
কয়রা (খুলনা)প্রতিনিধি
দক্ষিণ উপকূলীয় খুলনার কয়রা উপজেলার স্বাস্থ্যসেবা সংকট নিরসনের দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা মানববন্ধন করেছেন। বাংলাদেশ মানবাধিকার ব্যুরো কয়রা উপজেলা শাখার আয়োজনে বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার চরম দুরবস্থার প্রতিবাদে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, শিক্ষক, সমাজকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকট, অবকাঠামোগত সমস্যা ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার অভাবে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। হাসপাতালের ৫০ শয্যার অনুমোদন থাকলেও কার্যক্রম সীমিত রয়েছে মাত্র ১৯ শয্যার পরিত্যক্ত ভবনে। দীর্ঘ তিন বছর ধরে সিজারিয়ানসহ সব ধরনের অপারেশন বন্ধ রয়েছে। প্যাথলজি, এক্স-রে বা আলট্রাসোনোগ্রাফির মতো মৌলিক সেবাও নেই। ফলে রোগীরা অতিরিক্ত খরচে খুলনা শহরে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
বক্তারা আরও বলেন, কয়রায় কোনো নারী চিকিৎসক নেই। গাইনী, মেডিসিন ও সার্জারি বিভাগে কোনো জুনিয়র কনসালটেন্ট নেই। মন্ত্রণালয় থেকে চিকিৎসক পদায়ন হলেও আবাসিক সুবিধার অভাবে তারা কর্মস্থলে অবস্থান করেন না। মাঝে মাঝে খুলনা থেকে এসে নামমাত্র সেবা দিয়ে চলে যান, অথচ পুরো মাসের বেতন নিয়ে যান। মাত্র কয়েকজন মেডিকেল অফিসার দিয়ে বিশাল জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা পরিচালনা সম্ভব নয়।
সেবা না থাকায় প্রসবকালীন জরুরি অবস্থায় রোগীকে খুলনা নিতে গিয়ে বহু নারী পথে ঝুঁকিতে পড়ছেন। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এক প্রসূতির ভাই রাসেল জানান, “যথাসময়ে সেবা পেলে হয়তো আমার বোন বেঁচে যেত। এভাবে আর কেউ যেন না মরে।
বক্তারা বলেন, কয়রা সদরে অবস্থিত একমাত্র উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে জনবল ও অবকাঠামোর অভাবে বন্ধ রয়েছে। ৩১ শয্যার একটি ভবন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে এবং ২০২২ সালে বরাদ্দ পাওয়া নতুন ভবনের কাজ বছরের পর বছর বন্ধ রয়েছে।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মানবাধিকার ব্যুরো কয়রা উপজেলা শাখার সভাপতি সাংবাদিক তরিকুল ইসলাম। তিনি কয়রার স্বাস্থ্যখাত উন্নয়নের জন্য সাত দফা দাবি উপস্থাপন করেন। মানববন্ধন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর স্মারকলিপি পেশ করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন কয়রা সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এইচএম শাহাবুদ্দিন, কয়রা প্রেসক্লাবের সভাপতি মাস্টার সদউদ্দিন আহমেদ, মানবাধিকার ব্যুরোর নির্বাহী সদস্য প্রভাষক নুরুজ্জামান, উপকূল ও সুন্দরবন সংরক্ষণ আন্দোলনের আহ্বায়ক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেনসহ অনেকে।
উপস্থিত ছিলেন কয়রা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন, সুন্দরবন চ্যারিটির চেয়ারম্যান আবুল হাসান, বিলিভারস এইডের পরিচালক মেজবাহ উদ্দিন, সাংবাদিক নজরুল ইসলাম, সাইদুল ইসলাম, ফরহাদ হোসেন, গণধিকার পরিষদের কয়রা উপজেলা সভাপতি ইয়াসিন, কয়রা ব্লাড ব্যাংকের সাধারণ সম্পাদক আলিম, আকিবুর রহমানসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কয়রা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও প্রথম আলোর কয়রা প্রতিনিধি মো. ইমতিয়াজ উদ্দিন এবং সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান।
