
পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি:
বরগুনার পাথরঘাটায় পারিবারিক বিরোধের জেরে ছোট ছেলের প্ররোচনায় আপন বড় ছেলের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে এক মায়ের বিরুদ্ধে।
এছাড়া, আপন জামাইসহ একাধিক ব্যক্তিকে মিথ্যা মামলায় হয়রানির অভিযোগও রয়েছে ওই মায়ের বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার কাঁঠালতলী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের কালিবাড়ী এলাকায়।
সরেজমিনে জানা যায়, কাঁঠালতলী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের মৃত আব্দুল খালেকের স্ত্রী শাহাবানুর দুই ছেলে—বড় মাহাবুব ও ছোট মিলন—এবং এক মেয়ে মায়া বেগম রয়েছে।
এলাকাবাসীর তথ্যমতে, ছোট ছেলে মিলনকে বিদেশে পাঠানোর জন্য শাহাবানু সম্পত্তি বিক্রি করেন। কিন্তু বিদেশে পাঠানো সেই ছেলেই এখন বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে চক্রান্তের মূল হোতা বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ছোট ছেলে মিলন ও তার স্ত্রীর প্ররোচনায় মা শাহাবানু গত ২৪ জুলাই ২০২৫ ইং (সি.আর. মামলা নং ৩৬২) পাথরঘাটা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বড় ছেলে মাহাবুবের নামে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল মাহাবুবকে বাড়িছাড়া করে সম্পত্তি দখল করা।
এ বিষয়ে মাহাবুবের চাচা গোলাম কবির ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মাহাবুব অত্যন্ত ভালো ও নিরীহ প্রকৃতির ছেলে। কিন্তু তার মা খুবই বাজে স্বভাবের মহিলা। ছোট ছেলে মিলনের টাকা-পয়সার লোভে ও তার স্ত্রীর প্ররোচনায় নিজের বড় ছেলের জীবন নষ্ট করে দিচ্ছে। আমরা এই মিথ্যা মামলার তীব্র নিন্দা জানাই এবং অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাই।”
এলাকার একাধিক প্রতিবেশী জানান, মাহাবুব আর্থিকভাবে অসচ্ছল এবং নদীতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তার পক্ষে এই মামলা মোকাবিলা করা কঠিন। মিলন ও তার স্ত্রী পরিকল্পিতভাবে তাকে বাড়িছাড়া করার জন্যই এই ষড়যন্ত্র করেছেন।
এ বিষয়ে কাঁঠালতলী ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মো. ইউনুছ খান বলেন, “মাহাবুব ও মিলনের মধ্যে বিরোধ চলছিল। বিষয়টি নিয়ে আগে শালিস বৈঠকের মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছিল। মাহাবুব অত্যন্ত ভালো মানুষ, কিন্তু ছোট ভাই মিলন খামখেয়ালি করে মা’কে দিয়ে বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। এর তীব্র নিন্দা জানাই।”
ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী এই হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা থেকে মাহাবুবকে অব্যাহতি দিতে এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিযুক্ত মিলন ও তার মা শাহাবানুর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলে তারা ঘরে তালা দিয়ে চলে যান। পরে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টাও ব্যর্থ হয়।
