
খান আরিফুজ্জামান(নয়ন),ডুমুরিয়া(খুলনা),প্রতিনিধিঃ
খুলনার ডুমুরিয়ায় লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত কয়েক দিনে বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সর্বোচ্চ লোডশেডিং দেখা দেয়। ডুমুরিয়ার বিভিন্ন এলাকায় দিনের বিভিন্ন সময় চার থেকে পাঁচবার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়। প্রতিবার কোথাও একঘণ্টা আবার কোথাও ২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে।
জানা যায়, টানা লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে জন জীবন। বিশেষ করে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশুনা হুমকির মুখে পড়েছে। ছোট ছোট শিশুরা বিদ্যুৎ সংকটে কষ্ট পাচ্ছে দিনের বেলায় গরমে। উৎপাদনমুখী ছোট খাট মেশিনারিজ কারখানাগুলোতে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা।
এ অঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড জানিয়েছে, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় লোডশেডিং হচ্ছে।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কিছু বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে যান্ত্রিক ত্রুটি এবং জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদন কমেছে, ফলে কমেছে সরবরাহও।
ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লি. (ওজোপাডিকো) সূত্রে জানা গেছে, খুলনা ও বাগেরহাট অঞ্চল নিয়ে গঠিত সার্কেল ওয়ান এলাকায় বুধবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বিদ্যুতের চাহিদা ছিলো ২৬৪ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ হয়েছে ২৩০ মেগাওয়াট, লোডশেডিং ছিলো ৩২ মেগাওয়াটের মতো।
বিদ্যুৎ সরবরাহ কম হওয়ায় ডুমুরিয়ার সদর,খর্ণিয়া এলাকা,গুটুদিয়া,চুকনগর,মাগুরখালী,শরাফপুর,আঠারোমাইল, বরাতিয়া,শোভনা ও উত্তর ডুমুরিয়া এলাকায় লোডশেডিংয়ের খবর পাওয়া গেছে সবথেকে বেশি। প্রতিটি এলাকায় দিনের বেলায় তিন থেকে চারবার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিলো। আর প্রতিবার বিদ্যুৎ বন্ধ থাকছে এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে।
লোডশিডিং এ অতিষ্ট হয়ে ডুমুরিয়া সদর এলাকার বাসিন্দা গৃহিণী ইয়াসমিন বেগম বলেন,‘সকাল থেকে এখন পর্যন্ত চারবার বিদ্যুৎ চলে গেছে। বিদ্যুৎ না থাকায় মটরের সাহায্যে পানিও ওঠানো সম্ভব হচ্ছে না। দুপুরে অসহনীয় গরমে বাইরে বের হয়ে আসতে হয়েছে।’
খর্ণিয়া এলাকার আতিয়ার রহমান বলেন, ‘বাচ্চারা দুপুর ১টায় বাড়ি ফিরে বিদ্যুৎ পায়নি। তীব্র গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন তারা। শুধু আজ নয়, গত তিনদিন ধরে এমন লোডশেডিং চলছে। দিনের বেলায় বিদ্যুৎ না থাকলে সহ্য করা যায়, কিন্তু রাতের বেলায়ও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে অসহ্য লাগে।
ডুমুরিয়া সদর এলাকার মতিয়ার ওয়ার্কশপের মালিক মোঃ মতিয়ার রহমান বলেন, ‘গত দুই-তিন দিন ধরে বারবার লোডশেডিং হচ্ছে। এতে আমাদের উৎপাদন কমে এসেছে প্রায় অর্ধেকে। সঠিক সময়ে উৎপাদন করতে না পারায় পণ্য সরবরাহও করতে পারছি না। আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছি আমরা।
পাওয়ার গ্রিড লিমিটেডের ওয়েব সাইট ভিজিট করে দেখা গেছে, এ অঞ্চলের সব থেকে বড় বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি ইউনিট চালু থাকলেও বন্ধ রয়েছে অপরটি। কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, খারাপ আবহাওয়ার কারণে ইন্দোনেশিয়া থেকে জ্বালানি সরবরাহ না হওয়ায় একটি ইউনিট বন্ধ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে নিয়মিত উৎপাদনে থাকা আরও কয়েকটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।
মাত্রাতিরিক্ত লোডশেডিং এ ক্ষুব্ধ হয়ে ডুমুরিয়া এলাকার বাসিন্দা ডাক্তার জাকির শেখ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানান, পল্লী বিদ্যুতের অনিয়ম নিয়ে ডুমুরিয়া এলাকার মানুষ ফুষে উঠছে যেকোনো সময় বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও হতে পারে। ডিজিএমকে জানিয়ে দিয়েন।
ডুমুরিয়া সদরের বাসিন্দা সচেতন নাগরিক গৃহিনী মুক্তা আফরোজ বলেন,আসলেই আর পারছি না এই লোডশেডিং লোডশেডিং খেলা দেখতে।
একজন পুলিশ কর্মকর্তা প্রসেনজিৎ বিশ্বাস তপু বলেন, আমার বাসায় আইপিএস নাই,বাচ্চাটা কারেন্ট না থাকলে কষ্ট পায়।
এতো লোডশেডিং এ ডুমুরিয়াবাসী অতিষ্ট,সংক্ষুব্ধ,অচিরেই এর সমাধান না হলে ডুমুরিয়াবাসী কঠোর অবস্থান কর্মসূচী গ্রহণ করবে এমনটি নিশ্চিত করেছে ডুমুরিয়া এলাকার বাসিন্দারা।
ডুমুরিয়া পল্লি বিদ্যুৎ এর ডিজিএম সনঞ্জয় রায়ের নিকট গত কয়েকদিনের সীমাহীন লোডশেডিং এর কারণ জানতে চাইলে তিনি গণমাধ্যমকে জানান ডুমুরিয়ায় বিদ্যুৎ চাহিদা ১৩ মেগাওয়াট, সরবরাহ ০৬ মেগাওয়াট। তিনি আরোও বলেন খুলনায় পিজিসিবি অফিসে যেয়ে ওদের ব্যর্থতা সম্পর্কে নিউজ করেন।চাহিদা ১৩ মেগাওয়াট, সরবরাহ ০৬ মেগাওয়াট। জাতীয় পত্রিকায় লেখালেখি করে দেখেন,লোড বাড়াতে পারেন কিনা?
ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আরিফুর রহমান বলেন, ‘জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ সরবরাহ হওয়ায় গত দুই-তিন দিন ধরে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। আমরা আসলে যেমন বিদ্যুৎ পাবো, সেভাবেই সরবরাহ করতে পারবো। আশা করছি দু-একদিনের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে আসবে।’
