তোমার বুকে গঙ্গা-পদ্মা-মেঘনার অশান্ত রক্তধারা,
যেখানে প্রতি ফোঁটা জলে লেগে আছে একাত্তরের আগুনের ছাই।
তোমার মাটি লাল হয়েছে, শহীদের রক্তে রঞ্জিত,
যে রক্ত শুকিয়ে গেছে কিন্তু কখনো মিলিয়ে যায়নি।
তোমার আকাশে ঝড়ের কালো মেঘ জমে,
বজ্রের গর্জনে ফেটে পড়ে অত্যাচারের প্রতিধ্বনি।
তোমার বনে-জঙ্গলে লুকিয়ে আছে গেরিলার ছায়া,
যারা মৃত্যুকে হেসে বলেছে আয়, দেখা করি।
তুমি দাসত্বের শৃঙ্খল ভেঙেছ অস্ত্রের ঝনঝনানিতে,
নয় মাসের গর্ভে ধরেছ স্বাধীনতার দুরন্ত শিশু।
তোমার বুক চিরে বেরিয়েছে লাখো কণ্ঠের গর্জন
“বাংলাদেশ” যা আজও কাঁপায় শত্রুর হৃদয়।
তোমার নদীতে ভাসে মায়ের কান্না, বিধবার আর্তনাদ,
কিন্তু সেই কান্নায় মিশে আছে অপরাজেয় প্রতিজ্ঞা।
তোমার মাটির নিচে ঘুমিয়ে আছে বীরের হাড়,
যারা বলে যায় আমরা মরিনি, আমরা বেঁচে আছি তোমার রক্তে।
হে মাতৃভূমি, তুমি কোমল নও, তুমি কঠিন ইস্পাত,
তোমার প্রতি শ্বাসে জ্বলে অগ্নি, প্রতি পদক্ষেপে বিপ্লব।
যতদিন তোমার সূর্য উঠবে লাল আলোয়,
ততদিন আমরা লড়ব অবিচল, অকুতোভয়।
জয় হোক তোমার, হে বাংলাদেশ
অজেয়, অমর, অগ্নিময়।