কারিগরি সহায়তায় অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন নাগরিক ফোরাম, খুরুশকুলের সভাপতি রুবি রুদ্র। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. টিটু চন্দ্র শীল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. জুলফিকার আলী, সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল আউয়াল, কক্সবাজার জজ কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাকী এ কাউছার, কক্সবাজার সদর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. মাহবুবুর রহমান, খুরুশকুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নাছির উদ্দিন এবং সাবেক চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহিম মাস্টারসহ স্থানীয় সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, সুশীল সমাজ ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা বলেন, নাগরিক পরিবীক্ষণ একটি জনভিত্তিক প্রক্রিয়া, যা কমিউনিটি স্কোর কার্ডের মাধ্যমে সরকারি সেবার মান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন ও ক্ষমতায়িত হয় এবং সেবাখাতে বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের পথ সুগম হয়।
উন্মুক্ত আলোচনায় সেবা গ্রহণকারীরা স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে ইউনিয়নভিত্তিক মিনি অ্যাম্বুলেন্স চালু, কমিউনিটি ক্লিনিকে প্রসব সেবা নিশ্চিত করা, সপ্তাহে অন্তত একদিন এমবিবিএস চিকিৎসকের উপস্থিতি, এএনসি ও পিএনসি সেবা জোরদার, পরামর্শ বাক্স স্থাপন, সরকারি সময়সূচি অনুযায়ী দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ সরবরাহ ও সেবার প্রচারণা বৃদ্ধি করা।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে জানান, খুব শিগগিরই খুরুশকুলে ২০ শয্যাবিশিষ্ট একটি নতুন হাসপাতাল স্থাপন করা হবে। এটি চালু হলে স্বাস্থ্যসেবার বর্তমান সংকট অনেকটাই দূর হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি তিনি সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা ও সীমাবদ্ধতার বিষয়েও আলোকপাত করেন এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে আলোচনা করে উত্থাপিত সমস্যাগুলোর সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন।
সভাপতির বক্তব্যে রুবি রুদ্র বলেন, নাগরিক পরিবীক্ষণের মূল লক্ষ্য হলো জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা, তথ্যগত ঘাটতি দূর করা এবং সরকারি সেবাখাতকে আরও কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক করে তোলা। এতে সেবার মান উন্নয়ন ঘটবে এবং জনগণ তার সুফল ভোগ করতে পারবে।
সভায় খান ফাউন্ডেশনের জেলা প্রকল্প কর্মকর্তা, ফাইন্যান্স ও অ্যাডমিন কর্মকর্তা এবং অন্যান্য প্রকল্প কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।