খান আরিফুজ্জামান(নয়ন),ডুমুরিয়া(খুলনা),প্রতিনিধিঃ
খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলায় ক্লাস্টার পদ্ধতিতে পরিচালিত চিংড়ি চাষ কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।
রবিবার(২৮ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৯ টায় পরিদর্শনকালে তিনি বড়ডাঙ্গা চিংড়ি চাষী ক্লাস্টারে চিংড়ির হারভেস্টিং কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন এবং স্থানীয় চাষীদের সঙ্গে এক সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। এ সময় মৎস্য বিভাগের কার্যক্রমে অত্যন্ত সন্তোষ প্রকাশ করেন। এ সময় চাষীদের উৎপাদন, সমস্যা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন উপদেষ্টা মহোদয়। তিনি টেকসই ও নিরাপদ চিংড়ি উৎপাদনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং নারীদের অংশগ্রহণকে উৎসাহব্যঞ্জক বলে উল্লেখ করেন। পরিদর্শনকালে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগের পরিচালক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ড. আবু নঈম মুহাম্মদ আবদুছ ছবুর, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা (খুলনা) মোঃ বদরুজ্জামান, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা (বাগেরহাট) রাজকুমার বিশ্বাস, সিনিয়র সহকারী পরিচালক (খুলনা বিভাগ) এইস এম বদরুজ্জামান এবং ডুমুরিয়া উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবিতা সরকার।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা ও সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে উপদেষ্টা মহোদয়কে অবহিত করেন ডুমুরিয়া উপজেলার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সোহেল মোঃ জিল্লুর রহমান রিগান। তিনি জানান, সনাতন পদ্ধতির এসব ঘেরে যেখানে শতকপ্রতি চিংড়ির উৎপাদন ছিল মাত্র ১.৫ থেকে ২ কেজি, সেখানে উন্নত সনাতন পদ্ধতিতে বর্তমানে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৬ থেকে ৮ কেজিতে উন্নীত হয়েছে। মৎস্য অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ, পরামর্শ, তদারকি এবং সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ প্রকল্পের আওতায় ঘেরের গভীরতা বৃদ্ধি, পাড় প্রশস্তকরণ, জৈব নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, উন্নতমানের পিএল, গুণগত খাদ্য এবং প্রিবায়োটিক ও প্রবায়োটিক ব্যবহারের ফলেই এ সাফল্য এসেছে। চিংড়ি চাষী মিতালি মন্ডল বলেন, উপজেলা মৎস্য অফিস ও কোস্টাল প্রকল্পের সহায়তায় তাদের উৎপাদন বেড়েছে এবং পরিবারের আয়ে নারীরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারছেন। অপর চাষী শুভেন্দু বিশ্বাস জানান, পানি ব্যবস্থাপনা, জৈব নিরাপত্তা, ভালো মানের পিএল ও খাদ্য ব্যবহারে গুরুত্ব দেওয়ায় তারা কাঙ্ক্ষিত ফল পাচ্ছেন। বিষয়গুলো তারা মৎস্য বিভাগের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জেনেছেন। যেকোনো সমস্যায় উপজেলা মৎস্য অফিসকে অবহিত করলে অফিস থেকে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হয়। আমাদের সুবিধা অসুবিধায় স্যারদের আমাদের পাশে পাই। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ সবিতা সরকার বলেন, ডুমুরিয়ায় জলাবদ্ধতা একটি বড় সমস্যা হলেও তা নিরসনে প্রশাসন কাজ করছে । জলাবদ্ধতায় মৎস্য চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, “নারীরা মাছ ও চিংড়ি চাষে যুক্ত হয়ে নিজেদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতি করছে—এটি অত্যন্ত ইতিবাচক। নিরাপদ ও টেকসই মাছ উৎপাদনে সরকার সর্বদা চাষীদের পাশে রয়েছে।”
এ সময় ক্লাস্টারভুক্ত প্রায় ৪০-৫০ জন চিংড়ি চাষীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।